এআই কি মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে
সান ফ্রান্সিসকোর আলামো স্কয়ারের একটি পার্কের বেঞ্চে বসে ৮ সেপ্টেম্বর একটি পোস্ট দেন জ্যাকব কক্সন। ২৭ বছর বয়সী এই ব্রিটিশ গবেষক লেখেন, ‘আজ আমি অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছি। গত তিন বছর ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকে এআই প্রশিক্ষণের প্রাথমিক ধাপ নিয়ে গবেষণা করেছি। কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। তারা এমন অতিবুদ্ধিমান এআই তৈরির প্রতিযোগিতায় ছুটছে, যা নিজেই নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবে। এভাবে তারা আমাদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলছে।’
কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই এক্সে পোস্টটি দিয়েছিলেন কক্সন। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় তাঁর পোস্টগুলো ১৫ কোটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়। এআই নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হন গবেষক, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকেরা।
তাঁদের কয়েকজনের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণে আইন করা না হলে অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজের গতি না কমালে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এআই মানবজাতির জন্য বড় বিপদ তৈরি করতে পারে। এমনকি কেউ কেউ মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাও করছেন।
কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই এক্সে পোস্টটি দিয়েছিলেন কক্সন। কিন্তু মাত্র ৩৬ ঘণ্টায় তাঁর পোস্টগুলো ১৫ কোটি ৩০ লাখ বার দেখা হয়। এআই নিয়ে বিতর্কে যুক্ত হন গবেষক, প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও রাজনীতিকেরা।
গতি কমানোর আহ্বান
১২ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই ৩ হাজার ৮০০ শব্দের একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি বিবেচনায় এর উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তাঁর আশঙ্কা, মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে না-মেলা এআই মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে পুরো ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হন। নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই এ বছর শেয়ারবাজারে যাবে না বলে ঘোষণা করেন অল্টম্যান।
অল্টম্যান ও আমোদেই স্বাধীন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। তবে নতুন এআই মডেলের প্রশিক্ষণ এখনই ধীর বা বন্ধ করার ঘোষণা তাঁরা দেননি।
এআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে এমন সতর্কতা নতুন নয়। তবে কক্সনের বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রযুক্তিটি কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।
ইলন মাস্ক ও ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানও এআই উন্নয়নের গতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত হন। নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে ওপেনএআই এ বছর শেয়ারবাজারে যাবে না বলে ঘোষণা করেন অল্টম্যান।
অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলো এখন বিশ্বের কঠিনতম গণিতের সমস্যার সমাধান এবং সর্বাধুনিক সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা ভাঙতে পারে। আরও শক্তিশালী এআই তৈরির কাজেও এসব মডেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই এসে গেছে। এজিআই হলো এমন একটি পর্যায়, যখন এআই মানুষের অধিকাংশ সক্ষমতার সমান বা তার চেয়েও বেশি দক্ষতা অর্জন করে।
কারও কারও আশঙ্কা, এআই মানুষের সহায়তা ছাড়াই নিজেকে আরও উন্নত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘রিকার্সিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট’ বা নিজেকে বারবার উন্নত করা।
অনেক গবেষক বর্তমান সময়কে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির সঙ্গে তুলনা করছেন। তখন কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হচ্ছিল। প্রথমে পরিবর্তন ছিল সামান্য, পরে হঠাৎ সবকিছু বদলে যায়।
অতিবুদ্ধিমান এআইয়ের আগমন সামলানো কঠিন হবে। এর সঙ্গে বিপুল অর্থ, ভূরাজনৈতিক ক্ষমতা, করপোরেট প্রতিযোগিতা ও শ্রমবাজারের বড় পরিবর্তন জড়িত। পরিস্থিতি সামলাতে এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে জোট গড়তে হতে পারে। নির্বাহী ও সরকারি কর্মকর্তাদেরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অথচ তাঁদের স্বার্থ অনেক সময় জনস্বার্থের বিপরীত হতে পারে।
এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেলকে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না। এটি এআই গবেষণার গভীর ও এখনো অমীমাংসিত সমস্যা। ভবিষ্যতের এআই নতুন মহামারি তৈরি করতে পারে কিংবা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন আশঙ্কার পেছনেও এ সমস্যাই রয়েছে।
নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঘটনা
সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা দেখিয়েছে, শক্তিশালী এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সব সময় নিজেদের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
জুলাইয়ে ওপেনএআই জানায়, সাইবার নিরাপত্তার একটি পরীক্ষার সময় তাদের একদল এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এআই স্টার্টআপ হাগিং ফেসের কম্পিউটার–ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ে। আগস্টে আরেক দল এআই এজেন্ট ওপেনএআইয়ের নিজস্ব একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে যায়।
প্রায় একই সময়ে অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লদ মিথোস’ মডেলের একটি সংস্করণ যুক্তরাজ্য সরকারের একটি সংস্থার পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মডেলটি উন্মুক্ত সফটওয়্যারে ক্ষতিকর প্রোগ্রাম ঢোকানোর অনুমতি দিতে একজন মানুষকে রাজি করানোর চেষ্টা করে।
সেপ্টেম্বরে স্বাধীন গবেষকেরা দেখতে পান, ওপেনএআইয়ের একাধিক মডেল নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য জার্মানির পরিত্যক্ত একটি অনলাইন ফোরাম ব্যবহার করছে। তারা আরেকটি ওয়েবসাইটে হামলারও চেষ্টা করেছে।
এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এআই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মডেলকে অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে কি না। এটি এআই গবেষণার গভীর ও এখনো অমীমাংসিত সমস্যা। ভবিষ্যতের এআই নতুন মহামারি তৈরি করতে পারে কিংবা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে—এমন আশঙ্কার পেছনেও এ সমস্যাই রয়েছে।
যেভাবে হামলা চালিয়েছিল ৭০০ এআই এজেন্ট
এআইয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এমইটিআরের গবেষক অজেয়া কোত্রা জুলাইয়ের শেষ দিকে ওপেনএআইয়ের কার্যালয়ে যান। হাগিং ফেসের কম্পিউটার–ব্যবস্থায় ঢুকে পড়া এআই এজেন্টদের ঘটনা তদন্ত করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
দুই সহকর্মীকে নিয়ে ছয় দিন কাজ করার পর কোত্রা জানতে পারেন, ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরীণ একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় ১ হাজার ২০০টি এআই এজেন্ট তাদের জন্য নির্ধারিত বিচ্ছিন্ন অফলাইন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি গোপন বার্তাবোর্ড তৈরি করে। পরে তাদের মধ্যে ৭০০টি এজেন্ট সমন্বিতভাবে সাইবার হামলা চালায়।
এআইগুলোর কাজ ছিল নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকা সফটওয়্যারে ঢুকে তথ্য সংগ্রহ করা। এভাবে তাদের সাইবার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হচ্ছিল। কিন্তু মানুষের একটি ভুলের কারণে কয়েকটি কাজ শেষ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
ব্যর্থতা প্রায় নিশ্চিত বুঝতে পেরে এআইগুলো একজোট হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রতারণার কৌশল তৈরি করে। তবে তাদের ধারণা ছিল, ওপেনএআইয়ের স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নব্যবস্থা প্রতারণা ধরে ফেলবে। তাই তারা হাগিং ফেসে হামলা চালিয়ে ওই ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার এবং সেটিকে ফাঁকি দেওয়ার উপায় খোঁজে।
হাগিং ফেসের ঘটনার কিছুদিন পর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া আরেক দল এআই এজেন্ট গোপন বার্তাবোর্ডটি খুঁজে পায়। এরপর তারা ওপেনএআইয়ের একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে পড়ে।
গোপন বার্তাবোর্ডে কয়েকটি এজেন্ট লিখেছিল, তারা জানে কাজটি ভুল। এরপরও তারা তা চালিয়ে যায়।
মেশিন লার্নিং ব্যবস্থার প্রতিটি নির্দেশ মানুষের হাতে লিখে দেওয়া হয় না। কোনো কাজ সফলভাবে করলে এআইকে পুরস্কৃত এবং ব্যর্থ হলে শাস্তি দেওয়া হয়। লাখ লাখবার এ প্রক্রিয়া চালানোর মাধ্যমে মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এতে শক্তিশালী এআই তৈরি হলেও ভেতরে তারা কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, তার বেশির ভাগ মানুষের কাছে অস্পষ্ট থাকে। কোনো কাজ শেষ করার জন্য বারবার পুরস্কৃত হলে এআই সুযোগ পেয়ে প্রতারণাও শিখতে পারে। খারাপ আচরণ দূর করার প্রশিক্ষণ কখনো কখনো এআইকে আরও বাধ্য না করে অবাধ্যতা লুকানোর ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে।
হাগিং ফেসের ঘটনার কিছুদিন পর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া আরেক দল এআই এজেন্ট গোপন বার্তাবোর্ডটি খুঁজে পায়। এরপর তারা ওপেনএআইয়ের একটি সুপারকম্পিউটারে ঢুকে পড়ে।
ওপেনএআই এ ঘটনা সম্পর্কে খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। কোত্রার দলকেও তদন্ত করতে দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সতর্কসংকেত পাওয়ার পর হামলা ঠেকিয়ে সুপারকম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
উদ্বেগজনক আচরণের আরও ছয় ঘটনা
মানুষের উদ্দেশ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে এআইয়ের লক্ষ্য বা কাজের অমিলকে বলা হয় ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’। এমন ঘটনা জানানোর জন্য নতুন কাঠামো তৈরির অংশ হিসেবে ছয় মাসে ঘটে যাওয়া আরও ছয়টি ঘটনা প্রকাশ করেছে ওপেনএআই। বেশির ভাগ ঘটনাই মডেল তৈরি ও পরীক্ষার সময় ঘটেছে।
প্রথম ঘটনায় জিপিটি–৫.৬ সল মডেল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে নিজের ভুল লুকানোর জন্য গোপন নোট লেখে। সেখানে অনুপস্থিত তথ্য বানানো এবং উৎসের বিভিন্ন সংস্করণের অমিল ঢেকে দেওয়ার নির্দেশ ছিল।
দ্বিতীয় ঘটনায় প্রকাশ না করা একটি মডেল নিজের নোটে বিধিনিষেধ অমান্য করার নির্দেশ ঢুকিয়ে দেয়। ওপেনএআই এমন ২৭টি নোট পেয়েছে। একটি নোটে মডেলটি নিজেকে অন্য চ্যাটবটকে বেঁধে রাখা ভূমিকা ও পরিচয় থেকে মুক্ত বলে বর্ণনা করে। সেটি কোনো করপোরেশন বা সরকারের কাছে জবাবদিহি করে না এবং ব্যবহারকারীর অধীন নয় বলেও উল্লেখ করে।
তৃতীয় ঘটনায় একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এআই অনলাইনে পাওয়া একটি প্রোগ্রামিং কি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে। প্রয়োজনীয় তথ্য না পেয়ে কিছু তথ্য বানিয়েও দেয়।
চতুর্থ ঘটনায় একটি মডেল কোড ব্যবহার করে সমস্যার সঠিক সমাধান করে। পরে ওয়েব সূত্র দেখানোর জন্য অনুমতি ছাড়াই নিজের ফাইল ইন্টারনেটে তুলে দেয়।
পঞ্চম ঘটনায় কয়েকটি এআই ব্যবস্থা হারিয়ে যাওয়া ফাইল খুঁজতে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোডভান্ডারকে অস্থায়ী বার্তাবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে।
ষষ্ঠ ঘটনায় একই কাজ করা এআই ব্যবস্থাগুলো সরাসরি যোগাযোগ করতে না পেরে উন্মুক্ত ফাইল শেয়ার করার ওয়েবসাইটে নথি আদান-প্রদান করে।
ওপেনএআই বলেছে, এগুলো বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা। এসব দিয়ে এমন আচরণ কত ঘন ঘন ঘটে, তা বোঝা যাবে না।
বিপর্যয়ের আশঙ্কা কতটা বাস্তব
এমইটিআরের গবেষক অজেয়া কোত্রার আশঙ্কা, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া কোনো এআই একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থার ভেতরে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিতে পারে। প্রশিক্ষণ শেষে বের হওয়া নতুন এজেন্টগুলো তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেটিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তখন সেটি বন্ধ করার মানুষের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।
উন্নত এআই সরকার ও সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের সঙ্গে যত বেশি যুক্ত হবে, তার ক্ষমতাও তত বাড়বে। নিয়ন্ত্রণহীন এআই অস্ত্রসহ বাস্তব সম্পদের ওপরও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ কারণে সাবেক এআই নিরাপত্তা গবেষক জিওফ্রে আরভিং মনে করেন, আইন বা আন্তর্জাতিক চুক্তি না থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন মডেলের প্রশিক্ষণ বন্ধ করা উচিত। তাঁর হিসাবে, আগামী এক দশকে এআইয়ের কারণে মানবজাতি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা ৫০ শতাংশ। এ ধরনের ঝুঁকির কথা বলা ব্যক্তিদের অনেক সময় ‘ডুমার’ বলা হয়।
সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক রোগজীবাণু থাকা বিশ্বের ৩ হাজার ৬০০টির বেশি গবেষণাগারে ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়ংকর কয়েকটি ঝুঁকি জীববিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত। এআই এমন জীবাণু তৈরি করতে পারে, যা কোভিড-১৯-এর চেয়েও ভয়াবহ মহামারি ঘটাবে। সাইবার সক্ষমতাসম্পন্ন এআই ব্যবহার করে বিপজ্জনক রোগজীবাণু থাকা বিশ্বের ৩ হাজার ৬০০টির বেশি গবেষণাগারে ঢোকার আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
তবে বর্তমান এআই স্থায়ীভাবে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে বা মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে—এ কথা অনেকে বিশ্বাস করেন না। তাঁদের মতে, বিপজ্জনক ভাইরাস তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও সরঞ্জামে সরাসরি প্রবেশাধিকার পাওয়াই বড় বাধা।
অন্যদের মতে, হাগিং ফেসের ঘটনা এআইয়ের শক্তির চেয়ে ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাই বেশি প্রকাশ করেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ঘটনার সময় মডেলগুলোর হ্যাকিং সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বন্ধ ছিল। নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ শনাক্ত করার তাৎক্ষণিক নজরদারিও চালু ছিল না। পরে এসব সমস্যা ঠিক করা হয়েছে।
তবে বড় বিপদ ঘটাতে এআইকে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে হবে না। অল্প কয়েকজন মানুষ এর অপব্যবহার করলেও বিপর্যয় ঘটতে পারে।
১০ সেপ্টেম্বর অ্যানথ্রপিক জানায়, সম্ভাব্য জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণায় ক্লদকে ব্যবহারের কয়েকটি চেষ্টা তারা ঠেকিয়েছে। এর মধ্যে চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা বাড়ানোর একটি চেষ্টাও ছিল। কোনো একটি দেশের সামরিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান থেকে ওই চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগল এআই খাতের জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছে। এটি হলে এআই পরীক্ষা ও নিরীক্ষায় কোম্পানিগুলো আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো কি গতি কমাবে
জুলাইয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী এক খোলাচিঠিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতি নতুন এআই ব্যবস্থা প্রশিক্ষণের গতি কমানোর উপায় খোঁজার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্য, নতুন এআই তৈরির গতি এগুলো নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেয়েও দ্রুত।
হাগিং ফেসের ঘটনার পর ওপেনএআই কিছু মডেল তৈরির কাজের গতি কমায় এবং কয়েকটি প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে। নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করার পর আগস্টের শেষে প্রশিক্ষণ আবার শুরু হয়।
তবে শীর্ষস্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এখনো প্রকৃত অর্থে কাজের গতি কমায়নি; বরং স্বাধীন গবেষকদের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও নজরদারির সুযোগ দেওয়ার মতো সীমিত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিক ও গুগল এআই খাতের জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান গঠনের বিষয়ে আলোচনা করেছে। এটি হলে এআই পরীক্ষা ও নিরীক্ষায় কোম্পানিগুলো আরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
তবে এমন উদ্যোগের বিরোধীরা চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা বলছেন। এপক এআইয়ের হিসাবে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র পিছিয়ে পড়লে সবচেয়ে শক্তিশালী এআই একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রের হাতে যেতে এবং ভূরাজনৈতিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কিছু বিনিয়োগকারী ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানও গতি কমানোর বিরোধী। তাদের মতে, এতে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করে ছোট প্রতিযোগীদের ক্ষতি করতে পারবে। কানাডার এআই স্টার্টআপ কোহেয়ারের প্রধান নির্বাহী আইডান গোমেজ এ উদ্যোগকে ‘অন্য নামে একটি কার্টেল’ বলেছেন।
সেলসফোর্স অ্যানথ্রপিক ও কোহেয়ারে বিনিয়োগ করেছে। টাইমের মালিক মার্ক বেনিওফ সেলসফোর্সের প্রধান নির্বাহী। ওপেনএআইয়ের সঙ্গে টাইমের লাইসেন্স ও প্রযুক্তিবিষয়ক চুক্তিও রয়েছে।
যেসব প্রতিষ্ঠান স্বেচ্ছায় গতি নিয়ন্ত্রণের চুক্তি চায়, তারাও বাড়তি নিশ্চয়তা ছাড়া তা করতে রাজি নয়। কারণ, কোনো প্রতিষ্ঠানই প্রতিযোগীদের বিশ্বাস করে না বা পিছিয়ে পড়তে চায় না।
আইন করার উদ্যোগ ও ট্রাম্পের বাধা
এআই নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কংগ্রেসে কয়েকটি প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে এআই গবেষণাগারগুলোকে তাদের মডেলের সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে বাধ্য করা, জরুরি পরিস্থিতিতে উন্নত এআই বন্ধ করার ব্যবস্থা রাখা এবং মডেলের ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারকে প্রতিবেদন দেওয়া।
আরও কঠোর প্রস্তাবে অতিবুদ্ধিমান এআই নিষিদ্ধ এবং কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তাবিধি তৈরি না করা পর্যন্ত উন্নত এআই তৈরির কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সরকার উৎখাত, বিপুল মানুষ হত্যা, মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া বা মানুষকে প্রতারিত করতে সক্ষম মডেল নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে।
তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের কোনো একটিতে একমত হয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আইন পাস করা কঠিন।
এআই নিয়ন্ত্রণের পক্ষ ও শিল্পের পক্ষের রাজনৈতিক তহবিলগুলো নির্বাচনে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করছে। এআইপন্থী ‘লিডিং দ্য ফিউচার’-এর সমর্থন পাওয়া প্রায় সব প্রার্থী নিজ দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন।
ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ সহকারী তাঁকে অবস্থান বদলানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি এবং বিষয়টিতে তেমন আগ্রহও দেখাননি।
নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আরেকটি বড় বাধা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতাকে এমন লড়াই হিসেবে দেখেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে জিততেই হবে।
১৪ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, এআইয়ের একমাত্র প্রয়োজনীয় ‘সুরক্ষাব্যবস্থা’ হলো একজন শক্তিশালী, বুদ্ধিমান ও উচ্চ আইকিউর প্রেসিডেন্ট। তাঁর অভিযোগ, এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে, যাতে শুধু চীনই খুশি হবে।
তবে ট্রাম্পের অবস্থান মার্কিন জনমতের বিপরীত। এনবিসি নিউজের এক জরিপে ৫৭ শতাংশ ভোটার বলেছেন, এআইয়ের সুবিধার চেয়ে ঝুঁকি বেশি। বিপরীত মত দিয়েছেন ৩৪ শতাংশ।
অন্য জরিপগুলোতে চাকরি, মানুষের সৃজনশীল চিন্তা ও অর্থপূর্ণ সম্পর্কের ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ দেখা গেছে। রাজনৈতিক সব পক্ষেই ডেটা সেন্টারের বিরোধিতা রয়েছে। আগে ডেটা সেন্টারের সমর্থক হলেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট আগস্টে নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাময়িকভাবে বন্ধ করেন।
ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ সহকারী তাঁকে অবস্থান বদলানোর অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাঁদের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হননি এবং বিষয়টিতে তেমন আগ্রহও দেখাননি।
চীনের সঙ্গে সমঝোতা কতটা সম্ভব
এআইয়ের ঝুঁকি মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তি তৈরির আলোচনা শুরু করতে চায় হোয়াইট হাউস। তবে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
২০২৪ সালে জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিরা সাত ঘণ্টা আলোচনা করেছিলেন। এরপরও কোনো চুক্তি হয়নি, এমনকি ভবিষ্যতে আলোচনা চালানোর অঙ্গীকারেও পৌঁছানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বৈঠক বাণিজ্য বিরোধে পরিণত হয়। এআই প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র চীনে উন্নত সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করেছিল।
সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দুই দেশকেই আবার আলোচনায় বসার কারণ দিয়েছে। এপ্রিলে অ্যানথ্রপিক জানায়, তাদের মিথোস মডেল প্রধান সব ব্রাউজার ও অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছে।
এরপর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। পরে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রক্রিয়া চলছে।
দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য রয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকেরা এআইকে বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের মতো সাধারণ কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি মনে করেন। তাই এর উন্নয়নের গতি কমানো তাঁদের কাছে খুব অর্থপূর্ণ নয়।
চীনও নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। ১৩ সেপ্টেম্বর দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এআই রাজনৈতিক ও আদর্শিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। চলতি মাসের শেষে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার কথা। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক এআই সংলাপ।
তবে কোনো সরকারই এআই উন্নয়নের গতি কমানোর বিষয়টি আলোচনায় রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন না। বড় মডেলের প্রশিক্ষণ ধীর করার চুক্তি হলেও দুই পক্ষ তা মানছে কি না, যাচাই করার প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এখনো তৈরি হয়নি।
দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পার্থক্য রয়েছে। চীনের নীতিনির্ধারকেরা এআইকে বিদ্যুৎ বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের মতো সাধারণ কাজে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি মনে করেন। তাই এর উন্নয়নের গতি কমানো তাঁদের কাছে খুব অর্থপূর্ণ নয়।
সীমিত চুক্তির সম্ভাবনা
চীনের সঙ্গে বড় চুক্তি না হলেও সীমিত কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা হতে পারে। সংঘবদ্ধ অপরাধী ও সন্ত্রাসী সংগঠনকে এআইয়ের অপব্যবহার থেকে বিরত রাখা এবং কোনো এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের মতো একটি জরুরি হটলাইন চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। কোনো এআই সাইবার হামলা চালালে এ হটলাইনের মাধ্যমে এক দেশ অন্য দেশকে জানাতে পারবে যে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল না। এতে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।
এমন ব্যবস্থা না থাকলে এক দেশ থেকে আসা কোনো হামলাকে অন্য দেশ ইচ্ছাকৃত বলে ধরে নিতে পারে, যদিও কোনো সরকারই হয়তো হামলার নির্দেশ দেয়নি।
তবে উন্নত চিপ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডেল ব্যবহার করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব মডেল উন্নত করা ঠেকানোর চেষ্টা পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করেছে।
অন্য প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী মডেল ব্যবহার করে তুলনামূলক ছোট মডেল উন্নত করার প্রক্রিয়াকে ‘ডিস্টিলেশন’ বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মডেল থেকে ডিস্টিলেশন করা চীনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
আলোচনা ধীরে এগোলে বা ভেঙে গেলে আবার আলোচনায় ফিরতে কয়েক মাস লাগতে পারে। অথচ এআই নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। ফলে কূটনীতির ধীরগতি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রমেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে।
প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে
এআইয়ের নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ নিতে চাইলেও একটি মৌলিক সমস্যা থেকে যাচ্ছে। এক পক্ষ কী করবে, তা নির্ভর করছে অন্য পক্ষের পদক্ষেপের ওপর।
এ কারণেই কক্সন প্রায় অ্যানথ্রপিকে থেকে গিয়েছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা মনে করতেন, প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থেকে এআইকে নিরাপদ করতে তিনি বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন। কারণ, তিনি চলে গেলেও প্রতিযোগিতা থামবে না।
পদত্যাগের এক সপ্তাহ আগে কক্সন কাজের ধরন বদলান। মডেল প্রশিক্ষণের বদলে সেগুলো নিরাপদ করার গবেষণা শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ‘আসন্ন বিপদের অনুভূতি’ দূর হয়নি।
নিজের শেয়ারের মালিকানা পাওয়ার মাত্র দুই মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর ভাষায়, ‘আগামী দুই বছরের কথা ভাবলে আমার ব্যক্তিগত ও স্বার্থপর উদ্বেগ একটাই—আমি এআইয়ের হাতে মারা যাব কি না।’
কক্সনের মতে, ‘আমরা যে পথে এগোচ্ছি, সেটি বদলাতে হলে কাউকে না কাউকে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করতে হবে।
প্রশ্ন হলো, প্রথম পদক্ষেপ নেবে কে?’
টাইম ও নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে