গত ফেব্রুয়ারিতে রুশ হামলা শুরুর পর ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি বন্ধ ছিল। জুলাইয়ে জাতিসংঘ ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় ‘ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ’ চুক্তি করে দুই দেশ। চুক্তির পর ৮০ লাখ টন শস্য রপ্তানি করেছে ইউক্রেন। শনিবার সকালে ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলার পর চুক্তিটি স্থগিত করে মস্কো। এর ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্র কুলেবা টুইটে জানান, রোববার শস্যবাহী কোনো জাহাজ ইউক্রেনের বন্দর ছেড়ে যায়নি। কোনো জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করেনি। তাঁর অভিযোগ, মস্কো আবারও মানুষের ক্ষুধা নিয়ে খেলছে। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আফ্রিকা ও এশিয়াকে নতুন করে বড় আকারের দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ফেলতে মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা করছে।

চুক্তি স্থগিত করায় রাশিয়ার সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রোববার বলেন, রাশিয়ার এমন উদ্যোগ আপত্তিকর। এর ফলে বিশ্বে খাদ্যসংকট বাড়বে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন অভিযোগ করে বলেছেন, রাশিয়া খাদ্যশস্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।

চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত বদলাতে রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল টুইট করে ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল বলেছে, রাশিয়ার এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বকে নতুন করে খাদ্যসংকটের মুখে ফেলবে। তাই মস্কোর প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার করার আহ্বান জানাচ্ছে ইইউ।

একই আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, শস্য রপ্তানি চুক্তি স্থগিতের মতো সংকটকালে মানবিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করে, এমন কোনো কার্যক্রম থেকে সব পক্ষের বিরত থাকা উচিত। তবে চুক্তিটি স্থগিতের ঘোষণার পর এ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আর কিছু জানানো হয়নি।

লড়াই জোরদার

ইউক্রেনের বাহিনীর হামলার জবাবে খারকিভ, খেরসন ও লুহানস্ক অঞ্চলে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে রুশ বাহিনী। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রোববার দেশটির গণমাধ্যমে এ খবর জানানো হয়েছে। রুশ গণমাধ্যমের খবর, ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে আবারও গোলাগুলি শুরু করেছে ইউক্রেনের বাহিনী। তবে সেখানকার পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্য রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার গ্যাস সরবরাহের পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিমে গত মাসে হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার পেছনে যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর যে ইউনিট নর্ড স্ট্রিমে হামলার পেছনে জড়িত, তারাই ক্রিমিয়ায় রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলায় ইউক্রেনকে সহায়তা করেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেয়নি মস্কো। রাশিয়ার এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাজ্য।

লিজ ট্রাসের ‘ফোন হ্যাক’

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ব্যক্তিগত ফোন হ্যাক করা হয়েছিল। শনিবার ডেইলি মেইল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাস যখন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন, তখন এই ঘটনা ঘটে। বেহাত হওয়া বার্তার মধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে অস্ত্রের চালান–সম্পর্কিত আলোচনাও ছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষে কাজ করা এজেন্টরা এ কাজ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কিছু বলা হয়নি।