default-image

বিদেশ থেকে ফিরে আবারও আন্দোলনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে সঙ্গে নিয়ে আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে রাস্তায় নামলেন তিনি। নেতৃত্ব দিলেন দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বৈজলের সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভ সমাবেশের। এ সময় তিনি বলেন, ‘কৃষকের উপকার নয়, তাঁদের শেষ করে দিতেই নতুন আইন।’

রাহুল আরও বলেন, ‘বিজেপি সরকারকে এই আইন বাতিল করতেই হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের আন্দোলন জারি থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘এই আইন কৃষকদের স্বার্থে নয়। করপোরেটদের স্বার্থে। কৃষকদের বিন্দুমাত্র উপকার এতে হবে না।’

আজ দিনটি কংগ্রেস কৃষক অধিকার দিবস হিসেবে উদ্‌যাপন করে। রাজ্যে রাজ্যে রাজ্যপালের বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা–কর্মীদের বিক্ষোভ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গতকাল দিল্লির যন্তর–মন্তরে বিক্ষোভরত কংগ্রেস নেতা–কর্মীদের অবস্থান বিক্ষোভেও যান। পাঞ্জাব–হরিয়ানাসহ উত্তর ভারতের কংগ্রেস নেতারা সেখানে বেশ কিছুদিন ধরেই অবস্থান করছেন।

রাহুল বলেন, কৃষক ইউনিয়নদের সঙ্গে সরকার আলোচনা জারি রেখেছে কৌশলগত কারণে। সময় নষ্ট করে কৃষক আন্দোলন দুর্বল করতে চাইছে সরকার, যাতে ক্লান্ত–শ্রান্ত কৃষকেরা বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু কৃষকেরা তা হতে দেবেন না। মোদি সরকারকে আইন প্রত্যাহার করতেই হবে।

বিজ্ঞাপন

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কৃষি আইনের প্রয়োগ স্থগিত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের গড়ে দেওয়া কমিটির সামনে হাজিরা দিতে কৃষকনেতারা অস্বীকার করেছেন।

চার সদস্যের কমিটি থেকে কৃষকনেতা ভূপিন্দর সিং মান পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও গতকাল সরকারের সঙ্গে নবম দফার বৈঠকে কৃষকনেতারা যোগ দেন। তাঁদের যুক্তি, সরকারের সঙ্গে তাঁরা সরাসরি কথা বলবেন, মধ্যস্থতাকারী মারফত নয়।

বৈঠকে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং টোমার কৃষকনেতাদের কিছুটা নমনীয় হতে অনুরোধ করেন। কৃষকনেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অভিযোগ সরকার অনড়। অথচ সরকার আপনাদের অনেক দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত। আপনারাও একটু নমনীয় হোন। আইন বাতিলের একমাত্র দাবিতে অটল থাকবেন না।’

দুই পক্ষের মধ্যে পরবর্তী বৈঠক হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন