default-image

মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। তাতে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় ফেরত নেওয়া হবে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের কথাই উল্লেখ করেছেন মিন অং হ্লাইং।  

দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার সেনাপ্রধানের পুরো বক্তব্য প্রকাশ করেছে। মিন অং হ্লাইং বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও শিগগিরই গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া কোভিড–১৯ মহামারির জন্য বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা মিয়ানমারের নাগরিকদেরও ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কয়েক দিন ধরেই মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলে আসছে। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোয় আজ মঙ্গলবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা মিয়ানমারে গণতন্ত্র পুনর্বহালের দাবি করছেন। তাঁরা দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি দাবি করছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, নেপিডোয় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাসের শেলও ব্যবহার করে পুলিশ। নেপিডোয় আজকের ঘটনায় বেশ কিছু বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষ কিছু শহর-নগরে বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে। এ ছাড়া রাত আটটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত কারফিউও জারি করা হয়েছে।
সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং নিজেও বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন। সেনাপ্রধানের বক্তব্যের পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে বলা হয়, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। দেশটির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা চলে যায় বাহিনীর হাতে।

সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনৈতিক নেতাদের আটক-গ্রেপ্তার করেছে। সু চির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। উইন মিন্টকেও নেওয়া হয়েছে রিমান্ডে।

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপরও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে। পশ্চিমা দেশগুলো সেনা অভ্যুত্থানের কড়া নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, এই অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হবে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন