default-image

ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরতে যুক্তরাষ্ট্র কোন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে, তা নিয়ে গত শুক্রবার দুই দেশের কর্মকর্তারা বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। ইরান চাচ্ছে, ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, সেসব তুলে ফেলা হোক। অন্যদিকে ওয়াশিংটন পূর্বাভাস দিচ্ছে, তেহরান তাদের দাবি থেকে না নড়লে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভিয়েনায় দুটি দেশের পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরা নিয়ে যে পরোক্ষ বৈঠক চলছে, তাতে দুপক্ষই কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন প্রতিনিধি আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলেছেন। ওই বৈঠকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কর্মকর্তারা ইরানকে চুক্তিতে ফেরানোর আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শর্ত নিয়ে দর–কষাকষি চলছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভাদ জারিফ বলেছেন, ‘ট্রাম্পের আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা ছিল চুক্তিবিরোধী এবং তা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’ যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এমন সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে তারা প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। এর অর্থ, চুক্তিতে থাকা পারমাণবিক বিষয়গুলোর বাইরে জারি থাকা কোনো নিষেধাজ্ঞা এর আওতায় পড়বে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে আসার বিষয়ে আগ্রহ দেখেছে, তবে তা যথেষ্ট নয়। যদি ইরান তাদের অবস্থানে আটকে থাকে এবং ২০১৭ সালের পর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলে বা যদি কোনো চুক্তি না হয়, তবে আমরা অন্য পথ বেছে নেব।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কথার লড়াই ঘিরে ইউরোপিয়ান কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান সর্বোচ্চ দর–কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে।

গত মঙ্গলবার ভিয়েনার ইম্পেরিয়াল হোটেলে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু চুক্তির ছয় দেশের মধ্যে বাকি পাঁচ দেশ চীন, রাশিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শুক্রবার আবার তাঁরা বৈঠকে বসেন এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার প্রতিনিধি মিখাইল উলিয়ানভ বলেন, ‘গত তিন দিনে যে প্রাথমিক অগ্রগতি হয়েছে, তাতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যৌথ কমিশনের সদস্যরা। ইতিবাচক অগ্রগতি ধরে রাখতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাবে কমিশন। অন্য পক্ষগুলো দুটি বিশেষজ্ঞ স্তরের দল গঠন করেছে। তাঁরা যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেবে, তার তালিকা করবে এবং ইরান যে শর্তগুলো মানবে, তার তালিকা তৈরি করবে।’

জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি সংস্থায় চীনের রাষ্ট্রদূত ওয়াং কুন বলেন, ‘সব পক্ষই তাদের পার্থক্য কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে সম্মতির দিকে যেতে দেখব।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, কূটনীতিকেরা বুধবার আবার ভিয়েনায় বসবেন। কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলবে।

কূটনীতিকেরা আশা করছেন, ১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন