সাক্ষাৎকারে সাইম আইয়ু্ব

‘তারকা হলাম কি না, এসবে আমার মনোযোগ নেই’

ব্যাটসম্যান হিসেবেই তাঁর আগমন। প্রথম ১৫টি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে বলই হাতে নেননি। সেই সাইম আইয়ু্ব হঠাৎই বল হাতে আলো ছড়াতে শুরু করলেন। অলরাউন্ডারদের আইসিসি টি–টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর জায়গাটাও এখন তাঁর। সিলেট টাইটানসের হয়ে বিপিএল খেলতে আসা এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার অবশ্য কাল প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, ব্যাটিংটাই এখনো বেশি উপভোগ করেন।

প্রথম আলো:

এ নিয়ে তৃতীয়বার বিপিএল খেলতে এলেন। বিগ ব্যাশ, সিপিএলেও খেলেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করে?

সাইম আইয়ুব: বিপিএলের অভিজ্ঞতাটাই আগে বলি—এখানকার পরিবেশ আমার দুর্দান্ত লাগে। একই হোটেলে অনেকের সঙ্গে থাকতে হয়, অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়। আপনি যখন ভিন্ন ভিন্ন দেশে আলাদা সতীর্থ আর কন্ডিশনে খেলবেন, এটা আপনাকে খেলোয়াড় হিসেবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করবে। তাৎক্ষণিক কোথাও গিয়ে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেললে এটা সহজেই বুঝতে পারবেন।

মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতেও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলাটা সাহায্য করে। পাকিস্তানের হয়ে খেলা শুরুর পর অবশ্য এই সুযোগ কমে গেছে। এখন বন্ধু বা পরিবারকে দেওয়ার মতো সময়ও তেমন পাই না। সব সময় ক্রিকেটেই মনোযোগ রাখতে হয়।

প্রথম আলো:

যাঁরা তিন সংস্করণেই খেলেন, তাঁদের জন্যই মনে হয় বেশি কঠিন…।

সাইম: সহজ নাকি কঠিন, তা আসলে নিজের ওপর নির্ভর করে। এটার জন্য দ্রুত শেখার ক্ষমতা দরকার হয়। কারণ, সংস্করণ বদলানোর বিষয়টা মাথায় ঢোকানোটা জরুরি। দ্রুত যদি সুইচ করে মানিয়ে নিতে না পারেন, তাহলে ভালো ফল পাওয়া কঠিন।

প্রথম আলো:

আপনার হঠাৎ বোলার হিসেবে আভির্ভাবটাও কি মানিয়ে নেওয়ার এই শক্তির কারণে সহজ হলো?

সাইম: কোনো কিছুই সহজে পাওয়া সম্ভব নয়। বোলিংয়ে আমি ধীরে ধীরে উন্নতি করেছি। হয়তো ক্যামেরার সামনে কিছু করিনি, কেউ দেখেননি, জানতেন না। কিন্তু আমি ২০১৮ থেকেই বোলিং নিয়ে কাজ করছি। কৃতিত্বটা পেশোয়ার জালমিকে দিতে হয়, তারা পিএসএলে আমার বোলিংয়ে আস্থা রেখেছিল। তখন থেকেই আন্তর্জাতিক ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বোলিং শুরু করি।

প্রথম আলো:

এখন কি তাহলে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংই বেশি উপভোগ করছেন?

সাইম: একদমই না। আমি একজন ব্যাটসম্যান। যদি আপনি অলরাউন্ডার বলতে চান, তাহলে ব্যাটিং অলরাউন্ডার বলতে হবে। এখনো ব্যাটিংটাই বেশি উপভোগ করি। তবে বোলিং করতেও ভালো লাগে।

শুরুর দিকে বল হাতে না নিলেও পাকিস্তান দলে সাইম এখন নিয়মিত বোলারদের একজন
এসিসি
প্রথম আলো:

ওপেনার হিসেবে পাওয়ারপ্লেতে ব্যাটিং করেন, আবার বোলিংয়েও পাওয়ারপ্লেতে আপনি কার্যকর। কোনটা বেশি কঠিন?

সাইম: দুইটাই আসলে আলাদা। ব্যাটসম্যান হলে বোলারদের চাপে রাখতে হয়, বোলার হলে ব্যাটসম্যানদের। দুটিই কঠিন (হাসি)।

প্রথম আলো:

দুটিই যে আপনি ভালো পারেন, তার একটা ছাপ র‍্যাঙ্কিংয়েও আছে। কখনো ভেবেছিলেন, টি–টোয়েন্টিতে ১ নম্বর অলরাউন্ডার হবেন?

সাইম: কখনোই ভাবিনি। তবে এমনিতেও র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে আমি মনোযোগ দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। এটা আমার হাতে নেই। আমার হাতে যেটা আছে, ব্যাটিং, বোলিং আর ফিল্ডিংটা ঠিকঠাকভাবে করা এবং মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন করা।

প্রথম আলো:

বড় মঞ্চে তো আপনার সেরাটা এখনো পাওয়া গেল না। সর্বশেষ এশিয়া কাপেই যেমন বোলিংয়ে ভালো করেছিলেন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে ৭ ম্যাচে মাত্র ৩৭ রান করেছিলেন…।

সাইম: আমি আসলে ব্যাটিংয়ে মোমেন্টাম হারিয়ে ফেলেছিলাম। কিছু টেকনিক্যাল ও টেকটিক্যাল বিষয় হচ্ছিল না, এ জন্যই ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমি অনেক কিছু শিখেছি। ব্যর্থ হয়ে শিখতে হবে, এটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু যখন আমি ব্যর্থ হই, এটা আমাকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করে। শুধু ক্রিকেটে নয়, দুনিয়াজুড়ে অ্যাথলেটদের যদি দেখেন, তাঁরা বলবেন, ব্যর্থ হয়ে যদি শিখতে পারো, তাহলে তোমার তারকা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছি, দেখা যাক। নিশ্চিতভাবেই মনে করি, আমার সেরা সময়টা এখনো বাকি।

প্রথম আলো:

আপনাকে পাকিস্তানের ভবিষ্যতের বড় তারকা ভাবা হয়, এটা কি চাপে ফেলে কখনো?

সাইম: আমি ক্রিকেটটাই উপভোগ করতে চাই। কোনো কিছুই আমি নিশ্চিত হিসেবে ধরে নিই না। কাজটা স্মার্টভাবে করতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আর নিজেকে প্রতি মাসে, সিরিজে, বছরে বা টুর্নামেন্টে আরেক ধাপ ওপরে নিয়ে যেতে হবে—কেবল এটা নিয়েই ভাবি। তারকা হলাম কি না, এসবে আমার মনোযোগ নেই।

বিপিএলে সিলেট টাইটানসে খেলছেন সাইম আইয়ুব
সিলেট টাইটানস
প্রথম আলো:

‘নো লুক ফ্লিক শটটাই’ তো আপনার ভক্ত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট…।

সাইম: আমি কেবল বলটার দিকে নজর রাখি, ব্যাটে লাগার পর বল কোথায় গেল, তাতে কিছু যায়–আসে না। এটা আসলে এমনিতেই হয়ে যায়। আমি কখনো ভাবি না যে মানুষ আমার কাভার ড্রাইভ, স্ট্রেইট ড্রাইভ, ফ্লিক নাকি ডিফেন্স পছন্দ করল। সবকিছুর জন্যই অনেক অনুশীলন করতে হয়, এ ছাড়া কিছু অর্জন করা যায় না।

প্রথম আলো:

আর এক মাস পরই তো বিশ্বকাপ। পাকিস্তানের সম্ভাবনা কেমন দেখেন?

সাইম: এশিয়ান কন্ডিশনে আপনি বলতে পারবেন না, কে ভালো করবে। ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশ্বকাপ দেখেন, অস্ট্রেলিয়া জিতেছে। ২০২২ সালে আবার অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পাকিস্তান ফাইনালে উঠেছে। যে–ই ভালো খেলবে, মোমেন্টাম যার দিকে থাকবে, প্রতিপক্ষকে কৌশলগতভাবে যে হারাতে পারবে, তারাই দাপট দেখাবে।

আরও পড়ুন