গত সোমবার ইতালির লা রিপাবলিকা পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের সেনারা খেরসন অঞ্চল মুক্ত করার পর পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর পক্ষ থেকে মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় বসার সম্ভাব্যতা দেখতে বলা হয়। এতে কিয়েভ অনেকটা শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আলোচনা করতে পারবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের পরামর্শক মাইখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, রুশ সেনারা যদি ইউক্রেন ছেড়ে যান, তবেই কেবল মস্কোর সঙ্গে আলোচনায় বসবে কিয়েভ। ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়াও ছাড়তে হবে রুশ সেনাদের।

পোদোলিয়াক দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সমান রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দেয়। তাদের পক্ষ থেকে তাই কোনো জবরদস্তি নেই। এখন যুদ্ধের ময়দানে ইউক্রেন জিতছে। এ মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসা নির্বুদ্ধিতা। কেউ এখন অলাভজনক আলোচনাপ্রক্রিয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে না বা কেউ রাশিয়ার চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করছে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এ পরামর্শক আরও বলেন, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনকে কেবল হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ হুমকির ভিত্তিতে যেকোনো শান্তিচুক্তি অস্থায়ী হবে বলে মনে করে ইউক্রেন। রাশিয়া এ শান্তিচুক্তি তাদের সেনা জড়ো করার ও সেনাবাহিনীকে আধুনিক করার কাজে লাগাবে এবং একই হুমকি দিতে থাকবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া তথ্যের সত্যতা প্রসঙ্গে পোদোলিয়াক বলেন, এসব তথ্য রুশপন্থী রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে যেতে পারে। তবে তিনি এ ধরনের তথ্যের বিষয়টি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেননি।

মস্কো-ওয়াশিংটনের আলোচনার পথ খোলা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক পরামর্শক জ্যাক সুলিভান ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে আলোচনার পথ উন্মুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ইউক্রেনে পারমাণবিক যুদ্ধ ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা কমাতে সুলিভান রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছেন, এমন প্রতিবেদন সামনে আসে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতিবেদন অস্বীকার করা হয়নি। নিউইয়র্কে সুলিভান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ক্রেমলিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুলিভান রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিকোলাই পাত্রুশেভ ও ক্রেমলিনের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক সহকারী ইউরি ইউশাকভের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে গোপন আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র আদ্রিয়েন ওয়াটসন এ প্রতিবেদনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো অসংখ্য ভুয়া খবর প্রকাশ করছে। তবে সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব কারিন জ্যঁ-পিয়েরে বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।