গত বছরের মার্চে জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক অপরাহ্‌ উইনফ্রেকে দেওয়া বিশেষ এক সাক্ষাৎকারে কয়েক শ বছরের পুরোনো ব্রিটিশ রাজপরিবার সম্পর্কে অনেক অজানা ও অপ্রিয় কথা প্রকাশ করেন ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স হ্যারি ও মেগান। ওই সাক্ষাৎকারে মেগান বলেন, বাকিংহাম প্যালেসের একজন শিকারে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর ছেলে আর্চির গায়ের রং কত কালো হতে পারে, সে অনুমান থেকে শুরু করে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কতবার মধ্যাহ্নভোজে গেছেন, সবকিছুতে নাক গলাত প্যালেস।

এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজদায়িত্ব ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাকাপাকি বসবাস শুরু করেছিলেন এই দম্পতি। হ্যারি-মেগানের পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ে মানবাধিকারকর্মী ক্যানি কেনেডি এক সাক্ষাৎকারে আজ মঙ্গলবার বলেন, ব্রিটিশ রাজপরিবারের বর্ণবাদের গল্প পৃথিবীর সামনে প্রকাশ করায় হ্যারি-মেগানকে সম্মানজনক মানবাধিকার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

ক্যানি কেনেডি আরও বলেন, তাঁরা (হ্যারি ও মেগান) যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান ছেড়ে এসেছেন। তাঁরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, রাজপরিবার যুগের পর যুগ ধরে ভুল কাজ করে এসেছে। তাঁরা কাঠামোগত বর্ণবাদের ভেতরে বসবাস করতে পারেন না। এমনকি তাঁরা তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝির মধ্যে বসবাস করতে পারেন না। তাঁদের যা করার, তাঁরা সেটাই করেছেন। বিশ্ববাসী রাজপরিবারের ভেতরের অন্ধকারের কথা জানতে পেরেছে।

বিশ্বজুড়ে সমতা প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সম্মানজনক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর হ্যারি-মেগান ছাড়াও এ পুরস্কার পেয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় বিল রাসেল।