সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে চীনের কথিত গুপ্তচরবৃত্তি এবং কানাডার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের কথা তোলেন বলে গণমাধ্যমকে জানান ট্রুডো। চীনের প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত ওই বিষয়ই ইঙ্গিত করেছেন। জি-২০ সম্মেলনে দুই নেতার মধ্যে ওই বৈঠক হয়েছিল রুদ্ধদ্বার। কয়েক বছরের মধ্যে প্রথমবার তাঁরা বৈঠকে বসলেন।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বনেতাদের এ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ধারণা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সি চিন ও ট্রুডো দাঁড়ানো অবস্থায় দোভাষীর মাধ্যমে কথা বলছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট মান্দারিন ভাষায় ট্রুডোকে বলেন, ‘বৈঠকে আমাদের আলোচনার প্রতিটি বিষয় পত্রিকায় ফাঁস হয়েছে। এটা অনুচিত।’

জবাবে হাসিমুখে মাথা নেড়ে ট্রুডো বলেন, ‘কানাডায় আমরা অবাধ, মুক্ত ও খোলামেলা সংলাপে বিশ্বাস করি এবং এটাই আমাদের চালি যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। কিন্তু কিছু বিষয় থাকবে যা নিয়ে আমরা একমত নই।’

কথা শেষ করার আগেই ট্রুডোকে থামিয়ে দেন হতাশ সি চিন। এরপর তাঁকে বলেন, তিনি যেন প্রথমে ‘পরিবেশটা তৈরি করেন’। শেষ পর্যন্ত ট্রুডোর সঙ্গে করমর্দন করে সেখান থেকে চলে যান চীনের প্রেসিডেন্ট।

স্বল্প সময়ের হলেও প্রকাশ্যে এ ধরনের আলাপ চীন এবং কানাডার মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এনেছে। ২০১৮ সালে কানাডায় চীনের প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ের নির্বাহী মেং ওয়ানঝোকে আটক এবং এ ঘটনার জেরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দুই কানাডীয়কে বেইজিংয়ের গ্রেপ্তারের পর থেকে এই টানাপোড়েন শুরু হয়। পরে তিনজনকেই মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু সম্প্রতি হাইড্রো-কুইবেকের সরকারি ইউটিলিটি কর্মী ইউয়েশেং ওয়াংকে গ্রেপ্তারের পর ফের সম্পর্কের টানাপোড়েন সামনে আসে। ওই কর্মীর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এক বিবৃতিতে কানাডার পুলিশ বলেছে, ওয়াং চীনকে সুবিধা দিতে বাণিজ্য–সংক্রান্ত গোপনীয় তথ্য হস্তগত করেছেন, যা কানাডার অর্থনৈতিক স্বার্থের পরিপন্থী। ওই সময় জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।