ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। এ মুক্ত পেশায় তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বেশি। ঘরে বসে বিদেশের তথ্যপ্রযুক্তির নানা কাজ করে আয় করেন ফ্রিল্যান্সার বা মুক্ত পেশাজীবীরা। কিন্তু শুরু কীভাবে করতে হবে, ফ্রিল্যান্সার থেকে কী জানতে হবে—এ নিয়ে দ্বিধা অনেকের। অনেকে সঠিক দিকনির্দেশনাও পান না। ফ্রিল্যান্সিং করতে চান, এ ব্যাপারে আগ্রহ আছে—এমন পাঠকদের জন্য শুরু হলো ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ‘ফ্রিল্যান্সিং যেভাবে’। আজ থাকছে ২৪তম পর্ব।
পর্ব-২৪
ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেসে কাজ করেছেন, ক্লায়েন্টও আপনার পারিশ্রমিক পরিশোধ করেছেন। এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, পারিশ্রমিকের অর্থ কীভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে আসবে। চিন্তার কিছু নেই, মার্কেটপ্লেস থেকে আপনার অ্যাকাউন্টে অর্থ নিয়ে আসবে পেমেন্ট গেটওয়ে। বাংলাদেশে জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলোর তথ্য সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
পেওনিয়ার
বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে পেওনিয়ার। জনপ্রিয় প্রায় সবগুলো মার্কেটপ্লেসই পেওনিয়ার সমর্থন করে। অ্যাকাউন্ট খোলাও বেশ সহজ। পেওনিয়ার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। পেপ্যালের সেবা আমাদের দেশে চালু না থাকায় বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার পেওনিয়ারের মাধ্যমে নিজেদের পারিশ্রমিক দেশে নিয়ে আসেন।
মার্কেটপ্লেসের পেমেন্ট উইথড্র বিভাগে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট যুক্ত করলেই পারিশ্রমিকের টাকা আপনার পেওনিওর অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পরে পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা আনতে হবে। ফলে আপনি সহজেই নিজের ব্যাংক থেকে পারিশ্রমিকের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। এ ছাড়া কেউ যদি সরাসরি ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে পেওনিয়ারের পেমেন্ট রিকোয়েস্ট অপশন ব্যবহার করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে অর্থ আনতে পারবেন।
পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সময় বেশ কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।
অ্যাকাউন্ট অবশ্যই নিজের নামে খুলতে হবে। অনলাইনে অর্থ পরিশোধের আগে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করতে পারে পেওনিয়ার। এ জন্য বাসার ঠিকানা সঠিক দিতে হবে। অনেক সময় ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য পেওনিয়ার আপনার কাছে বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের ফটোকপি চাইতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিলের তথ্যের সঙ্গে বাসার ঠিকানা না মিললে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
নিজের নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে না। কারণ, একজন ব্যক্তিকে একটি অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দিয়ে থাকে পেওনিয়ার।
অনলাইনে ডলার কেনাবেচা থেকে বিরত থাকতে হবে। পেওনিয়ারে এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে ডলার পাঠানো যায়। অনেকেই এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে অনলাইনে ডলার কেনাবেচা করেন যা বাংলাদেশের আইনে নিষিদ্ধ। এ ছাড়া পেওনিয়ার যদি এ ধরনের সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ড দেখতে পায় তবে তারাও আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেবে।
সরাসরি ব্যাংকে অর্থ পাঠানো
পেওনিয়ার ছাড়াও বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস সরাসরি ফ্রিল্যান্সারদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠিয়ে থাকে। এ জন্য মার্কেটপ্লেসের পেমেন্ট বিভাগে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য, সুইফট কোড, রাউটিং নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট নম্বর যুক্ত করতে হবে।
ওয়াইজ
মার্কেটপ্লেস থেকে টাকা আনার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ‘ওয়াইজ’। ওয়াইজ অ্যাকাউন্ট খোলার পর নম্বরটি মার্কেটপ্লেসের পেমেন্ট অপশনে যুক্ত করলেই ক্লায়েন্টদের পাঠানো অর্থ সরাসরি আপনার ওয়াইজ অ্যাকাউন্টে জমা হবে। পরে ওয়াইজ অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট ব্যাংকে থাকা আপনার অ্যাকাউন্টে অর্থ আনা যাবে।
মার্কেটপ্লেসের পাশাপাশি অনেকেই সরাসরি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে জুম, রিয়া, রেমিটলি ইত্যাদির মাধ্যমে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ নিয়ে আসেন।
লেখক: আপওয়ার্ক টপ রেটেড প্লাস ফ্রিল্যান্সার
পরের পর্ব: ফ্রিল্যান্সারদের অর্থ ব্যবস্থাপনা