ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক: দুই বিষয়ে অগ্রগতি দেখছেন ইউরোপের নেতারা
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক সফল বলাই চলে। জেলেনস্কি নিজেই একে যুদ্ধ বন্ধের দিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোপের নেতারাও। তাঁদের মতে, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুটি লক্ষ্য অর্জনের দিকে অগ্রগতি হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে গতকাল সোমবার ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত শুক্রবার পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সোমবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিন হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসসহ ইউরোপের নেতারা।
ওই বৈঠকের পর রাশিয়া–ইউক্রেনের মধ্যে তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ দ্রুত বন্ধের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে যুদ্ধপরবর্তী ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে জেলেনস্কি ও তাঁর ইউরোপীয় মিত্রদের যে মাথাব্যথা ছিল, তা অনেকটাই লাঘব হয়েছে বলে মনে হয়েছে। বৈঠকে ট্রাম্প নিজেই সাংবাদিকদের বলেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তায় ইউরোপকে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্র।
বৈঠকের সফলতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ মঙ্গলবার পোস্ট করেছেন স্টারমার। তিনি লিখেছেন, ইউরোপের নেতা ও ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকে দুটি লক্ষ্যের দিকে অগ্রগতি হয়েছে। একটি হলো নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে বড় অগ্রগতি। শান্তিচুক্তি হলে এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তাগুলো কার্যকর করা হবে। অপরটি হলো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জেলেনস্কির সম্ভাব্য বৈঠক।
১০ দিনের মধ্যে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে উল্লেখ করেছেন জেলেনস্কি। আজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের অংশীদারেরা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়টি প্রকাশ করবেন এবং ধীরে ধীরে বিস্তারিত জানানো হবে। সবকিছু এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করা হবে।’
কী ধরনের নিশ্চয়তা নিয়ে সোমবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। রোববার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছিলেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ দেওয়া হবে না। তবে দেশটির নিরাপত্তায় ন্যাটো সনদের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ভাষা ব্যবহারে সায় দিয়েছেন পুতিন। অনুচ্ছেদ–৫–এ বলা হয়েছে, ন্যাটোর কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসবে।
ইউক্রেনকে এমন নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন রাশিয়ার অনুমতি লাগবে, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক নাইজেল গোউল্ড ডাভিয়েস সিএনএনকে বলেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিয়ে স্টিভ উইটকফের অবস্থান ‘আশ্চর্যজনকভাবে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ’।
পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠকে গুরুত্ব ট্রাম্পের
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় অগ্রগতি ধরে রাখতে এবার পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠকে জোর দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক চলাকালে পুতিনকে ফোন দিয়েছিলেন তিনি। পরে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় ট্রাম্প জানান, যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক আয়োজনে কাজ শুরু করেছেন তিনি।
পরে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ওই বৈঠকের (পুতিন–জেলেনস্কি) পর আমাদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হবে। সেখানে দুই প্রেসিডেন্টের (পুতিন ও জেলেনস্কি) সঙ্গে আমিও থাকব। আবারও বলছি, প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের জন্য এটি একটি খুব ভালো ও প্রাথমিক পদক্ষেপ।’
পুতিন যে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করতে রাজি হয়েছেন, এ তথ্য পৃথকভাবে নিশ্চিত করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুত্তেও। তবে সুর্নিদিষ্ট কোনো তারিখ বা স্থান উল্লেখ করেননি তাঁরা। অন্যদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, তিনি চান, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠক তৃতীয় কোনো নিরপেক্ষ দেশে অনুষ্ঠিত হোক, যেমন সুইজারল্যান্ড।
পুতিন–জেলেনস্কি বৈঠকের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি ক্রেমলিন। রুশ বার্তা সংস্থা তাসের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার ট্রাম্প ও পুতিন ফোনালাপে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আর আজ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ শুধু এটুকু বলেছেন, ‘আমরা কোনো ধরনের আলোচনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করছি না, হোক তা দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপক্ষীয়।’