সরকারি ঘোষণা শোনার আগে বুকোবা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাজালিওয়া জ্যাকসন বলেন, ভিক্টোরিয়া হ্রদে পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে উড়োজাহাজটিকে ভুল দিক থেকে আসা দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। উড়োজাহাজটি হ্রদে পড়ে যাওয়ার পর আরও তিন জেলেকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ছুটে যান। সেখানে গিয়ে উড়োজাহাজের পেছনে দরজা ভেঙে ফেলে পেছনের দিকে বসা যাত্রীদের উদ্ধারে সহায়তা করেন।

মাজালিওয়া জ্যাকসন বলেন, এরপর তিনি উড়োজাহাজের সামনের দিকে ছুটে যান এবং হ্রদে ডুব দেন। এ সময় পানিতে ডুব দিয়েই তিনি ককপিটের জানালা দিয়ে ইশারার মাধ্যমে আটকে পড়া পাইলটদের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

পাইলট আমাকে ককপিটে ইমারজেন্সি দরজা দেখিয়েছিলেন। আমি সাঁতরে উঠে একটা দড়ি নিয়ে দরজার সঙ্গে বেঁধে অন্য নৌকা দিয়ে টেনে খোলার চেষ্টা করি। কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে গেলে আমার মুখে আঘাত লাগে এবং আমি অচেতন হয়ে যাই। চেতনা ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে।
মাজালিওয়া জ্যাকসন, ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করা জেলে

মাজালিওয়া বলেন, ‘ওই পাইলট আমাকে জানালা ভেঙে ফেলার ইশারা করেন। আমি পানি থেকে উঠে বিমানবন্দর থেকে আসা নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে জানালা ভাঙার জন্য সরঞ্জাম চাই। তাঁরা আমাকে একটি কুড়াল দিয়েছিলেন। আমি ওই কুড়াল নিয়ে আবার ডুব দিয়ে জানালা ভাঙার চেষ্টা করি। কিন্তু উড়োজাহাজের একজন স্পিকারসহ দুজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে আমাকে জানালা ভাঙতে বাধা দেন। তাঁরা বলেন, পাইলটদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়েছে। ককপিটে কোনো ফুটো হয়নি। ভেতরে পানিও ঢোকেনি। এরপর আমি আবার ডুব দিয়ে পাইলটকে বিদায় জানিয়ে ওপরে চলে আসি।’

প্রত্যক্ষদর্শী ওই জেলে বলেন, পাইলটকে বিদায় জানানোর সময়ও ওই পাইলট ইশারায় তাঁকে উদ্ধার করার কথা বলেছিলেন। মাজালিওয়া বলেন, ‘পাইলট আমাকে ককপিটে ইমারজেন্সি দরজা দেখিয়েছিলেন। আমি সাঁতরে উঠে একটা দড়ি নিয়ে দরজার সঙ্গে বেঁধে অন্য নৌকা দিয়ে টেনে খোলার চেষ্টা করি। কিন্তু দড়ি ছিঁড়ে গেলে আমার মুখে আঘাত লাগে এবং আমি অচেতন হয়ে যাই। চেতনা ফিরলে দেখি আমি হাসপাতালে।’

তানজানিয়ার বৃহত্তম বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা প্রিসিশন এয়ারের উড়োজাহাজটি ভিক্টোরিয়া হ্রদে বিধ্বস্ত হয়ে ককপিটে থাকা সব পাইলটসহ ১৯ জন নিহত হন। প্রিসিশন এয়ার বলেছে, উড়োজাহাজে থাকা ৪৩ যাত্রীর মধ্যে ১৯ জন বেঁচে আছেন।

গতকাল সোমবার বুকোবার স্থানীয় একটি ফুটবল স্টেডিয়ামে আয়োজিত শোকসভায় নিহত ১৯ জনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সবাই। সেখানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কাসিম মাজালিওয়া ঘোষণা দিয়েছেন, নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। এর আগে তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করার কথা বলেছেন।  

উড়োজাহাজটি তানজানিয়ার সবচেয়ে বড় শহর দার এস সালাম থেকে মাঞ্জা এলাকা হয়ে বুকোবায় আসে। এ সময় সেটি ঝড় ও ভারী বৃষ্টির কবলে পড়লে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে।