তবে তা ঘটা করে বলার মতো কিছু নয়। বোলিং–ব্যাটিং কোনোটাতেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আধিপত্যের কোনো রেশ ছিল না। বোলিং এলোমেলো হয়েছে, ফিল্ডিংও ভালো হয়নি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে জিম্বাবুইয়ানরা যেমন সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে, সেখানে রান তাড়ায় বাংলাদেশের ব্যাটিংকে বেশির ভাগ সময়ই মনে হয়েছে দিশাহীন। অসময়ে উইকেট হারানো চাপই বাড়িয়েছে শুধু। টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটাই হয় এলোমেলো। প্রথম চার বলের মধ্যেই তিনটি ওয়াইড দেন তাসকিন আহমেদ। অবশ্য পঞ্চম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে রেজিস চাকাভা ক্যাচ তোলেন, ষষ্ঠ ওভারে মোসাদ্দেক হোসেনের বলে বোল্ড হন ক্রেইগ আরভিন। ৪৩ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ যা একটু চাপ সৃষ্টি করেছিল, তা উড়িয়ে দিয়েছেন ওয়েসলি মাধেভেরে ও শন উইলিয়ামস।

default-image

১২তম ওভারে আক্রমণে ফেরা নাসুমের ওপর চড়াও হন শন উইলিয়ামস। ইনিংসের গতিপথও বদলে যায় তাতেই। পরের ওভারে মোস্তাফিজ এসে উইলিয়ামসকে ফেরালেও সিকান্দার রাজা ও মাধেভেরে এরপর উড়াল দেন রীতিমতো। তাদের সামনে খেই হারাতে সময় নেননি বাংলাদেশ বোলাররা, এলোমেলো লাইন–লেংথে রান উঠেছে দেদার। তিনজন পেসারের সঙ্গে একজন স্বীকৃত স্পিনার নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। তবে এদিন সেরা বোলিংটা করেছেন পঞ্চম বোলারের জায়গায় আসা মোসাদ্দেক হোসেন ও আফিফ হোসেন—দুজন মিলে ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। বাকিরা সবাই খরচ করেছেন ওভারপ্রতি সাড়ে ৯-এর বেশি!

৩৭ বলে অর্ধশতক পাওয়া মাধেভেরে শেষ পর্যন্ত চোট পেয়ে উঠে যান ৪৬ বলে ৬৭ রান করে। তবে রাজা অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ৬৫ রান করে। কমপক্ষে ৫০ রান করেছেন, এমন ইনিংসগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি (২৫০) স্ট্রাইক রেটের ইনিংস রাজার, ইনিংসে ৭টি চারের সঙ্গে ছিল ৪টি ছক্কা। জিম্বাবুয়ে শেষ ৬ ওভারে তোলে ৯১ রান! বাংলাদেশের এলোমেলো বোলিংয়ের সঙ্গে বাজে গ্রাউন্ড ফিল্ডিংও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

default-image

বড় রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই ৮ বলে ৪ রান করা মুনিম শাহরিয়ারকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ, ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে তুলে মারতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে ক্যাচ তোলেন মুনিম। তিনে আসা এনামুল হক চাপটা বাড়িয়ে দেওয়ার কাজটাই করেছেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে অবশ্য তাঁকে নিয়ে লিটন দাস যোগ করেন ৩৩ বলে ৫৮ রান। তবে ১৯ বলে ৩২ রান করা লিটন ফেরেন অসময়েই, সেটিও বেশ নাটকীয়ভাবেই। উইলিয়ামসের বলে র‍্যাম্প শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলেছিলেন। সেটি হাতে নিলেও রিচার্ড এনগারাভা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তবে সেদিকে খেয়ালই করেননি লিটন, যদিও জিম্বাবুইয়ানরা সতর্কই ছিলেন। এনগারাভার থ্রো যতক্ষণে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে গেছে, লিটন আদতে তখন হাঁটছিলেন ড্রেসিংরুমের দিকে। ক্যাচ না হলেও তিনি হন রানআউট।

তিনে আসা এনামুল ২ ছক্কায় ২৭ বলে করেন ২৬ রান। তবে ইনিংসের বেশির ভাগ সময়ই ২০৬ রানের লক্ষ্যের সাপেক্ষে বেশ খাপছাড়া ছিল তাঁর ব্যাটিং। পাঁচে আসা আফিফ হোসেনও চাপ সামাল দিতে পারেননি, ৮ বলে ১০ রান করে লুক জঙ্গুয়ের শর্ট বলে ক্যাচ তোলেন তিনি। এ দুজনের মাঝে আসা নাজমুল অবশ্য ২৫ বলে করেন ৩৭ রান। নুরুলের সঙ্গে তাঁর ২১ বলে ৪০ রানের জুটি আশা জাগিয়েছিল একটু। এরপর মোসাদ্দেকের সঙ্গে নুরুল যোগ করেন ২০ বলে ৩২ রান। কিন্তু তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল আরও বেশি ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের। ২ ওভারে যখন ৩২ রান দরকার, ১৯তম ওভারে এসে রিচার্ড এনগারাভা দেন মাত্র ৪ রান। শেষ ওভার হয়ে যায় তাই শুধুই আনুষ্ঠানিকতা। ২৮ রান দরকার ছিল সেই ওভারে। দ্বিতীয় বলে লেগ বাই থেকে ৪ রান আসে, তৃতীয় বলে নুরুল মারেন ছক্কা। জিততে হলে বাকি তিন বলেই ছক্কা লাগত। কিন্তু নুরুল ইসলাম ১ রানও নিতে পারেননি।

default-image

বাংলাদেশের ইনিংসে ১২টি চারের সঙ্গে ছিল ৭টি ছয়, মানে বাউন্ডারি থেকে এসেছে ৯০ রান। জিম্বাবুয়ে সেখানে বাউন্ডারি থেকেই তোলে ১২২ রান। এই ৩২ রানের পার্থক্যটাই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে উঠেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টিতে সর্বশেষ ৮ ম্যাচে এটি বাংলাদেশের মাত্র দ্বিতীয় পরাজয়। তবে কালকের আগে সর্বশেষ পরাজয়টি অবশ্য ঠিক এক ম্যাচ আগেই। গত বছর জুলাইয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে। জিম্বাবুয়ের সেই জয়ে সিরিজে সমতা এলেও পরের ম্যাচে জিতে সেবার সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এবার প্রথম ম্যাচেই হেরে বসার পর কাজটা আরও কঠিন হয়ে গেল। আগামীকাল রোববারের দ্বিতীয় ম্যাচটিই তো বাংলাদেশের জন্য সিরিজে টিকে থাকার লড়াই।

খেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন