রাশিয়ায় ৮২২ ড্রোন হামলা ইউক্রেনের, এ বছরে ‘সবচেয়ে বড়’ বলছে মস্কো

রাশিয়ার মস্কোর কোলেদিনো এলাকায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের গুদাম থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ১৬ আগস্ট, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গতকাল রোববার রাতের এ হামলায় রাশিয়ায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। রুশ কর্মকর্তারা একে ‘এ বছরের সবচেয়ে বড়’ হামলা বলে উল্লেখ করেছেন।

আঞ্চলিক গভর্নর জানান, ৮২২টি ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যে ৬০০টি ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী মস্কো। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার রাজধানীর ওপর সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা। রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামও এ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনেও রাশিয়ার হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ৩৯ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। এর বিপরীতে কিয়েভও রাশিয়ার অনেক ভেতরে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে।

রাশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, গতকাল রাতের হামলায় সেখানে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলের কর্মকর্তারা জানান, যাত্রীবাহী একটি বাসে হামলার ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া মস্কোর গভর্নর আন্দ্রে ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ড্রোন হামলায় ৮৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।

ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত বইয়ের বাজারে আগুন নেভানোর কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী। ১৬ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

মস্কোর কেন্দ্র থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কোলেদিনো এলাকায় ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। বিভিন্ন ভিডিওতে গুদামটিতে আগুন জ্বলতে ও কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।

রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ হিসেবে পরিচিত ওয়াইল্ডবেরিজ গত জুলাই মাস থেকেই বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। কিয়েভ এর আগে জানিয়েছিল, রুশ নাগরিকেরা সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য যেসব পণ্য সরবরাহ ও পরিবহনকেন্দ্র ব্যবহার করেন, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তারা। মূলত রাশিয়ার সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যাহত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সর্বশেষ এই হামলার কারণে ওয়াইল্ডবেরিজের ১০টি বড় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহকেন্দ্রের মধ্যে ৭টিই অচল হয়ে পড়েছে।

কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত বইয়ের বাজারে আগুন নেভানোর কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ১৬ আগস্ট, ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

চলমান এ যুদ্ধে রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে একটি আবাসিক ভবনে রাশিয়ার বোমা হামলায় ৬৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এবং ৬৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরে রাশিয়ার হামলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসন অঞ্চলের কর্মকর্তারা প্রতিটি এলাকায় একজন করে মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন। এর মধ্যে সুমি অঞ্চলে ড্রোন হামলায় ৫১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত রাতে রাশিয়ার হামলার সময় চারবার সাইরেন বেজে ওঠে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

রাশিয়া বলেছে, গত শনিবার রাতে ইউক্রেনের ‘ফ্ল্যামিঙ্গো’ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরির একটি কারখানা এবং ড্রোনের যন্ত্রাংশ তৈরির অন্য একটি কারখানা লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।

রাশিয়ার হামলায় কিয়েভের পোচাইনা এলাকার একটি বইয়ের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাজারের মাটিতে পুড়ে যাওয়া বই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বাজারে ভ্যালেন্তিনার ৬৯ বছর বয়সী স্বামীর একটি বইয়ের দোকান ছিল। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘রাস্তায় পড়ে থাকা এসব বই আমার স্বামীর স্টলের। আমি এগুলো দেখেই চিনতে পেরেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি ভাবতেও পারবেন না যে এমন বিপদ আপনার নিজের জীবনেও ঘটতে পারে।’

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলের নভোরোসিস্কে ক্ষতিগ্রস্ত শস্য পরিবহনযন্ত্র। স্যাটেলাইটে তোলা ছবিটি ১২ আগস্টের
ছবি: রয়টার্স

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, চলতি সপ্তাহে ইউক্রেনের ১৩টি অঞ্চলে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে থাকা যেকোনো বেসামরিক অবকাঠামোতেই হামলা চালাচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পুরোদমে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার দখলে রয়েছে।

আরও পড়ুন