default-image

ইরান তার আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এর ফলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ বৃহস্পতিবার ইরান এ কথা জানিয়েছে। ইরান বলছে, আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় মার্কিন ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) বরাত দিয়ে বিবিসি ও সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় হুরমুজগান প্রদেশে ‘তাদের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।’ তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভূপাতিত করা ড্রোনটির ছবি দেখানো হয়নি। ড্রোনটি এমন একসময় ভূপাতিত করা হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজ বৃহস্পতিবার জানায়, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজান প্রদেশের ওপর দিয়ে একটি গোয়েন্দা ড্রোন উড়ে যাচ্ছিল এবং সেটিকে নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে। একই সংবাদ দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ ড্রোনটির পরিচয়ও তুলে ধরে বলেছে, এটি একটি ‘আরকিউ-ফোর গ্লোবাল হক’ ড্রোন।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর এমকিউ-ফোরসি ট্রিটনকে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ড্রোনটির প্রস্তুতকারক নর্থরপ গ্রুমানের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ট্রিটন ড্রোন ১০ মাইলেরও বেশি উচ্চতায় একনাগাড়ে ২৪ ঘণ্টা উড়তে পারে। এর দেখভাল করার ক্ষমতা ৮ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল।

এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের নেভি ক্যাপ্টেন বিল আরবান জানিয়েছিলেন, গতকাল (১৯ জুন) ইরানের ওপর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমান উড়ে যায়নি।

মার্কিন সেনাদের অভিযোগ, এর আগেও গত সপ্তাহে ইরান মার্কিন একটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত স্পর্শকাতর উপসাগরীয় জলসীমায় তেল ট্যাংকারে একের পর এক হামলায় হাত থাকায় ইরানকে দায়ী করে আসছে। এদিকে ইরান তেল ট্যাংকারে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছে, বরং এসব হামলায় ওয়াশিংটনের ইন্ধন থাকতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সমর্থন পেতে যুক্তরাষ্ট্র এমন নাটক সাজিয়েছে।

উপসাগরে প্রবেশমুখে হরমুজ প্রণালিতে দুটো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দুটি দেশের মধ্যে এখন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি বিদ্যমান। গত মে মাসে একই ধরনের হামলার পর এই হামলার কথাও ইরান অস্বীকার করেছে। তবে ইরানের সঙ্গে ছয়টি দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বিরাজ করে। গত বছরের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও চীন। চুক্তি অনুসারে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখবে। ইউরেনিয়াম পারমাণবিক বৈদ্যুতিক চুল্লি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তিভুক্ত বাকি দেশগুলো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২৭ জুনের মধ্যে ইউরেনিয়াম উৎপাদনে চুক্তির সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। তবে সেটি না করার জন্য ইরানকে সতর্ক করেছে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাষ্ট্র শুধু ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ক্ষান্ত হয়নি, বিশ্বজুড়ে তাদের মিত্রদেশগুলোকেও ইরান থেকে তেল না কিনতে চাপ দিচ্ছে। দেশগুলো কথা না শুনলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0