২০২৭ সালের মধ্যে অনলাইনে মানুষের চেয়ে ‘বট’-এর তৎপরতা বাড়বে: ক্লাউডফ্লেয়ার সিইও

ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্সছবি: রয়টার্স

ইন্টারনেটে মানুষের তুলনায় বটের (একধরনের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম) সক্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেভাবে বিস্তার ছড়াচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যে অনলাইনে মানুষের তুলনায় বটের তৎপরতা বেশি হতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও ওয়েব অবকাঠামো–সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ প্রিন্স।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনে প্রযুক্তিবিষয়ক সাউথ বাই সাউথওয়েস্ট (এসএক্সএসডব্লিউ) সম্মেলনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন ম্যাথিউ প্রিন্স। তিনি বলেন, জেনারেটিভ এআইয়ের প্রসারে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরনে মৌলিক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এআই–চালিত বটগুলো একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করছে। এটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়।

ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি একটি ডিজিটাল ক্যামেরা কেনার আগে তথ্য সংগ্রহ করেন, তাহলে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ওয়েবসাইট ঘুরে দেখেন। কিন্তু একই কাজ করতে একটি এআই বট কয়েক হাজার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারে। ফলে এ প্রক্রিয়া শুধু ভার্চ্যুয়াল সীমায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বাস্তব অর্থেই সার্ভার, নেটওয়ার্ক ও সামগ্রিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

জেনারেটিভ এআইয়ের আগের সময়ে ইন্টারনেট ট্রাফিকের প্রায় ২০ শতাংশ বটনির্ভর ছিল বলে জানান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, এর বড় অংশজুড়ে ছিল গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের ‘ওয়েব ক্রলার’। এর বাইরে সীমিত পরিসরে কিছু নির্ভরযোগ্য বট এবং প্রতারক বা দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত বটও সক্রিয় ছিল।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে উল্লেখ করে ম্যাথিউ প্রিন্স বলেন, জেনারেটিভ এআইয়ের তথ্যের চাহিদা কার্যত সীমাহীন। এই চাহিদা পূরণে বটের সংখ্যা ও তাদের কার্যক্রম ক্রমাগত বাড়ছে, যা কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষের অনলাইন উপস্থিতিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন ধরনের প্রযুক্তি অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ম্যাথিউ প্রিন্স। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্যান্ডবক্স’। এটি একটি আলাদা ভার্চ্যুয়াল পরিবেশ। যেখানে এআই এজেন্টগুলো সাময়িকভাবে কাজ করতে পারবে। কাজ শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পরিবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, কোনো ব্যবহারকারী যদি এআই এজেন্টকে ভ্রমণ পরিকল্পনার দায়িত্ব দেন, তাহলে এই স্যান্ডবক্স ব্যবস্থার মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

ম্যাথিউ প্রিন্সের ধারণা, শিগগিরই প্রতি সেকেন্ডে বিপুলসংখ্যক এমন স্যান্ডবক্স তৈরি ও বিলুপ্ত হবে, যা ইন্টারনেট ব্যবহারের কাঠামোকে নতুনভাবে রূপ দেবে। তবে এই ক্রমবর্ধমান বট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হবে শক্তিশালী ভৌত অবকাঠামো। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার ও সার্ভার। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় ইউটিউব, ডিজনি ও নেটফ্লিক্সের মতো ভিডিও স্ট্রিমিং সেবার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ইন্টারনেট ট্রাফিক হঠাৎ বেড়ে অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছিল।

বর্তমান প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীরগতির হলেও তা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন ম্যাথিউ প্রিন্স। তাঁর মতে, এই প্রবণতা থামার কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

ওয়েবসাইটের গতি, নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে ক্লাউডফ্লেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির সেবার মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক, নিরাপত্তা ও ডিডস প্রতিরোধ ব্যবস্থা, এবং ‘অলওয়েজ অনলাইন’ প্রযুক্তি। পাশাপাশি, প্রয়োজন অনুযায়ী অনাকাঙ্ক্ষিত এআই বট ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করার সুবিধাও দিয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। ইন্টারনেটের এই পরিবর্তনকে একটি বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তর হিসেবে দেখছেন প্রিন্স। তাঁর মতে, এআই শুধু যে একটি নতুন প্রযুক্তি তা নয়; এটি প্ল্যাটফর্মের একটি মৌলিক পরিবর্তন। যেমন একটা সময় ডেস্কটপ থেকে মুঠোফোন ব্যবহারে বড় রূপান্তর ঘটেছিল। এর ফলে মানুষ যেভাবে তথ্য গ্রহণ করে, সেই প্রক্রিয়াই মৌলিকভাবে বদলে যেতে পারে।

সূত্র: টেকক্র্যাঞ্চ