গত বুধবার রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়, সমুদ্রপথ ব্যবহার করে হামলা করা হবে না, কিয়েভের কাছ থেকে তারা পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা পেয়েছে। তাই তারা চুক্তিতে ফিরেছে।

এবার শস্য রপ্তানিতে সোমালিয়া, জিবুতি ও সুদানের মতো আফ্রিকার দেশগুলো অগ্রাধিকার পাবে বলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। রাশিয়ার উদ্বেগের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, বৈশ্বিক খাদ্যসংকট মোকাবিলায় শস্য রপ্তানি শুরু হলেও এত দিন তা ধনী ও উন্নত দেশগুলোতে যাচ্ছিল।

রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন হুমকি দিয়ে বলেছেন, কিয়েভ যদি আবার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তবে মস্কো শস্য রপ্তানি চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে। মস্কো শস্য চুক্তিতে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন চুক্তি ভঙ্গ করলে রাশিয়া চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে। তবে রাশিয়া বেরিয়ে গেলেও ইউক্রেন থেকে তুরস্কে খাদ্যশস্য রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটবে না। তিনি চুক্তিতে ফেরার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েব এরদোয়ানের নিরপেক্ষ অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি চুক্তিতে ফেরার আগে এরদোয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন।

আপাতত চুক্তিতে ফিরলেও রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুডেনকো বলেছেন, ১৮ নভেম্বরের পর চুক্তিতে রাশিয়া থাকবে কি না, তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। ১৯ নভেম্বর চুক্তিটি নবায়নের দিন রয়েছে। রুডেনকো বলেন, চুক্তিটির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি আলাদা। বিভিন্ন দিক বিবেচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তিনি চুক্তি নিয়ে রাশিয়ার অসন্তুষ্টির কথা জানান। রুডেনকো বলেন, ‘রাশিয়ার বিষয়গুলো খুব দুর্বলভাবে কার্যকর করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দেখব।’

১৫ দিনের জ্বালানি রয়েছে জাপোরিঝঝিয়ায়

ইউক্রেনের রাশিয়ানিয়ন্ত্রিত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যাকআপ ডিজেল জেনারেটরে পরিচালিত হয়েছে। রুশ বাহিনীর গোলাবর্ষণে ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিড থেকে এটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেনের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান এনারগোতাম। তাদের দাবি, ইউক্রেনের পাওয়ার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত সর্বশেষ শক্তিশালী বিদ্যুৎ লাইন বুধবারের গোলাবর্ষণে ধ্বংস হয়েছে। মস্কো এখন এই প্ল্যান্টকে রুশ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে। ইউরোপের বৃহত্তম ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১৫ দিনের মতো জ্বালানি অবশিষ্ট রয়েছে। যদিও সেখানকার ছয়টি চুল্লি বন্ধ রয়েছে, তবু চুল্লি শীতল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রয়োজন পড়ে।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব মস্কোর

কৃষ্ণসাগরে ক্রিমিয়ার নৌবহরের ওপর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর লোকজন যুক্ত ছিল—এমন অভিযোগ মস্কোর। গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ডেবোরাহ ব্রোনার্টকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি সেখানে উপস্থিত হওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাইরে অনেকেই ব্রিটিশবিরোধী স্লোগান দেন। অনেকেই যুক্তরাজ্যকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন।