সংস্কৃতি ও ভাষা কর্মসূচির মাধ্যমে চীনের ‘সফট-পাওয়ার’ বিস্তারের প্রভাব ঠেকাতে ব্রিটেনে ৩০টি কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সব কটিই বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন সুনাক।

ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) বিতাড়িত করারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এ জন্য ৬০ হাজার ডলারের বিদেশি তহবিলের তথ্য প্রকাশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা ও গবেষণা অংশীদারত্ব পুনর্বিবেচনার কথা বলেন সুনাক।

চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা মোকাবিলায় ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই-৫-কে কাজে লাগানো হবে। সাইবার জগতে চীনের হুমকি মোকাবিলায় ‘ন্যাটোর আদলে’ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের সাবেক এই অর্থমন্ত্রী কৌশলগত স্পর্শকাতর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্রিটিশ সম্পদের চীনের অধিগ্রহণ নিষিদ্ধের বিষয়টি খতিয়ে দেখারও কথা বলেছেন।
সুনাক দাবি করেন, ‘দেশে চীন আমাদের প্রযুক্তি চুরি করছে এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনুপ্রবেশ করছে। রাশিয়ার তেল কিনে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে ভ্লাদিমির পুতিনকে সমর্থন দিচ্ছে। পাশাপাশি তাইওয়ানসহ প্রতিবেশীদের হয়রানির চেষ্টা করছে।’ ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর অপরিশোধযোগ্য ঋণের বোঝা’ চাপিয়ে দেওয়ায় চীনের বৈশ্বিক ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ প্রকল্পেরও কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
সুনাক বলেন, চীন মানবাধিকারের রীতিনীতি লঙ্ঘন করে জিনজিয়াং, হংকংসহ নিজ দেশের জনগণকে নির্যাতন, আটক ও জোরপূর্বক তাদের ওপর মতাদর্শ চাপিয়ে দিচ্ছে। মুদ্রা অবনমনের মাধ্যমে তারা অব্যাহতভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে তাদের অনুকূলে রাখার কারচুপি করে আসছে। তিনি আরও বলেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে (এনাফ ইজ এনাফ)। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রিটেন ও পশ্চিমের রাজনীতিকেরা চীনের দুরভিসন্ধিমূলক কর্মকাণ্ড ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে লালগালিচা দিয়ে স্বাগত জানিয়ে এসেছে এবং নজর সরিয়ে রেখেছে।’
সাবেক এই অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম দিন থেকেই আমি এটা পাল্টে দেব।’

সুনাকের চড়া সুর নিঃসন্দেহে টোরির নেতৃস্থানীয় চীনবিরোধীদের খুশি করবে। তাঁরা বারবার জনসনকে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হতে চাপ দিয়ে আসছিল।
অবশ্য সুনাক কীভাবে ট্রাসের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান পোক্ত করার মরিয়া চেষ্টা করছেন, এটা তারও একটি লক্ষণ। তৃণমূল টোরি সদস্যদের ওপর পরিচালিত জরিপে এগিয়ে আছেন ট্রাস। তাঁদের দুই লাখ সদস্যের ভোটেই নির্বাচিত হবেন কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা। যিনি হবেন যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বরিস জনসনের এই উত্তরসূরির নাম ঘোষণা করা হবে।

ইউরোপ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন