প্রযুক্তির এই দিনে: ১৬ জুন
আইবিএম প্রতিষ্ঠিত হলো
১৯১১ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যান্ডিকটে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘কন্ট্রোল ট্যাবুলেটিং রেকর্ডিং কোম্পানি বা সিটিআর’। ১৯২৪ সালে এর নামকরণ হয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস (আইবিএম) করপোরেশন।
১৬ জুন ১৯১১
আইবিএমের প্রতিষ্ঠা
শিরোনামে যদি আইবিএমের বদলে সিটিআর থাকত, তবে কী পাঠক চিনতেন, এটা কী? বেশির ভাগেরই চেনার কথা নয়। তবে ১৯১১ সালের ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যান্ডিকটে যে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, সেটির নাম ছিল ‘কন্ট্রোল–ট্যাবুলেটিং–রেকর্ডিং কোম্পানি বা সিটিআর’। পরে ১৯২৪ সালে এর নামকরণ হয় ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস (আইবিএম) করপোরেশন। তখনই আইবিএম পাঞ্চ-কার্ডভিত্তিক ট্যাবুলেটিং সিস্টেমের প্রধান নির্মাতা হয়ে ওঠে। আইবিএম যেমন পরিচিত দুনিয়াজুড়ে, তেমনি এর ডাকনাম ‘বিগ ব্লু’ও যথেষ্ট পরিচিত।
বাণিজ্যের নির্দিষ্ট একটি খাতে ছোট ছোট কোম্পানি একীভূত হয়ে প্রভাবশালী কোম্পানি হয়ে উঠতে পারে—এটা বিশ্বাস করতেন মার্কিন বিনিয়োগকারী চার্লস ফ্লিন্ট। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের সেই সময়ে তখন তিনি ইন্টারন্যাশনাল টাইম রেকর্ডিং কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ঘড়ি ও কম্পিউটিং স্কেলের বাজারে এই কোম্পানির তখন রমরমা অবস্থা। ফ্লিন্ট তখন কিনে নেন হলেরিথ ট্যাবুলেটিং মেশিন কোম্পানি। আরও একটি, মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান একীভূত করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কন্ট্রোল ট্যাবুলেটিং রেকর্ডিং কোম্পানি। নতুন সিটিআর কোম্পানি সব রকমের প্রযুক্তি পণ্য তৈরি শুরু করে। কয়েক বছর পর সিটিআরের নাম বদলে রাখা হয় আইবিএম।
কালের বিবর্তনে আইবিএম কম্পিউটার প্রযুক্তির বিবর্তনে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। নিউইয়র্কের আরমঙ্কে আইয়ের সদর দপ্তর। ১৭৫টি দেশে আছে বিগ ব্লুর উপস্থিতি। আইবিএম কম্পিউটারের যন্ত্র (হার্ডওয়্যার), সহযোগী যন্ত্র (মিডিলওয়্যার), সফটওয়্যার পণ্যের জন্য বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে ওয়েব হোস্টিং সেবাদাতা এবং মেইনফ্রেম কম্পিউটার থেকে শুরু করে হালের ন্যানোপ্রযুক্তি পরামর্শক হিসেবেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আইবিএম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গবেষণা সংস্থা হিসেবেও স্বীকৃত। ১২টির বেশি দেশজুড়ে ১৯টি গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে আইবিএমের। একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইবিএম ১৯৯৩ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি পেটেন্ট পেয়েছে। ধীরে ধীরে বৈদ্যুতিক টাইপরাইটার, ইলেকট্রনিক ক্যালকুলেটর ও পার্সোনাল কম্পউটারসহ বেশ কিছু উদীয়মান প্রযুক্তি পণ্য নির্মাণে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। ষাট ও সত্তরের দশকে আইবিএম মেইনফ্রেম কম্পিউটার বিশেষ করে সিস্টেম/ ৩৬০ কম্পিউটার প্রযুক্তির ক্ষেত্রটাকেই আয়ত্তে আনে। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ এবং পৃথিবীর ৭০ শতাংশ কম্পিউটার তৈরি করত একা আইবিএম।
আশির দশকে বহুমুখী কাজের জন্য কম্পিউটার তৈরি করে আইবিএম, যা পার্সোনাল কম্পিউটারের মান হিসেবে স্বীকৃত। তবে নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকে নতুন বেশ কিছু কম্পিউটার প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান বাজারে আসায় কম্পিউটার বাজারে তার অংশীদারত্ব হারাতে থাকে। এটা আরও প্রকট হয় ২০০৫ সালে, যখন আইবিএম তার পার্সোনাল কম্পিউটার বিভাগ লেনোভোর কাছে বিক্রি করে দেয়। এর পর থেকে আইবিএম কম্পিউটার সেবা, সফটওয়্যার, সুপারকম্পিউটার ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার দিকে বেশি মনোযোগী হয়ে ওঠে। সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার তৈরিতে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে আছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০১ সালে প্রথম কোম্পানি হিসেব বছরে তিন হাজার পেটেন্ট পেয়েছে আইবিএম। সেই রেকর্ড ভেঙে আইবিএম নিজেই ২০০৮ সালে ৪ হাজার পেটেন্ট অর্জন করেছে। ২০২২ সাল পর্যন্ত এই কোম্পানির দখলে আছে দেড় লাখ পেটেন্ট।
বিশ্বের অন্যতম পুরোনো ও বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইবিএম বেশ কিছু যুগান্তকারী উদ্ভাবনে জড়িত। এগুলোর মধ্যে আছে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), ডায়ানমিক র্যানডম-অ্যাকসেস মেমোরি (ডির্যাম), ফ্লপি ডিস্ক, হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ কার্ড, রিলেশনাল ডেটাবেজ, এসকিউএল প্রোগ্রামিং ভাষা ও ইউপিসি বারকোড। অত্যাধুনিক কম্পিউটার চিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামোর নতুন উদ্ভাবনের কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আইবিএমের কর্মী বা সাবেক কর্মীদের গবেষণা ও উদ্ভাবন ছয়টি নোবেল পুরস্কার ও ছয়টি টুরিং অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। গত বছরের হিসেবে পৃথিবীজুড়ে আইবিএমের কর্মী রয়েছেন ২ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ জন।
১৬ জুন ১৯৭৭
ওরাকলের যাত্রা শুরু
বহুজাতিক মার্কিন কম্পিউটার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকল যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তাক্লারায় প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন এটির সদর দপ্তর টেক্সাসের অস্টিনে। ল্যারি এলিসন, রবার্ট মিনের ও এড ওটস ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা। ওরাকল করপোরেশন এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ সফটওয়্যার কোম্পানি। ডেটাবেজ সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি, ক্লাউড প্রকৌশল ব্যবস্থা ও এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার পণ্য বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২২ সালের হিসাবে সারা বিশ্বে ওরাকলের কর্মীসংখ্যা ১ লাখ ৪৩ হাজার।
শুরুর সময় এই প্রতিষ্ঠানের নাম ওরাকল ছিল না। ১৯৭৭ সালে এর নাম ছিল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ (এসডিএল)। এলিসন চেয়েছিলেন তাঁদের পণ্য আইবিএম সিস্টেম আরের জন্য তৈরি করতে, কিন্তু আইবিএম ডেটাবেজে ত্রুটিযুক্ত কোড রাখায় সেটি সম্ভব হয়নি। ১৯৭৯ সালে এসডিএলের নাম বদল করে রাখা হয় রিলেশনাল সফটওয়্যার ইনকরপোরেটেড। ১৯৮৩ সালে আবার নাম বদলে হয় ওরাকল সিস্টেমস করপোরেশন। তাদের তৈরি প্রধান পণ্য ওরাকল ডেটাবেজের সঙ্গে মিল রেখে এই নাম রাখা হয়। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা—সিআইএর একটি প্রকল্পের সাংকেতিক নামও ছিল ওরাকল। আবার এই সিআইএ ওরাকল ডেটাবেজের প্রথম গ্রাহকও বটে। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে আবারও নাম বদলে রাখা হয় ওরাকল করপোরেশন।