টিকটক ভিডিওতে নেপালে নিখোঁজ মা–মাসির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত

দুই বোন হেমা সুনীল আমিন ও হেমাঙ্গিনী জিতেন্দ্র প্যাটেল (ডানে)। এ ছবিটি পরিবারের পক্ষ থেকে বিবিসিকে সরবরাহ করা হয়েছেছবি: বিবিসি স্ক্রিনশট

নেপালে নিখোঁজ এক নারীর মেয়ে জানিয়েছেন, প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢল আঘাত হানার কয়েক ঘণ্টা আগে টিকটকে পোস্ট করা একটি ভিডিও দেখে তিনি তাঁর মায়ের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করেছেন।

গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতে আঘাত হানা ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল উপত্যকাগুলো দিয়ে প্রবল বেগে নিচে নেমে এসে বহু গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭৫ জন নিহত হয়েছে। তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বহু বিদেশিও রয়েছে।

নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছে, যাদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার একজন কর্মী এবং একজন ধর্মযাজকও রয়েছেন।

টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে মায়ের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা নারীর নাম তুলসী প্যাটেল। তাঁর মা হেমাঙ্গিনী জিতেন্দ্র প্যাটেল ও তাঁর মাসি হেমা সুনীল আমিন তীর্থযাত্রায় বেরিয়েছিলেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল তিব্বতে যাওয়ার। কিন্তু পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস আঘাত হানার পর তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

মা ও মাসি দুজনই সুস্থ ছিলেন এবং এই ভ্রমণের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানান তুলসী। তিনি বলেন, ‘তাঁরা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতেন। এই ভ্রমণ নিয়ে তাঁরা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এটাই ছিল তাঁদের সবচেয়ে বড় ইচ্ছা।’

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় রেডিও ও সংবাদমাধ্যম এলবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুলসী বলেন, তাঁর মা ও মাসি বছরের শুরু থেকেই এই ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছেন। এ যাত্রাটি তাঁদের বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত ইচ্ছার তালিকায় ছিল।

তুলসী আরও বলেন, গত সোমবার তিনি শেষবার মা ও মাসির সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরদিন মঙ্গলবার তাঁদের কাছ থেকে একটি ছবি পেয়েছিলেন। এরপর তাঁদের সর্বশেষ জানা অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায় ট্যুর গ্রুপের জিপিএস সংকেত থেকে। সেটি ছিল নেপাল-চীন সীমান্তের ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’ নামের একটি জায়গা।

আরও পড়ুন

যুক্তরাজ্যের মিল্টন কেইনস শহরের বাসিন্দা তুলসী পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট। তিনি বলেন, ‘(মা ও মাসির কোনো খোঁজ না পেয়ে) আমরা নিজেরাই বিস্তারিত খোঁজখবর করতে গিয়ে একটি টিকটক ভিডিও খুঁজে পাই। ভিডিওটি দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেখানে আমার মা ও মাসিসহ ট্যুরের আরও তিন সদস্য সীমান্ত পারাপারের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আমার ধারণা, স্থানীয় নেপালি ট্যুর গাইডই ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন।’

উদ্ধারের পর এক ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। গত বুধবার নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে। ২৬ আগস্ট ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

নেপালের স্থানীয় সময় গত বুধবার ভোর ছয়টার ঠিক আগে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

তুলসী বলেন, ‘তাঁদের আগের দিন মঙ্গলবারই সীমান্ত পার হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্ভবত আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে তাঁদের দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত দুর্ভাগ্যবশত তাঁরা বুধবার সীমান্ত পার হতে যান।’

আরও পড়ুন

মা ও মাসি দুজনই সুস্থ ছিলেন এবং এই ভ্রমণের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন বলে জানান তুলসী। তিনি বলেন, ‘তাঁরা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করতেন। এই ভ্রমণ নিয়ে তাঁরা খুবই উচ্ছ্বসিত ছিলেন।’

তুলসী জানান, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধস আঘাত হানার পর তিনি তাঁর মা ও মাসিকে ফোনে বার্তা পাঠিয়েছেন, এই আশায় যে—হয়তো তাঁরা মেসেজটি দেখেছেন বা পড়েছেন, এমন কোনো টিক চিহ্ন দেখতে পাবেন। তিনি ট্যুর গাইডের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন।

এই নারী বলেন, ‘আমরা ট্যুর গাইডকেও মেসেজ পাঠিয়েছি, যদি তাঁর ফোনে কোনো সিগন্যাল থাকে। তাঁর কাছে তো স্থানীয় সিম থাকার কথা।

‘আমরা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করার চেষ্টা করছি…আমরা হাল ছেড়ে দিইনি। তবে আমাদের দিক থেকে আমরা শুধু খোঁজখবর ও তথ্য সংগ্রহ করতে পারছি। এখন আমাদের প্রয়োজন সেখানে এমন কেউ থাকা, যিনি আমাদের হয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখবেন এবং খোঁজখবর নেবেন, যাতে তাঁদের সেখান থেকে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। শুধু তাঁদের নয়, সবাইকেই নিরাপদে উদ্ধার করে আনতে হবে।’

নেপালে জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধারকারী কুকুর নিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য। বৃহস্পতিবার নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলীতে
ছবি: এএফপি
আরও পড়ুন

মা ও মাসি নিখোঁজ হওয়ার পর তুলসীদের পরিবার উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়ার জন্য নেপালে যাওয়ার কথা ভেবেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, কারণ উদ্ধারকাজে সহায়তা করার জন্য তারা ওই দুর্গম অঞ্চলের কতটা কাছে যেতে পারবে, তা তারা জানত না।

নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত কৈলাস–মানস সরোবর ভ্রমণে গিয়েছিলেন। হিন্দু ও বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা এটিকে পুণ্যস্থান মনে করেন ও সেখানে ভ্রমণে যান।