ইউক্রেনে ইতিমধ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া জার্মানির তৈরি ১৪টি লেপার্ড-২ ট্যাংকের পাশাপাশি অতিরিক্ত ৬০টি ট্যাংক পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পোল্যান্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাতেউস মোরাউইকি কানাডিয়ান এক টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান।

আলাপচারিতার একপর্যায়ে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে ইউক্রেনকে ৬০টি অত্যাধুনিক ট্যাংক পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে পোল্যান্ড। এর মধ্যে ৩০টি পিটি-৯১ মডেলের। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে ২৫০টির বেশি ট্যাংক পাঠিয়েছে ওয়ারশ।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও কানাডার পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে ট্যাংক দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

পোল্যান্ড কিয়েভের বড় মিত্র বলে দাবি করে। ইউক্রেনে লেপার্ড-২ ট্যাংক পাঠানোর অনুমোদন পেতে জার্মানির ওপর বেশ চাপ দিয়ে আসছিল ওয়ারশ। শুধু নিজেরাই নয়, অন্য দেশগুলোকে যাতে পাঠানোর ক্ষেত্রে বাধা না দেয় সেই আরজি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বুধবার বার্লিন হ্যাঁ-সূচক জবাব দেয়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ জন্য পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে টুইট করে ধন্যবাদ জানান। তিনি লিখেছেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ধন্যবাদ আন্দ্রেজ দুদা (প্রেসিডেন্ট), মাতেউস মোরাউইকি (প্রধানমন্ত্রী), মারিউস ব্লাসজ্যাক (জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী), জ্যাসেক সিয়েরা (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এবং পোল্যান্ডের জনগণ। এই ৬০টি ট্যাংকের মধ্যে ১৩টি বিখ্যাত পিটি-৯১। ১৬০ বছর আগের মতো আমরা এখনো একসাথে আছি। কিন্তু এবার আর শত্রুদের রক্ষা নেই। আমরা একসঙ্গে জয়ী হব।’

লেপার্ড-২ ট্যাংক হলো বিশ্বের অন্যতম প্রথম সারির যুদ্ধট্যাংক। জার্মানির সেনাবাহিনী এবং অনেক ইউরোপীয় দেশের সামরিক বাহিনী এ ট্যাংক ব্যবহার করে। ইউরোপীয় নয়, এমন দেশগুলোর মধ্যে কানাডা ও ইন্দোনেশিয়া এ ট্যাংক ব্যবহার করে। আফগানিস্তান, কসোভো ও সিরিয়ার সংঘাতে ডিজেল ইঞ্জিনচালিত এ যুদ্ধট্যাংকের ব্যবহার দেখেছে বিশ্ববাসী। এসব অস্ত্র পেলে রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চলগুলোর পুনর্দখল নিতে পারবে, বলছে ইউক্রেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, ‘আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে যা নিয়ে কথা বলছি, তার প্রমাণ হলো বৃহস্পতিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার এই আগ্রাসন কেবল পর্যাপ্ত অস্ত্রের মাধ্যমেই থামানো সম্ভব এবং তা-ই হওয়া উচিত। সন্ত্রাসী এ রাষ্ট্রের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। অস্ত্রই আমাদের রণক্ষেত্র ও আকাশসীমাকে সুরক্ষিত করবে।’

জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাশিয়াকে দাঁড় করাতে অংশীদারদের অবশ্যই ‘আরও কঠোর’ভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘যারা সত্যিই আমাদের সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, যারা ইউক্রেনে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের গতি বাড়িয়েছে এবং যারা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়াতে ইচ্ছুক, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’