default-image

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে সেনাবাহিনীকে সংযমী হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে চীন ও রাশিয়ার আপত্তির মুখে দেশটিতে সেনা-অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাতে আবারও ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ব সংস্থাটি। খবর রয়টার্সের।

এর আগে মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও রাশিয়া ও চীনের আপত্তির মুখে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাতে পারেনি নিরাপত্তা পরিষদ। ঘটনাগুলোকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে দেশ দুটি।

বিজ্ঞাপন

গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে তাঁদের নামে।
এরপর থেকে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে টানা বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে মিয়ানমারের জনগণ।

অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স জানিয়েছে, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজার জন।

এমন পরিস্থিততে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ক্রমাগত চাপের মুখে পড়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিরাপত্তা পরিষদের এক বিবৃতিতে মিয়ানমারে নারী, শিশু ও তরুণেরাসহ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতার জন্য তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর যেকোনো পদক্ষেপে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে সংযমী হতে হবে এবং এ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানান, নিরাপত্তা পরিষদের এই বিবৃতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর জন্য ‘অবশ্যই জরুরি’, যাতে সব বন্দী মুক্তি পায় এবং নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণযোগ্যতা পায়।

এদিকে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হ্লাইংয়ের দুই সন্তান এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

জাস্টিস ফর মিয়ানমার গত জানুয়ারিতে জানায়, জেনারেল মিন অং হ্লাইং ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের পদে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁর ক্ষমতাকে নিজের পরিবারের সুবিধার্থে ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর পরিবারের সদস্যদের রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন