মিয়ানমারের ১০ হাজার নাগরিককে ফেরত পাঠাল মালয়েশিয়া

দেশে ফেরত পাঠানোর অপেক্ষায় বাসের ভেতরে মিয়ানমারের নাগরিকেরা। মালয়েশিয়ার লুমুত। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারের প্রায় ১০ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়া চলছে গত জানুয়ারি থেকে, ১০ মাস ধরে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। 

২০২১ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় আসে জান্তা। এরপর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে মিয়ানমারের হাজার হাজার নাগরিক পালিয়ে আশপাশের দেশগুলোতে আশ্রয় নেন।

আরও পড়ুন

মিয়ানমারের বহু রোহিঙ্গা শরণার্থীও রয়েছেন মালয়েশিয়ায়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার শরণার্থী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন।

এসব শরণার্থীর উপস্থিতি নিয়ে মালয়েশিয়ার অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। দেশটির বক্তব্য, এসব শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া এখন আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিও দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারে শরণার্থী ও অভিবাসী প্রত্যাবাসনের ঘোষণা দেন।

আরও পড়ুন

ফেরত পাঠানো এসব মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই উদ্বেগের কথা স্বীকার করে গতকাল মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ফেরত যাওয়ার পর ওই ব্যক্তিদের কোনো ক্ষতি করা হবে না বলে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়তা দিয়েছে।

গত মাসে মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশে ফিরতে চাওয়া মানুষদের প্রত্যাবাসন হবে ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’।

মানবাধিকার সংগঠন ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইয়াপ লে শেং বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, মিয়ানমারে ফেরত মানুষদের সঙ্গে জান্তা সরকার কেমন আচরণ করবে, তা আগেভাগে বলার কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন