default-image

মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। আজ বুধবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে এনএলডির প্রধান কার্যালয়ে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী অভিযান চালায় বলে দলটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, রাতে দেশজুড়ে কারফিউ চলাকালে এনএলডির প্রধান কার্যালয়ে সেনাবাহিনী অভিযান চালায়।

স্থানীয় সময় গতকাল রাত আটটা থেকে শুরু করে আজ বুধবার ভোররাত চারটা পর্যন্ত এনএলডির প্রধান কার্যালয়ে এ অভিযান চালানো হয়।

বিবিসি বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী এনএলডির প্রধান কার্যালয়ের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকে। অভিযানকালে এনএলডির প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে দলটির কোনো সদস্য ছিলেন না।

বিজ্ঞাপন
default-image

মিয়ানমারে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আজ টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ করছেন গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা।

মারধর, গ্রেপ্তার, গুলির মতো সামরিক জান্তার কঠোর দমননীতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্রের দাবিতে হাজারো মানুষ দেশটিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।

মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর গতকাল ছিল সবচেয়ে সহিংস দিন। এদিন রাজধানী নেপিডোতে বিক্ষোভে গুলি চালায় দেশটির পুলিশ। অন্যান্য স্থানের বিক্ষোভেও গতকাল শক্তি প্রয়োগ করে সামরিক জান্তা। সেসব জায়গায়ও বিক্ষোভকারীরা আহত হন। গতকালের সহিংস ঘটনার পর আজ সকালেই নেপিডোসহ অন্যান্য স্থানে রাস্তায় নেমে পড়েন বিক্ষোভকারীরা।

গতকাল নেপিডোতে বিক্ষোভকালে পুলিশের গুলিতে আহত এক বিক্ষোভকারী নারীর অবস্থা মুমূর্ষু বলে বিবিসির খবরে বলা হয়।

মানবাধিকার গোষ্ঠী ও সংবাদমাধ্যম বলছে, ওই নারীর মাথায় গুলি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরাও একই কথা বলেছেন।

গতকালের ঘটনায় আরও কয়েকজন বিক্ষোভকারী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

default-image

মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে শক্তি প্রয়োগের নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দিতে বলেছে।

মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে।

সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের আটক-গ্রেপ্তার করেছে। তারা সু চির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে তাঁকে রিমান্ডে নিয়েছে।

মিয়ানমারে এই অভ্যুত্থানের পেছনে অন্যতম কারণ গত নভেম্বরের নির্বাচন। এই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সেনাবাহিনী। এরপর পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে টানা বিক্ষোভ করছেন দেশটির মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাচ্ছে। তারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়ে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়িয়ে চলছে।

মিয়ানমারে বিক্ষোভ দমনে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন