বিজ্ঞাপন

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার বলেছে, ড্যানিকে কেন কর্তৃপক্ষ আটক করেছে, তা তারা জানে না। ড্যানির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। ড্যানি এখন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

ড্যানিকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার। তারা বলেছে, এখন তাদের অগ্রাধিকার হলো ড্যানি যে নিরাপদে আছেন, তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারের প্রধান সম্পাদক টমাস কিন জানিয়েছেন, ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ড্যানি প্রায় এক বছর ধরে তাঁদের সংবাদমাধ্যমটিতে কাজ করছেন। তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চাচ্ছিলেন।

আটকের পর ড্যানিকে ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার।

রিপোর্টিং আসিয়ান নামের একটি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিয়ানমারে অন্তত ৩৪ জন সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী আটক বা গ্রেপ্তার আছেন।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী মানুষের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকেরাও দমনপীড়ন, হামলা, মামলা ও গ্রেপ্তারের শিকার হচ্ছেন। দেশটিতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক গ্রেপ্তার হয়েছেন।

গত মাসে জাপানের এক সাংবাদিককে আটক করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। গত সপ্তাহে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্চ মাসে বিবিসির এক সাংবাদিককে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়। তার আগে পোল্যান্ডের এক আলোকচিত্রসাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মার্চে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মিয়ানমারে দমনপীড়নের মুখে সম্প্রতি তিনজন সাংবাদিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাইল্যান্ডে যান। অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে সেখানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। থাইল্যান্ডে গ্রেপ্তার হওয়া তিন সাংবাদিক সম্প্রচারমাধ্যম ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মার (ডিভিবি) কর্মী। তাঁদের যাতে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো না হয়, সে জন্য ডিভিবি থাইল্যান্ডের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে। কারণ, মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের জীবন হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

মিয়ানমারে গত বছরের নভেম্বরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল জয় পায়। নির্বাচন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থা অভিমত দেয়। তবে এই নির্বাচনে কারচুপি-জালিয়াতির অভিযোগ আনে দেশটির সেনাবাহিনী। তৎকালীন নির্বাচন কমিশন সেনাবাহিনীর এ অভিযোগ নাকচ করেছিল।

নির্বাচনে কথিত জালিয়াতির অজুহাত তুলে দেশটির সেনাবাহিনী গত ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। একই সঙ্গে সু চিসহ দেশটির বেসামরিক নেতাদের গ্রেপ্তার করে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে।

সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে দেশটিতে টানা বিক্ষোভ করছেন গণতন্ত্রপন্থীরা। মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে জান্তার হাতে আট শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া হাজারো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন