বার্সার বিস্ময়বালক এসপার্ত, কোচ বললেন ‘ফিলিপ লাম’

২০১৫ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে বার্সার একাডেমি লা মাসিয়ায় যোগ দেন এসপার্তটুইটার

সেন্ট জেমস পার্কের গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগ, ঘড়ির কাঁটায় ৮৮ মিনিট। নিউক্যাসল ইউনাইটেড ১-০ গোলে এগিয়ে, বার্সেলোনা যেন খেই হারিয়ে ধুঁকছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ডাগআউট থেকে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে ডাক দিলেন কোচ হান্সি ফ্লিক। ক্লান্ত অধিনায়ক রোনাল্ড আরাউহো মাঠ ছাড়ছেন, আর তার বদলে অভিষেক হয় জাভি এসপার্তের। কেউ হয়তো ভাবেওনি এমন একটা মুহূর্তে এই তরুণের ওপরই ভরসা রাখবেন ফ্লিক।

মাঠে নেমেই এসপার্ত বুঝিয়ে দিলেন তিনি কেন বিশেষ। মাত্র ৯ মিনিটের উপস্থিতিতেই তিনি সেন্ট জেমস পার্কের দর্শকদের হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেন। পেনাল্টি বক্সের ভেতর জো উইলোকের পায়ে করা সেই নিখুঁত স্লাইড ট্যাকল কিংবা মাঝমাঠে বল কেড়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া কিছু ব্লক—সবই ছিল দেখার মতো। ৯৬ মিনিটে যখন লামিনে ইয়ামাল সমতাসূচক গোলটি করেন, তখন এসপার্তের মুখে ছিল বিজয়ের হাসি। মাঠ ছাড়ার সময় শৈশবের সতীর্থ পাউ কুবারসির উষ্ণ অভিনন্দন তাকে যেন মনে করিয়ে দিচ্ছিল তাদের দীর্ঘ পথচলার কথা।

স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল এসপার্তকে
ইনস্টাগ্রাম

এসপার্তের অভিষেকের কথা আগে থেকে কেউ জানত না, তাই তার পরিবারের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল না। কেবল এসপার্তের বোন ম্যানচেস্টারে পড়াশোনার সুবাদে গ্যালারিতে ছিলেন এবং নিজের ভাইয়ের এই অবিশ্বাস্য মুহূর্তটির সাক্ষী হলেন।

এসপার্তের এই উত্থান কিন্তু রাতারাতি হয়নি। ২০১৫ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে তিনি বার্সার একাডেমিতে যোগ দেন। লামিনে ইয়ামাল বা পাউ কুবারসির মতো ‘২০০৭ ব্যাচ’ -এর এই প্রতিভা অনেক দিন লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। শৈশবে তিনি এতটাই ছোটখাটো ছিলেন যে তাঁর শরীরে জার্সিটাও ঠিকমতো মানাত না। ইয়ামাল যখন সেরা প্রতিভাদের ‘এ’ দলে খেলতেন, এসপার্তকে লড়াই করতে হতো ‘ডি’ দলে। মিডফিল্ডার হিসেবে শুরু করলেও তিন বছর আগে অনূর্ধ্ব–১৬ দলের প্রয়োজনে রাইটব্যাক হিসেবে খেলতে নেমে তিনি নিজের ভাগ্য বদলে ফেলেন।

ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে সেভিয়ার বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এসপার্স
ইনস্টাগ্রাম

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ হান্সি ফ্লিকও এসপার্তের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি এই তরুণের মধ্যে খুঁজে পেয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি ফিলিপ লামের ছায়া, যিনি কিনা রক্ষণের পাশাপাশি মাঝমাঠেও সমান দক্ষ। ফ্লিক বলেন, ‘মাঠে বলের সঙ্গে তার আত্মবিশ্বাস দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। সে ফিলিপ লামের মতো; সে নাম্বার সিক্স বা রাইটব্যাক—যেকোনো পজিশনেই সমান দক্ষতায় খেলতে পারে। বল পায়ে থাকা বা না থাকা অবস্থায় তার পারফরম্যান্স দুর্দান্ত।’

নভেম্বরে স্পেনের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে গিয়ে হাঁটুর চোটে দুই মাস মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু দমে যাননি এসপার্ত। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে সেভিয়ার বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন, দলের ৫–২ ব্যবধানের জয়ে রেখেছেন বড় ভূমিকাও। লা মাসিয়ার এই প্রদীপ এখন ক্যাম্প ন্যু-তে আরও বড় নৈপুণ্য দেখানোর অপেক্ষায়।

লা মাসিয়ার শত শত ঝরে পড়া প্রতিভার ভিড়ে জাভি এসপার্ত এক অনুপ্রেরণার নাম, যিনি কিনা ধৈর্য আর একাগ্রতা দিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন ক্লাব ফুটবলের মঞ্চে।

আরও পড়ুন