ঘোড়ায় চেপে অস্ট্রেলিয়ায় ৪,৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন মার্কিন তরুণী

ফ্যাবলের পিঠে জিন জ্যাগোলাছবি: জিন জ্যাগোলার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

নিজের প্রিয় ঘোড়া ফ্যাবলের পিঠে চেপে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্তে ভ্রমণ করেছেন মার্কিন অশ্বারোহী জিন জ্যাগোলা।

জিন জ্যাগোলা তাঁর ঘোড়া ফ্যাবলের পিঠে চেপে গত বছরের ২০ মে যাত্রা শুরু করেন। ফ্যাবল কোনো প্রশিক্ষিত ঘোড়া নয়, এটি ব্রাম্বি বা বুনো ঘোড়া। ব্রাম্বি অস্ট্রেলিয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশে ঘুরে বেড়ায়। সেখানে এসব ঘোড়াকে ‘ওয়াইল্ড হর্স অব অস্ট্রেলিয়া’ নামে ডাকা হয়।

পর্যটক বা সাধারণ মানুষ অস্ট্রেলিয়ার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ভ্রমণ করতে সাধারণত গাড়ি বেছে নেন। কিন্তু ২৫ বছর বয়সী জ্যাগোলার বেছে নেন ঘোড়া, তাও আবার বুনো ঘোড়া।

জ্যাগোলা অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর ট্যাথরা থেকে যাত্রা শুরু করেন। তিনি ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের উপকূল ধরে নুলারবোর সমভূমি দিয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হন এবং ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের পার্থে যাত্রা শেষ করেন।

জ্যাগোলা বলেন, তিনি খুবই সতর্কভাবে আট মাস ধরে এ পথ পাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর ঘোড়া দিনে সর্বোচ্চ ৩২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এভাবে আট মাসে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার (২ হাজার ৭০০ মাইল) পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। পার্থ শহর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণের বুসেলটনের ফরেস্ট বিচে তাঁদের যাত্রা শেষ হয়।

এই তরুণী বলেন, ‘আমি সব সময় ফ্যাবলের সুস্থতাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাই, প্রতি এক ঘণ্টা ঘোড়া চড়ার পর আমরা ১০ মিনিট করে বিরতি নিতাম। এ ছাড়া দিনের প্রায় এক–চতুর্থাংশ সময় আমি হেঁটেছি, যেন ফ্যাবলের পিঠ খানিকটা বিশ্রাম পায়।’

জিন জ্যাগোলার বাড়ি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া। তিনি এর আগে নিজে দেশে ঘোড়ার পিঠে চড়ে লম্বা পথ পাড়ি দিয়েছেন।

জ্যাগোলা বলেন, ‘যখন আমি অস্ট্রেলিয়ার ব্রাম্বি ঘোড়া সম্পর্কে জানতে পারি, এটি সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি এখানে এসে একটি ব্রাম্বিকে নিজে একেবারে শুরু থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেটির পিঠে চেপে এই মহাদেশ অতিক্রম করার অনুপ্রেরণা পাই।’

কোসচিউসকো ন্যাশনাল পার্কের একটি বুনো ব্রাম্বি ছিল ফ্যাবল। ভিক্টোরিয়ান ব্রাম্বি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সেটিকে দত্তক নেন জ্যাগোলা।

জ্যাগোলা বলেন, তিনি যখন প্রথম ফ্যাবলকে দেখেন, সেটিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। কিন্তু সেটির আচরণ তখনো পুরোপুরি বুনো ঘোড়ার মতো ছিল।

এই মার্কিন তরুণী বলেন, ‘যাত্রা শুরু করার আগে আমি প্রায় ছয় থেকে আট মাস পরিকল্পনা করেছি। এরপর ফ্যাবলকে তিন মাস প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমি নিজেকে বলেছিলাম, “ঠিক আছে, হয় সবকিছু ভালোভাবে হবে এবং আমি বুঝতে পারব, আমরা এটা আসলেই করতে পারি, নইলে সবকিছু পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে এবং আমরা কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে যাব”।’

জ্যাগোলা অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সরল সড়ক নুলারবোর সমভূমি অতিক্রম করেছেন, যা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বিস্তৃত।

প্রতিদিন রাতে জ্যাগোলা তাঁর ঘোড়ার পাশেই ঘুমিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ছিল একটি তাঁবু আর স্যাডল ম্যাট। শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে জ্যাগোলার খুব বেশি চেনাজানা ছিল না, বিশেষ করে নুলারবার পার হওয়ার সময়। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত সফলভাবে এ সফর শেষ করতে পেরেছেন।

জ্যাগোলা বলেন, ‘আমি সত্যিই বুনো ঘোড়ার প্রেমে পড়ে গেছি।’

এ সফর শেষ করার পর জিন জ্যাগোলা ২০ জানুয়ারি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে (জিন অ্যান্ড ফ্যাবল) একটি পোস্ট দেন।

এতে জ্যাগোলা লেখেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত, ৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। একটি ঘোড়ার সঙ্গে একটি মহাদেশ অতিক্রম করা প্রথম ব্যক্তি আমি। আমার চিরসত্য ও সাহসী সাথি, যাকে আমি সবকিছুর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। ফেবল, দ্য স্নো মাউন্টেন ব্রাম্বি।’

আরও পড়ুন