রেস্তোরাঁ বা বিমানবন্দরে নিরাপদে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ৫ কৌশল

পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক নিয়মিত ব্যবহার করেন অনেকেইফাইল ছবি: এএফপি

রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর, শপিং মলসহ বিভিন্ন জায়গায় বিনা মূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তার ঝুঁকিও। সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা ব্যক্তিগত তথ্য, বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড, এমনকি ব্যাংকিং–সংক্রান্ত তথ্যও চুরি করতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে এমন ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। নিরাপদে পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ৫ কৌশল জেনে নেওয়া যাক।

১. নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জানা

পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ নামের সাইবার হামলা সবচেয়ে বেশি করে থাকে সাইবার অপরাধীরা। এ ধরনের হামলায় ব্যবহারকারীর যন্ত্র ও ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে তারা। আবার অনেক সময় আসল নেটওয়ার্কের নামের সঙ্গে মিল রেখে ভুয়া ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়। আর তাই ক্যাফে, রেস্তোরাঁ বা অন্য প্রতিষ্ঠানের পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাছ থেকে নেটওয়ার্কের সঠিক নাম জেনে সংযুক্ত হতে হবে।

২. ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ

বাড়ি বা অফিসের বিশ্বস্ত নেটওয়ার্কে সহজে ফাইল আদান-প্রদানের জন্য অনেকেই ফোন বা ল্যাপটপে শেয়ারিং সুবিধা চালু রাখেন। কিন্তু পাবলিক নেটওয়ার্কে এই সুবিধা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংযুক্ত হওয়ার আগে এয়ারড্রপ, নেটওয়ার্ক ডিসকভারিসহ বিভিন্ন ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন

৩. ওয়েবসাইট যাচাই

কোনো ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ার আগে ঠিকানার শুরুতে হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রটোকল সিকিউর (এইচটিটিপিএস) লেখা আছে কি না এবং ব্রাউজারে প্যাডলক চিহ্ন দেখা যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ নয় এমন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে ব্রাউজারে সতর্কবার্তা দেখা গেলে দ্রুত ওয়েবসাইটটির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

৪. অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার

ফোন বা ল্যাপটপের গতি বাড়ানোর জন্য অনেকেই সাময়িকভাবে অ্যান্টিভাইরাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। কিন্তু অপরিচিত নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় এটি নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় অ্যান্টিভাইরাস সব সময় চালু এবং হালনাগাদ রাখতে হবে।

আরও পড়ুন

৫. আর্থিক লেনদেনের অ্যাপ ব্যবহার না করা

নেটওয়ার্কের নাম যাচাই, ফাইল শেয়ারিং সুবিধা বন্ধ, এইচটিটিপিএস লেখা ওয়েবসাইট ব্যবহার এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার চালু থাকলেও পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের নিরাপত্তাঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। আর তাই পাবলিক ওয়াই-ফাই নোটওয়ার্ক ব্যবহারের সময় অনলাইন ব্যাংকিং, আর্থিক লেনদেন বা সংবেদনশীল কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন