পাহাড় বেয়ে যেন ‘সুনামি’ ধেয়ে আসছিল: নেপালে বেঁচে ফেরা মার্কিন দম্পতি

দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে একজনকে উদ্ধার করা হচ্ছে। নেপালের নুয়াকোট জেলায়, ২৬ আগস্ট ২০২৬ছবি: রয়টার্স

হিমবাহধসে নেপালে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন এক মার্কিন দম্পতি। ফিরে এসে তাঁরা সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, পাহাড় বেয়ে কাদা আর পানি ঠিক যেন ‘সুনামি’র মতো তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল।

বেঁচে যাওয়া এই দুই নাগরিক হলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন দম্পতি অঞ্জনা রাজা (৫২) ও পট্টাভিরামন ভেঙ্কটেশন (৫৬)। নেপালে তাঁরা পেশাদার গাইডের অধীন ভ্রমণে থাকার সময় এই দুর্যোগের মুখে পড়েন।

কাঠমান্ডুতে সিএনএনের প্রতিনিধি উইল রিপলিকে এ দুজন জানান, গাইডের তৎপরতার কারণেই মূলত তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। বন্যা শুরু হওয়ার পরপরই ওই গাইড তাঁদের দ্রুত পাহাড়ের উঁচুতে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান।

এদিকে নেপালে হিমালয়ের হিমবাহধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহত হওয়ার সংখ্যা বেড়ে ৫৪৭–এ দাঁড়িয়েছে। গত বুধবারের এই ভয়াবহ দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪৭৩ জন। এখনো নিখোঁজ ৯৭৭ জন, যাঁদের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই দম্পতিসহ ১২১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নেপাল পুলিশের সাড়ে চার হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। দুর্গত এলাকায় অতিরিক্ত ১ হাজার ২০০ সেনা মোতায়েন করেছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি চীনের একটি উদ্ধারকারী দলও তিব্বতে ক্ষতিগ্রস্ত মূল এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে।

আরও পড়ুন

২০২৫ সালের আগস্টেও ওই অঞ্চলে একই ধরনের আকস্মিক বন্যা হয়েছিল। ওই সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে তিব্বতের একটি হিমবাহ-হ্রদ উপচে পড়েছিল। এতে ৯ জন নিহত হন। নেপাল ও চীনের মধ্যে যোগাযোগকারী একটি সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।