বিবিসির তথ্যমতে, দ্বিতীয় এলিজাবেথের রানি হওয়াটা একবারে গল্পের মতো। দাদা পঞ্চম জর্জের মৃত্যুর পর তাঁর বড় চাচা অষ্টম এডওয়ার্ড ১৯৩৬ সালে ব্রিটিশ সিংহাসনে বসেন। কিন্তু কিছুদিন পর তিনি সিংহাসন ত্যাগ করেন। এর পেছনে ছিল প্রেমের সম্পর্ক। মার্কিন সমাজকর্মী ওয়ালিস সিম্পসনকে বিয়ে করতে চাইলে তাঁর সিংহাসনে থাকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কারণ, সিম্পসনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। সে কারণে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা একজন বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীকে রাজবধূ হিসেবে গ্রহণ করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ক্ষমতায় থেকে সিম্পসনকে বিয়ে করা অসম্ভব হয়ে উঠলে সিংহাসন আরোহণের মাত্র ৩২৬ দিন পর তা ত্যাগ করেন অষ্টম এডওয়ার্ড। আর এর মাধ্যমে রানি এলিজাবেথের বাবা ষষ্ঠ জর্জের ক্ষমতা গ্রহণের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। ১৯৩৭ সালে অষ্টম এডওয়ার্ড প্যারিসে গিয়ে সিম্পসনকে বিয়ে করেন এবং বাকি জীবন সেখানে কাটিয়ে দেন।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সিম্পসনকে বিয়ে করার বিষয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পাশাপাশি বিরোধী ছিল চার্চ অব ইংল্যান্ডও। তারা জানিয়ে দেয়, অষ্টম এডওয়ার্ডের স্ত্রী হওয়ার জন্য সিম্পসন যোগ্য নন। রাজাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজসিংহাসন না সিম্পসন—একটি বেছে নিতে হবে এডওয়ার্ডকে। এর জবাবে এডওয়ার্ড বলেছিলেন, ‘যাঁকে আমি ভালোবাসি, তাঁর সাহায্য ও সমর্থন ছাড়া রাজা হিসেবে কোনো দায়িত্ব আমি কাঁধে নিতে পারি না।’

অষ্টম এডওয়ার্ডের পদত্যাগের বিষয়টি আধুনিক রাজকীয় ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংবিধানিক সংকট বলে মনে করা হয়। তবে এ সংকটে ভাগ্য খুলে যায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের বাবা ষষ্ঠ জর্জের। রাজা এডওয়ার্ডের এ পদত্যাগের ঘটনা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জীবনেরও মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

বিবিসির সাবেক সংবাদ প্রযোজক টনি ম্যাকমোহন বলেন, বাবা ষষ্ঠ জর্জ রাজসিংহাসনের অধিপতি হওয়ার পর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনের উত্তরাধিকারের শীর্ষে উঠে আসেন। যদি অষ্টম এডওয়ার্ড পদত্যাগ না করতেন, তাহলে ব্রিটিশরাজ পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত।

১৯৪৭ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ গ্রিক ও ডেনমার্কের প্রিন্স ফিলিপকে (ডিউক অব এডিনবরা) বিয়ে করেন। ফিলিপ গত বছরের ৯ এপ্রিল ৯৯ বছর বয়সে মারা যান। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জ মারা গেলে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে বসেন এবং কমনওয়েলথের প্রধান হন। এলিজাবেথ-ফিলিপ দম্পতির চার সন্তান। তাঁরা হলেন ওয়েলসের যুবরাজ চার্লস (তিনি ব্রিটেনের নতুন রাজা); প্রিন্সেস অ্যান; ইয়র্কের ডিউক যুবরাজ অ্যান্ড্রু এবং আর্ল অব ওয়েসেক্স যুবরাজ এডওয়ার্ড।