ডিপফেক ছবি তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের গ্রোক চ্যাটবটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু
নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন হয়রানিমূলক ভুয়া ছবি বা ডিপফেক তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট গ্রোকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইউরোপীয় কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যবহৃত এই এআই চ্যাটবটটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) অনুযায়ী তার আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না, তা যাচাই করা হবে।
ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবৈধ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হয়। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, তদন্তে বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবৈধ কনটেন্ট ছড়ানোর ঝুঁকি, বিশেষ করে যৌনভাবে বিকৃত ও কারসাজি করা ছবি ও শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের ঝুঁকি মোকাবিলায় এক্স পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে কি না। এক বিবৃতিতে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন জানান, নারী ও শিশুদের ডিজিটালভাবে অশ্লীল ছবি তৈরি করার মতো আচরণ ইউরোপ কোনোভাবেই সহ্য করবে না। সম্মতি ও শিশু সুরক্ষার বিষয়টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এর ফলে এসব বিষয় তারা লঙ্ঘন করে আর্থিক লাভ করতে পারে।
গ্রোক চ্যাটবটে খুব সাধারণ নির্দেশনা দিয়েই নারী ও শিশুদের ডিপফেক ছবি তৈরি করা যায়। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তিবিষয়ক কমিশনার হেনা ভিরকুনেন জানান, গ্রোক চ্যাটবটের কারণে ইউরোপে নারী ও শিশুদের অধিকার যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। নারী ও শিশুদের সম্মতি ছাড়া তৈরি যৌন ডিপফেক ছবি সহিংসতা ও মানব মর্যাদাহানির বিষয়টি গুরুতর ও অগ্রহণযোগ্য।
ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট গত সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অল্প কয়েক দিনেই গ্রোক চ্যাটবট আনুমানিক ৩০ লাখ অশ্লীল ডিপফেক ছবি তৈরি করেছে, যার একটি বড় অংশই নারী ও শিশুদের নিয়ে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বরে ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের স্বচ্ছতাসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক্সকে ১২ কোটি ইউরো জরিমানা করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
সূত্র: আল–জাজিরা