রাশিয়া বলেছে, ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপোল বন্দরে ড্রোন ব্যবহার করে তাদের নৌবহরে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন বাহিনী। রাশিয়ার দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের অন্যতম বড় শহর সেভাস্তোপোল। শনিবার ভোরে সেখানে এ হামলা চালানো হয়।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার নৌবহরে ইউক্রেন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। এতে শস্য করিডরের জন্য কাজ করা জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ইউক্রেনের বন্দর থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য করা চুক্তিতে নিজেদের অংশগ্রহণ স্থগিত করেছে রাশিয়া। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, অধিকাংশ ড্রোন হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে।

এদিকে রপ্তানি চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণার জন্য রাশিয়াকে দুষছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারমাক। তিনি বলেছেন, নিজের এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার কথা বলে রাশিয়া ‘ব্ল্যাকমেল’ করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।

এর আগে রাশিয়ার কৃষিমন্ত্রী দিমিত্রি পাত্রুশ্চেভ বলেছিলেন, আগামী চার মাসে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পাঁচ লাখ টন খাদ্যশস্য রপ্তানিতে সহায়তা করতে প্রস্তুত রাশিয়া। এ কাজে তুরস্ক সহায়তা করবে। এর মধ্যে ইউক্রেনের খাদ্যশস্যও থাকার কথা ছিল।

গত ২২ জুলাই জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় শস্য রপ্তানি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইউক্রেন-রাশিয়া। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে ওই চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। এরপর ইউক্রেন থেকে লাখ লাখ টন গম, সূর্যমুখী পণ্য, বার্লি, শর্ষে ও সয়াবিন রপ্তানি করা হয়েছিল।

চুক্তি অনুযায়ী প্রায় চার মাস পর কৃষ্ণসাগর ব্যবহার করে শস্য ও সার রপ্তানি আবার শুরু করে ইউক্রেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলার পর এ রুট বন্ধ ছিল

প্রাথমিকভাবে চার মাসের জন্য ওই চুক্তি করা হয়। সে হিসেবে আগামী নভেম্বরের শেষে এর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শনিবারের ড্রোন হামলার পর চুক্তির নবায়ন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হলো।

হামলার পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘ব্ল্যাক সি ইনিশিয়েটিভে’ চলাচল করা কার্গো জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না রাশিয়া। এ কারণে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শস্য রপ্তানি চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করা হলো।