পাকিস্তানের সেনা অভিযানে ১৩৩ জন তালেবান নিহতের দাবি
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহরে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিকমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন আফগান তালেবান নিহত হয়েছে এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বিবিসি।
আজ শুক্রবার ভোর ৪টা ১৮ মিনিটে (গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) খাজা মোহাম্মদ আসিফ পোস্টে লেখেন, পাকিস্তান সরাসরি ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও লেখেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙেছে। এখন তোমাদের সঙ্গে আমাদের প্রকাশ্য যুদ্ধ।’
কাবুলে আল–জাজিরার সংবাদদাতা নাসের শাদিদ জানান, আজ স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে কাবুলে বোমা ফেলেছে পাকিস্তানি বাহিনী। পরে আবারও বোমা ফেলা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সংলাপের মাধ্যমে কাবুল-ইসলামাবাদকে বিরোধ মেটানোর আহ্বান ইরানের
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানকে তাদের মধ্যকার বিদ্যমান মতপার্থক্য সংলাপ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর আল–জাজিরার।
পবিত্র রমজান মাসের সংযম ও ইসলাম ধর্মের সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
আজ শুক্রবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এই প্রক্রিয়ায় ইরানের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আরাগচি বলেন, কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ সহজতর করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া গভীর করতে এবং সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তেহরান যেকোনো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
আফগানিস্তানের কোন কোন শহরে হামলা
আফগানিস্তানের যে শহরগুলোকে পাকিস্তান তাদের সবশেষ হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে সেগুলো হলো–কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা। খবর বিবিসির।
দুই দেশের মধ্যবর্তী দীর্ঘ পার্বত্য সীমান্তের কাছাকাছি এ শহরগুলোর অবস্থান। এই পার্বত্য সীমান্ত ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার (১ হাজার ৬১৫ মাইল) দীর্ঘ।
উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘর্ষ ও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব দুই দেশকেই উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। খবর আল–জাজিরার।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, আন্তোনিও গুতেরেস সীমান্তে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার খবরগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি উভয় পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।
গুতেরেস বলেন, চলমান এই সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে উভয় পক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। গত কয়েক দিন ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে সীমান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
যথাযথ ও শক্তভাবে প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে: শাহবাজ শরিফ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তাঁর দেশের বাহিনীগুলো যেকোনো ধরনের আগ্রাসী পরিকল্পনা প্রতিহত করতে পুরোপুরি সক্ষম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তান সরকারের অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্ট থেকে এমনটা জানা গেছে। খবর বিবিসির।
শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। যথাযথ ও শক্তভাবে প্রতিটি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে।’
শাহবাজ আরও বলেন, পুরো জাতি পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর পাশে আছে।
পাকিস্তান সরকারের ওই এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানে প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর দাবি করে দেওয়া পোস্ট সরিয়ে নিলেন তালেবানের মুখপাত্র
পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছিলেন আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তবে এখন তাঁর সেই পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। খবর বিবিসির।
গতকাল বৃহস্পতিবার আফগান বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে দেশটির সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে দুই সেনা নিহত হওয়ার খবর জানায় ইসলামাবাদ।
জবাবে গতরাতে কাবুল–কান্দাহারে হামলা চালায় পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়েছেন।
পরে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া পোস্টে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেন। তিনি লিখেছিলেন, আফগান তালেবান সদস্যরা কান্দাহার ও হেলমান্দে পাকিস্তানি বাহিনীর অবস্থানের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছেন।
তবে সেই পোস্টটি এখন মুছে ফেলা হয়েছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আগের সংঘর্ষগুলোর মতো এবারও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে আগে হামলা চালানোর অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশই দাবি করছে, তাদের পাল্টা হামলায় প্রতিপক্ষের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আজ শুক্রবার পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বলেছে, আফগানিস্তান কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই দেশটিতে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে তারা কাবুল ও কান্দাহারসহ একাধিক শহরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এদিকে আফগান তালেবান বলেছে, সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের চালানো হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা গতকাল ‘বড় পরিসরে’ সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের দাবি, সপ্তাহের শুরুতে ওই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন। তবে ইসলামাবাদ বলেছে, তারা শুধু কথিত সন্ত্রাসী শিবির ও আস্তানাই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
তালেবানের সামরিক মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ মোহাম্মদি বলেছেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৮টা থেকে এই ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ শুরু হয়।
তালেবানের প্রধান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, এ অভিযানে ‘অনেক’ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এ দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে।
২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস ও ৯টি দখলের দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানিয়েছেন, পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং ৯টি দখল করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই অভিযানে তালেবানের ৮০টিরও বেশি ট্যাংক, কামান এবং অস্ত্রধারী সৈন্যবাহী যান (এপিসি) ধ্বংস করা হয়েছে। খবর বিবিসির।