সাক্ষাৎকারে ক্রিস ওকস

‘পুরো দুনিয়াই এখন আমাদের খেলাটা খেলছে’

ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছেন ক্রিস ওকস। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেওয়া এই অলরাউন্ডার এবার বিপিএলে সিলেট টাইটানসের হয়ে খেলতে এসেছেন। কাল টিম হোটেলে তিনি শুনিয়েছেন বিশ্বকাপ জয়ের অনুভূতি, সেই অবিশ্বাস্য ফাইনাল আর এক হাতে ব্যাট করতে নেমে যাওয়ার গল্প—

প্রশ্ন:

আপনার সঙ্গে কথা বললে একটা বিষয় আসবেই—ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, এমন সৌভাগ্য সবার হয় না!

ক্রিস ওকস: অনুভূতিটা আসলেই দুর্দান্ত। বিশ্বকাপ তো আর রোজ রোজ জেতা যায় না। ২০১৯ বিশ্বকাপ জেতাটাই অসাধারণ একটা ঘটনা ছিল। পরে আমরা ২০২২ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতলাম—ওটা একটু চমকই ছিল। কারণ, টুর্নামেন্টে তেমন প্রত্যাশা নিয়ে যাইনি আমরা। তবে এখন যখন ভাবি, দুটি বিশ্বকাপ জিতেছি, ভালোই লাগে।

প্রশ্ন:

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতাটা চমক। কিন্তু ওয়ানডে বিশ্বকাপে লম্বা একটা প্রস্তুতি ছিল...

ওকস: হ্যাঁ, ২০১৫ বিশ্বকাপ খুব বাজে গিয়েছিল। এরপর কিছু বদলাতে হতোই। আমরা খেলাটা নিয়ে যেভাবে ভাবতাম বা খেলতাম, পুরো জিনিসটাই বদলে দিয়েছিল ট্রেভর বেলিস ও এউইন মরগান। আমরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে শুরু করলাম। ৩০০–৩৫০, এমনকি ৪০০ রানও তুলতে থাকলাম। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও সব সময় শুধু উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করতাম। ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে পুরো মানসিকতাই বদলে ফেলেছিলাম। পুরো দুনিয়াই এখন আমাদের খেলাটা খেলছে।

প্রশ্ন:

আক্রমণাত্মক খেলব—এটা বলা যত সহজ, করাটা নিশ্চয়ই তেমন নয়?

ওকস: এটাই আসলে আমাদের দলটাকে বিশেষ করে তুলেছিল—৫০ ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছি। কখনো কখনো এমন মুহূর্তও এসেছে, যখন আমরা চাপটা সহ্য করেছি, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার প্রতিপক্ষকে ফিরিয়ে দিয়েছি। অবশ্যই আমরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি, কিন্তু একই সঙ্গে আমরা স্মার্টও ছিলাম। কোন বোলারকে মারব, তা ঠিক করতে হতো। এমন নয় যে গিয়ে শুধু মারা শুরু করেছি। আমাদের স্বচ্ছ ধারণা ছিল, কী করতে চাচ্ছি।

প্রশ্ন:

২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে কি একটু বলবেন?

ওকস: মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা বোধ হয় কখনোই শেষ হবে না। স্নায়ুচাপও ছিল অনেক। আমরা পুরো ১০০ ওভার ক্রিকেট খেলে ফেলেছিলাম। কিন্তু সবকিছুই নেমে এসেছিল শুধুই সুপার ওভারে। এখন ওই সময়ে মাঠে থাকার কথা যখন ভাবি, মনে হয় পুরো মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন যতটা মনোযোগ ছিল, ক্রিকেট মাঠে কখনো এতটা মনোযোগ দিইনি। শুধু মনে হচ্ছিল, ৬টা বল বাকি আছে। বল আমার কাছে আসুক বা না আসুক, সুইচ অন থাকতে হবে। কারণ, একটা মুহূর্তই পুরো খেলাটাকে বদলে দিতে পারে।

ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন ওকস
এএফপি
প্রশ্ন:

যখন জশ বাটলার স্টাম্পটা ভাঙলেন, সঙ্গে সঙ্গেই কি মনে হয়েছিল যে আমি এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?

ওকস: সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। স্বস্তিও ছিল। ম্যাচ শুরুর আগেও আমরাই ফেবারিট ছিলাম। ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দেওয়ার পর তো আরও। সবাই ভাবছিল, ইংল্যান্ড তো নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেবেই। কিন্তু ওরা দুর্দান্ত দল ছিল, হারানো খুব কঠিন ছিল। আমরা জানতাম, কাজটা করা সহজ হবে না। যখন বাটলারের স্টাম্প ভেঙে দেওয়ার শব্দটা পেলাম, বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, আবেগ আর স্বস্তিতে ভেসে গিয়েছিলাম।

প্রশ্ন:

নিউজিল্যান্ডের কারও সঙ্গে কি পরে ম্যাচটা নিয়ে কথা হয়েছে?

ওকস: গত বছর এসএ টি–টুয়েন্টিতে ডারবান সুপার জায়ান্টসের হয়ে খেলছিলাম। ওখানে কেইন উইলিয়ামসন আমার সতীর্থ ছিল। তার সঙ্গে এটা নিয়ে কথা হলো, এখনো কষ্টটা আছে ওদের। কিন্তু ভালোই মজা করেছি।

প্রশ্ন:

এবার একটু টেস্ট ক্রিকেটে আসি। ৬৬টা ম্যাচ খেলেছেন। আরেকটু খেলতে পারতেন, এটা কি মনে হয়?

ওকস: আরেকটু বেশি খেলতে পারলে তো মন্দ হতো না। কিন্তু একই সঙ্গে, যখন খেলা শুরু করি, কেউ যদি বলত যে আমি ৬০টার বেশি টেস্ট খেলব, বিশ্বাস করতাম না। কঠোর পরিশ্রম করেছি।

ভারতের বিপক্ষে বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ কাঁধে গুরুতর চোট পান ক্রিস ওকস। সেটিই তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হয়ে থেকেছে ক্যারিয়ারে।
এএফপি
প্রশ্ন:

আপনার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ছবিটা একটু অদ্ভুত। এক হাতে প্লাস্টার আর আরেক হাতে ব্যাট নিয়ে মাঠ ছাড়ছেন। সেটিই শেষ ম্যাচ হয়ে গেছে!

ওকস: কিছুটা অদ্ভুত তো বটেই। আমি যে সেই মুহূর্তটা নিয়ে গর্বিত, তা নয়। এভাবে শেষ হলো দেখে কিছুটা দুঃখের অনুভূতি আছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটা নিয়ে গর্ব হয়, এভাবে আমি ব্যাট করতে মাঠে নেমে গেলাম। নিজের দল, সতীর্থ ও দেশের জন্য সবকিছু দিয়েছি। আমি এ জন্যই ক্রিকেটটা খেলতে চেয়েছি সব সময়।

প্রশ্ন:

আবার একই পরিস্থিতি এলে কী করবেন?

ওকস: একই কাজ করব। দলের জন্য যা কিছু সম্ভব, সবকিছু করতে চেয়েছি সব সময়।

প্রশ্ন:

ওয়ানডের মতো ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটের বদলে যাওয়ারও তো সাক্ষী আপনি।

ওকস: ওই সময়টাতে আমরা টেস্টে ভালো খেলছিলাম না। কিছু একটা বদলাতে হতো। নেতৃত্ব বদলাল, স্টোকস দায়িত্ব নিল। সে চাইছিল আক্রমণাত্মক না হোক, নিজেদের খেলায় আরেকটু নিয়ন্ত্রণ রেখে প্রতিপক্ষকে সব সময় চাপে রাখতে। আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছি। ম্যাককালাম ও স্টোকসের অধীনে খেলাটা আমি উপভোগ করেছি।

প্রশ্ন:

যে কারণে এত বদল। সেই ইংল্যান্ড তো এখনো ভালো খেলছে না…

ওকস: অনেক কিছুই নতুন করে ভাবতে হবে। কিন্তু একই সঙ্গে, পুরো স্ক্রিপ্টটা বদলে আবার নতুন করে শুরু করলে চলবে না। কারণ, আমরা অনেক কিছু ভালোও করেছি গত তিন বছরে। সামান্য কিছু পরিবর্তন দরকার, কিন্তু মৌলিক পরিবর্তন করার কারণ নেই।

আরও পড়ুন