নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে ১০ দিনের মাথায় এক চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে নিয়ে আসছেন নেপালের সেনাসদস্যরা। ছবিটি নেপালের সেনাবাহিনী প্রকাশ করেছে। রাসুয়া, নেপাল, ৫ সেপ্টেম্বরছবি: এএফপি

হিমবাহধসে নেপালে সৃষ্ট ঢলের দশম দিনের মাথায় আজ শনিবার ত্রিশূলী–১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত বলেন, ‘এইমাত্র আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গ থেকে একজন চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে।’

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে ত্রিশূলী–৩–এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাঁরা দুজনই নেপালের নাগরিক। তাঁদের একজন সঞ্জয় শাহ, অন্যজন কবির মহারাজন।

আরও পড়ুন

দুজনকে জীবিত উদ্ধারের পর নেপাল বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের উদ্ধারেও অভিযান চলছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গতকাল জানিয়েছে, দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে উদ্ধার হওয়া কবির মহারাজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে কাঠমান্ডুর আর্মি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। সঞ্জয় শাহরও একই হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।

জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গের একদম ভেতর থেকে চীনা নাগরিককে উদ্ধার করে আনা হচ্ছে। ছবিটি নেপালের সেনাবাহিনী প্রকাশ করেছে। রাসুয়া, নেপাল, ৫ সেপ্টেম্বর
ছবি: এএফপি

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ এক বিবৃতিতে বলেছিলেনন, ‘যতক্ষণ শ্বাস আছে, ততক্ষণ আশা আছে! ক্ষতিগ্রস্ত সব টানেলেই উদ্ধার অভিযান চলছে। সবার প্রচেষ্টা ও প্রার্থনা অব্যাহত থাকুক। আমরা আশা হারাইনি।’

আরও পড়ুন

২৬ আগস্ট চীন-নেপাল সীমান্তের একটি পাহাড়ে বিশাল হিমবাহ ও পাথরের ধসের পর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত ওই অঞ্চল দিয়ে বয়ে যায়। এর পর থেকে নিখোঁজ হন শত শত জলবিদ্যুৎকর্মী। তাঁদের মধ্যে গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলো।

দেশটির জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা বলছে, এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৮৩ জনের বেশি।

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগে তিব্বত অংশে ৩১ জন নিহত হয়েছে। ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ নিয়ে দুই দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা সাড়ে ৫ হাজারের বেশি।

আরও পড়ুন
আরও পড়ুন