সেক্রেটারি জেনারেল পার্লামেন্টে বলেন, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য ১৯ জুলাই তাঁর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। এদিন সকাল ১০টা থেকে পার্লামেন্ট অধিবেশন শুরু হবে।

দাসানায়েকে আরও বলেন, যদি একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে ২০ জুলাই পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে।

সাংবিধানিক শর্ত মেনে গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পার্লামেন্টে আজকের এ বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছিল।

নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার দেশ ছেড়ে প্রথমে মালদ্বীপে পালিয়ে যান গোতাবায়া। মালদ্বীপ থেকে বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর যান তিনি। গোতাবায়া রাজাপক্ষে বুধবার ই-মেইলে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। গতকাল সে পদত্যাগপত্র গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে।

জ্বালানী ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠেছে কয়েক মাস ধরে। এপ্রিলের শুরুতে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ৩ এপ্রিল গভীর রাতে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য ইস্তফা দেন। এতে গোতাবায়া-মাহিন্দা রাজাপক্ষে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ৯ মে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালান সরকারের সমর্থকেরা। বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা হামলা করেন। সংঘর্ষের পর মাহিন্দা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়ার ওপর চাপ আরও বাড়ে। তিনি একা হয়ে পড়েন। সংকট উত্তরণে রনিল বিক্রমাসিংহেকে শ্রীলঙ্কার নতুন প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১২ মে তিনি শপথ নেন। ৯ জুলাই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নাটকীয় মোড় নেয়। এদিন বিক্ষোভকারীরা দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে পড়েন। তার আগেই প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ছাড়েন গোতাবায়া। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গোতাবায়া ও রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগের প্রতিশ্রুতি দেন।

গণবিক্ষোভের মুখে ১২ জুলাই রাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে মালদ্বীপে যান গোতাবায়া। তাঁর অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় রনিলকে। এই পদক্ষেপে দেশটিতে জনরোষ আরও বাড়ে। ১৪ জুলাই মালদ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুরে যান গোতাবায়া। গোতাবায়া সিঙ্গাপুরে গিয়ে ১৪ জুলাই শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে ই-মেইলে তাঁর পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন