গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের জান্তা দেশটির ক্ষমতা দখলের পর থেকে সেখানে অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভ্যুত্থানবিরোধী পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্রোহী গ্রুপ জান্তার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, দেশটির বিমানবাহিনী বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে যুদ্ধাপরাধ করছে। অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে উড়োজাহাজের জ্বালানির গন্তব্য পর্যবেক্ষণ করে নতুন প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

বিরোধী নেতাকে ১৪৮ বছর কারাদণ্ড

এদিকে জান্তাশাসিত মিয়ানমারের একটি আদালত দেশটির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দলের নেতা উইন মিন্ট হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে ১৪৮ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর আগেও ৫২ বছর বয়সী এই নেতাকে বিভিন্ন অপরাধে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ১৭৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো। গত সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির জান্তা। এরপর থেকে সু চির দলের কোনো সদস্যকে দেওয়া সর্বোচ্চ সাজার ঘটনা এটি।

ইয়াঙ্গুন শহর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে মাগওয়ে জেলা আদালত সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উইন মিন্টের বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগে ১৪৮ বছরের সাজা ঘোষণা করেন। এর আগে গত মার্চ, এপ্রিল ও জুন মাসে সন্ত্রাসী কাজে উসকানিসহ পাঁচটি অপরাধে তাঁকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, এগুলো ঘটার সময় তিনি কারাগারে ছিলেন।

মিয়ানমারে রাজনৈতিক নেতাদের বিচারের বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানতে দেওয়া হয় না। তাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ হাজির করা হয়, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। উইন মিন্ট হ্লাইংসহ ম্যাগওয়ে কারাগারে দীর্ঘমেয়াদি বন্দীদের বেঁধে রাখা হয় বলে জানিয়েছেন। গত জুলাই মাসে চার রাজবন্দীকে ফাঁসি দিয়েছে জান্তা সরকার। এর আগে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির ২৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর সমর্থকেরা বলছেন, সু চিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।