চীনে পুরুষের তুলনায় নারী কম, একাকী পুরুষেরা যেভাবে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন
চীনের ৩৭ বছর বয়সী ওয়াং ঝুয়াং বিয়ের জন্য একজন পাত্রী খুঁজে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই পাত্র–পাত্রী চেয়ে দেওয়া আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনগুলো তাঁর মনোযোগ কাড়ে।
বিজ্ঞাপনগুলোতে বলা হয়েছিল, উদ্দেশ্যবিহীন কোনো সম্পর্ক গড়ে তুলতে তাঁকে আর বছরের পর বছর সময় নষ্ট করতে হবে না। বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলো থেকে তাঁকে একজন শান্ত স্বভাবের, নিবেদিতপ্রাণ নারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
ওয়াং বলেন, ‘ঘটক এজেন্সি বলেছিল, গুইঝৌ প্রদেশের মেয়েরা মিতব্যয়ী। তারা আমাকে জানিয়েছিল, এখানকার মেয়েরা সংসার চালাতে দক্ষ, গৃহস্থালির কাজ করতে পারে এবং তাদের পরিবার খুবই দরিদ্র। তাই তারা আপনার পরিবারে বিয়ে করে এলে স্থায়ীভাবে আপনার সঙ্গেই সংসার করবে ও জীবন কাটাবে।’
ঘটক এজেন্সির কথা বিশ্বাস করে নিজের জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশায় ওয়াং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুইঝৌ প্রদেশের রাজধানী গুইয়াং শহরে যান।
সেখানে ওয়াংয়ের মনে হয়েছিল, তিনি সত্যিই তাঁর কাঙ্ক্ষিত সঙ্গীকে খুঁজে পেয়েছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে এমন এক নারীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, যাঁর সঙ্গে তাঁর সব প্রত্যাশা মিলে যাচ্ছিল। বিয়ের আগে তাদের মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছিল।
কিন্তু ওয়াংয়ের নতুন জীবন যেভাবে দ্রুত শুরু হয়েছিল, প্রায় তত দ্রুতই তা শেষ হয়ে যায়।
মাথা নেড়ে ওয়াং বলেন, ‘আমার পুরো পরিবারই বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে গেছে।’
স্ত্রী সম্পর্কে তাঁকে যা কিছু বলা হয়েছিল, সবই ছিল মিথ্যা—এ কথা জানার পর এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তিনি সে ঘটনার ধাক্কা সামলে উঠতে লড়াই করে যাচ্ছেন।
ওয়াংয়ের স্ত্রী কারাওকে বারের সাবেক বিনোদনকর্মী বা হোস্টেস। ওয়াংকে বিয়ে করার আগে তিনি আরও তিনবার বিয়ে করেছিলেন। তাঁর তিনটি সন্তানও রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো কারাওকে একটি গুরুতর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত এবং বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এমনকি তিনি নিজের বয়স নিয়েও মিথ্যা বলেছিলেন।
ওয়াং বর্তমানে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তাঁর আগের জীবনে ফিরে যেতে পারছেন না—অন্তত যতক্ষণ না তিনি তাঁর সঞ্চয়ের কিছু অংশ ফেরত পান।
ওয়াংয়ের দাবি, সম্ভাব্য কয়েকজন পাত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তাঁর জীবনভর সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ এজেন্সির হাতে তুলে দেন।
ওয়াং বলেন, ‘আমার মা–বাবা এ জন্য আমাকে দোষারোপ করেন। আমি অনিদ্রা ও উদ্বেগে ভুগছি। কাজে মনোযোগ দিতে পারি না।’
ওয়াংয়ের গল্পটি চীনে দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হওয়া একটি জনসংখ্যাগত সংকটের চরম বহিঃপ্রকাশ।
ওয়াংয়ের স্ত্রী কারাওকে বারের একজন সাবেক বিনোদনকর্মী বা হোস্টেস। ওয়াংকে বিয়ে করার আগে তিনি আরও তিনবার বিয়ে করেছিলেন। তাঁর তিনটি সন্তানও রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো ওই নারী একটি গুরুতর যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত এবং বিপুল ঋণের বোঝায় জর্জরিত। এমনকি তিনি নিজের বয়স নিয়েও মিথ্যা বলেছিলেন।
দশকের পর দশক ধরে চীনে দম্পতিদের মাত্র একটি সন্তান নেওয়ার অনুমতি ছিল। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে দেশটির সরকার সেই নীতি পরিবর্তন করে। কিন্তু তত দিনে ‘এক সন্তান নীতি’ এবং ছেলেসন্তানের প্রতি সামাজিক ঝোঁকের ফলে দেশটিতে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং নারী-পুরুষের অনুপাতে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়।
বর্তমানে চীনে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। এটি যুক্তরাজ্যের মোট পুরুষ জনসংখ্যার চেয়েও বেশি আর অস্ট্রেলিয়ার পুরো জনসংখ্যার সমান।
ফলে ওয়াংয়ের মতো ৩০–এর শেষ দিকে থাকা এবং ছোট শহর বা প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী অনেক পুরুষের সামনে জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে এসব এলাকার নারীরা পছন্দের ক্ষেত্রে অনেক বেশি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। কারণ, তাঁরা জানেন, তাঁদের চাহিদা বেশি।
ওয়াং বলেন, ‘আমার শহরে পুরুষদের জন্য শর্তগুলো খুবই কঠিন। আপনার একটি গাড়ি থাকতে হবে, একটি বাড়ি থাকতে হবে এবং সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনার পরিবারের নিজস্ব ব্যবসাও থাকে।’
অনেক পরিবার আবার উচ্চ অঙ্কের ‘বধূমূল্য’ (ব্রাইড প্রাইস) দাবি করে। এটি চীনের একটি দীর্ঘদিনের প্রথা, যেখানে বরের পরিবার কনেকে অর্থ দিয়ে থাকে।
চীনের যেসব অঞ্চলে নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা অনেক বেশি, সেখানে এই প্রথা অনেকের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে।
এ কারণেই গুইঝৌর মতো এলাকার ঘটক এজেন্সিগুলো অনেকের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত এবং এক জায়গায় বিয়ের সব ব্যবস্থা করে দেওয়ার, অর্থাৎ ‘ফ্ল্যাশ ম্যারেজ’ বা দ্রুত বিয়ের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেয়।
চীনে ম্যাচমেকিং বা ঘটক এজেন্সি নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন—এমন পুরুষদের অনেকেই এজেন্সির সহজ শিকারে পরিণত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসব এজেন্সির কর্মকাণ্ড এতটাই বেড়েছে, সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই খাতে ‘দ্রুত প্রবৃদ্ধি’ ঘটেছে, যা ‘অবৈধ কর্মকাণ্ড ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে’।
চীনজুড়ে এ ধরনের প্রতারণার প্রকৃত ব্যাপ্তি নির্ধারণ করা কঠিন। তবে এর পরিমাণ এতটাই বেড়েছে, তা চীনা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে ঘটক বা পাত্র-পাত্রীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার শিল্পসংশ্লিষ্ট অপরাধের মামলায় ১ হাজার ৫৪৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে।
আমার মা–বাবা এ জন্য আমাকে দোষারোপ করেন। আমি অনিদ্রা ও উদ্বেগে ভুগছি। কাজে মনোযোগ দিতে পারি না।
এ মাসে বিষয়টি নিয়ে ‘ব্যাপক জন–উদ্বেগ’ সৃষ্টি হওয়ার পর পাঁচটি পৃথক সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ম্যাচমেকিং বা ঘটকশিল্পের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে, একটি ঘটক এজেন্সি কারাওকে বারের নারী কর্মীদের প্রলোভন হিসেবে ব্যবহার করে ১২৮ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২৫ লাখ ইউয়ানেরও বেশি (প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা) প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছেন।
বেইজিংয়ের আইনজীবী ফান বিংহে বিবিসিকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফ্ল্যাশ ম্যারেজভিত্তিক প্রতারণা ঠেকাতে সরকার এই খাতের জন্য বিশেষ বিধিনিষেধ চালু করতে পারে।’
গুইয়াং আর দ্রুত বর্ধনশীল ফ্ল্যাশ ম্যারেজ বাজার এখন প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছে। সেখানকার শপিং এলাকায় ঘিঞ্জি ও জটিল নকশার বহুতল ভবনে এসব এজেন্সির কার্যালয় গড়ে উঠেছে।
ওয়াং এমন একটি ঘটক কোম্পানির কথায় আশ্বস্ত হওয়ার পর তাদের বিশ্বাস করে তাঁর সঞ্চিত অর্থ তাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কারণ, প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে বলেছিল, তারা সম্ভাব্য পাত্রীদের পূর্ণাঙ্গ পটভূমি যাচাই করবে এবং তিনি প্রতারণার শিকার হলে তাঁকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তাই তিনি তাদের অর্থ দেন, তারপর পাত্রীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
মূলত শান্ত স্বভাবের একজন জীবনসঙ্গীর প্রতিশ্রুতিতেই ওয়াং গুইয়াংয়ে তাঁর ঘটক এজেন্সির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
এজেন্সির কর্মীদের কড়া তত্ত্বাবধানে কয়েক দিনের মধ্যে ওয়াং বিভিন্ন ‘ব্লাইন্ড ডেট’ (অপরিচিত কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ, যাঁদের একে অন্য সম্পর্কে কিছুই জানেন না) কক্ষে সাতজন নারীর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করেন, তাঁরা কোথা থেকে এসেছেন, আগে বিয়ে করেছিলেন কি না এবং তাঁদের কোনো সন্তান আছে কি না?
অষ্টম যে নারীর সঙ্গে ওয়াংয়ের দেখা হয়, তাঁকেই তিনি পছন্দ করে ফেলেন। তিনি এমন কাউকে খুঁজছিলেন, যিনি আগে বিয়ে করেননি, যাঁর কোনো সন্তান নেই এবং বয়সে তাঁর চেয়ে সামান্য ছোট।
ওয়াং বলেন, ‘তিনি খুবই সাধারণ পোশাক পরেছিলেন। তাঁকে দেখে অন্তর্মুখী ও সৎ বলে মনে হয়েছিল।’
বিয়ের আগে তাঁদের চার–পাঁচবার দেখা হয়েছিল এবং প্রতিবারই মাত্র ৮ থেকে ১০ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
ওয়াংয়ের দাবি, তাঁদের কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যেন তাঁরা ফোন নম্বর বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের কোনো তথ্য আদান-প্রদান না করেন, তা করলে জরিমানা করা হবে।
দু-তিন দিনের মধ্যেই ওয়াং সিদ্ধান্ত নেন, এই নারীই তাঁর কাঙ্ক্ষিত জীবনসঙ্গী। এরপর তিনি তাঁকে বড় অঙ্কের বধূমূল্য দিতে সম্মত হন।
ওয়াং বলেন, ‘আমি তিন লাখ ইউয়ানের বেশি (৫৪ লাখ টাকার বেশি) খরচ করেছি।’
নিজের দাবির প্রমাণ হিসেবে ওয়াং হাতে বহুল ব্যবহারে জীর্ণ হয়ে যাওয়া আইনি নথির একটি স্তূপ দেখান।
ওয়াং আরও বলেন, ‘বিয়ের ভোজ এবং অন্যান্য সব খরচ যোগ করলে বিয়েতে আমার মোট ব্যয় হয়েছিল ৪–৫ লাখ ইউয়ান।’
ঘটক এজেন্সি তাদের বিয়ের পুরো প্রক্রিয়ার আকর্ষণীয় সব ছবি তোলে এবং চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেগুলো পোস্ট করে নিজেদের সেবার প্রচার করে।
এজেন্সির পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, লালগালিচার ওপর দাঁড়িয়ে নবদম্পতি হাত ধরাধরি করে হাসছেন। আর পেছনে রোমান্টিক সুরের সংগীত বাজছে।
অথচ বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ঋণ আদায়কারীরা ফোন করা শুরু করেন। তাঁদের দাবি, ওই নারী তাঁদের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন।
ওয়াংয়ের সন্দেহ বাড়তে থাকে এবং তিনি জানার চেষ্টা করেন, তাঁর স্ত্রী তাঁর কাছে আর কী কী বিষয় গোপন রেখেছেন। তিনি স্ত্রীর ফোন পরীক্ষা করে তাঁর আগের জীবনের বিভিন্ন তথ্য, জন্মসনদ এবং আগের বিয়ের নথিপত্র খুঁজে পান।
চীনে ম্যাচমেকিং বা ঘটক এজেন্সি নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাঁরা জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন—এমন পুরুষদের অনেকেই এজেন্সির সহজ শিকারে পরিণত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের কথা বলেন। যদিও তিনি (স্ত্রী) জানিয়ে দেন, বধূমূল্য হিসেবে দেওয়া অর্থের এক পয়সাও তিনি ফেরত দেবেন না।
ওয়াংয়ের দাবি, তিনি তাঁদের বিয়ে দেওয়া ঘটক এজেন্সিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের কার্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান, সেখান তাদের কার্যালয় আর নেই।
গুইয়াংয়ে ভাড়া করা নিজের ফ্ল্যাট থেকে ওয়াং এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও তৈরি করেন। ভিডিওগুলোতে তিনি অন্য পুরুষদের এমন পরিস্থিতিতে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেন।
গুইয়াংয়ে এমন কোনো এজেন্সি খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে কর্মীরা কথা বলতে রাজি হন। তবে একটি এজেন্সির মালিক তাঁদের কার্যালয়ে বিবিসির সঙ্গে কথা বলতে সম্মত হন। যদিও পরে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার বিবিসির প্রতিনিধিদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।
ওই এজেন্সি মালিক বলেন, চীনে ফ্ল্যাশ ম্যারেজের বিশাল একটি বাজার রয়েছে। এটি মূলত দু-তিন বছরে গড়ে উঠেছে।
এজেন্সিগুলোর দাবি, এই অঞ্চলের পরিবারগুলো এক সন্তান নীতি কঠোরভাবে মেনে চলেনি। ফলে এখানে নারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
একজন বিবিসিকে বলেন, কোনো পরিবারের যদি দুই বা তিনটি মেয়েও থাকত, তবু তারা একটি ছেলেসন্তানের আশায় সন্তান নেওয়া চালিয়ে যেত।
এজেন্সিগুলো আরও দাবি করেছে, তারা এখন এ নারীদের সঙ্গে মধ্য চীনের বিভিন্ন প্রদেশের পুরুষদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অনেকটা ওয়াংয়ের মতো পুরুষদের সঙ্গে। ওয়াং হেবেই প্রদেশে থাকেন এবং তুলনামূলকভাবে সচ্ছল হলেও তাঁর আশপাশে উপযুক্ত নারীর সংখ্যা কম।
এজেন্সির একজন বলেন, ‘আমাদের গ্রাহকেরা যাঁকে পছন্দ করেন, তাঁকেই বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রাখেন। আমাদের ব্যবসার লক্ষ্য হলো মানুষকে এমন একজন সঙ্গী খুঁজে পেতে সাহায্য করা, যাঁর সঙ্গে তাঁরা সত্যিই থাকতে চান।’
এসব এজেন্সির একটি বিজ্ঞাপনে সম্ভাব্য গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, সঠিক পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলে তিন দিনের মধ্যেই এমন ফল পাওয়া যেতে পারে, যা অর্জন করতে সাধারণ ডেটিংয়ে তিন বছর লেগে যেতে পারে।
ওয়াং এখন তাঁর সময় ব্যয় করেন এ ধরনের প্রতারণার শিকার অন্য মানুষদের সাহায্য করার কাজে।
ওয়াংয়ের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে প্রায়ই এমন পুরুষদের আনাগোনা থাকে, যাঁরা হয় তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা এজেন্সির মালিকদের খুঁজছেন, নয়তো বিয়ের মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর স্ত্রী চলে যাওয়ার কারণে হারানো অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে মামলা করে খুব বেশি প্রতিকার পাওয়া যায় না।
আইনজীবী ফান বিংহে বলেন, এ ধরনের বিয়ে-সংক্রান্ত প্রতারণায় মামলা করা কঠিন। কারণ, চীনা আইনে এ ধরনের প্রতারণার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি অপরাধের বিধান নেই। ফলে কাউকে অভিযুক্ত করতে হলে প্রমাণ করতে হয়, বিয়ের শুরু থেকেই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সঙ্গীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।
আইনজীবী আরও বলেন, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই দাবি করেন, তাঁরা সত্যিই বিয়ে করে সংসার করতে চেয়েছিলেন, পরে বনিবনা না হওয়ায় সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। ফলে প্রতারণা ও স্বাভাবিক বৈবাহিক বিরোধের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।