তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করার অঙ্গীকার সি চিন পিংয়ের
তাইওয়ানকে চীনের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে আবার একীভূত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। গতকাল বুধবার খ্রিষ্টীয় নববর্ষের শুরুতে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
চীনের প্রেসিডেন্ট সি এমন এক সময় এ অঙ্গীকার করলেন, যার এক দিন আগে তাইওয়ানের চারপাশে দুই দিনব্যাপী বড় ধরনের সামরিক মহড়া শেষ করেছে চীন।
সি চিন পিং তাঁর ভাষণে বলেন, ‘আমাদের মাতৃভূমিকে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি, যা কোনোভাবেই থামানো যাবে না।’
চীন স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। দ্বীপটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়ে আসছে দেশটি। দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো এলাকাও নিজের বলে দাবি করে চীন। এ নিয়ে আশপাশের ছোট দেশগুলোর সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘদিনের।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সি চিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
ইতিমধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। সি চিন পিংয়ের ইচ্ছা অনুযায়ী সেনারা যেকোনো মুহূর্তে তাইওয়ানে হামলা চালাতে পারেন বলে তাদের ধারণা।
গত সোম ও মঙ্গলবার তাইওয়ানকে ঘিরে ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামে বড় সামরিক মহড়া চালায় চীনের সেনাবাহিনী। এ সময় তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান ও কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়।
তাইওয়ানের দাবি, মহড়া চলাকালে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাইওয়ান উপকূলের মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আঘাত হানে।
মহড়া শেষ হলেও তাইওয়ান এখনো উচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। কারণ, এখনো দ্বীপটির চারপাশে চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ২৫টি জাহাজ মোতায়েন আছে। দুটি নজরদারি বেলুনও পাঠিয়েছে চীন। এর একটি তাইওয়ানের উত্তর উপকূল দিয়ে উড়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের পাল্টা জবাব হিসেবে এ মহড়া চালানো হয়েছে।
সির ভাষণের সময় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশটির বৃহত্তম সামরিক কুচকাওয়াজের দৃশ্য প্রচার করা হয়। কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন উপস্থিতি ছিলেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা এ জোটকে ‘অ্যাক্সিস অব আপহিবল’ বা ‘উত্থানের অক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
এদিকে নববর্ষের ভাষণে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের ‘আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলোকে পার্লামেন্টে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সাম্প্রতিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে চীন একে তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।