ফ্রান্সের পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল বেলজিয়াম, আটক ১০৭

শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার ও ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিচ্ছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। বেলজিয়ামের লিয়েজে, ৭ অক্টোবর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

প্রতিবেশী ফ্রান্সের রেশ ধরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছে বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীরাও। বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে কয়েক দিন ধরে চলা বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১০৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
শিক্ষার ব্যয় বেড়ে যাওয়া, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী চাপ এবং শিক্ষা উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রতিবাদে বেলজিয়ামের শহরটিতে শিক্ষার্থীদের টানা এ বিক্ষোভ চলছে।

প্রতিবেশী ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক আন্দোলন বেলজিয়ামের এ বিক্ষোভে প্রভাব ফেলেছে। বেলজিয়ামের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানিয়েছে, ফ্রান্সের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এখানেও বিক্ষোভ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বার্তা সংস্থা বেলগা জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে লিয়েজে ১০৭ জনকে আটক করা হয়েছে। সম্পদের ক্ষতি ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আটকের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।

শিক্ষার্থীরা মূলত বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। শিক্ষার ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়া ছাড়াও শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ এবং পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা বলছে বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। একটিতে লেখা রয়েছে, ‘সবকিছু এলোমেলো। আমরা একটি অধিকারের জন্য লড়ছি, কোনো বিশেষ সুবিধার জন্য নয়’।

আরেকটি প্ল্যাকার্ডে লেখা রয়েছে, ‘আমি শিক্ষা বেছে নিয়েছি, হাঙ্গার গেমস নয়’। এখানে তীব্র প্রতিযোগিতা ও টিকে থাকার লড়াইয়ের বদলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ব্রাসেলসে জুনের সংঘর্ষ

বেলজিয়ামে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অসন্তোষ নতুন নয়। গত জুনে শিক্ষা সংস্কারের প্রতিবাদে রাজধানী ব্রাসেলসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছিল।

শিক্ষার্থীরা তখন টিউশন ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিল। দেশটির ফরাসিভাষী সম্প্রদায়ের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর টিউশন ফি ৮৩৫ ইউরো থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১৯৪ ইউরো (১ হাজার ২৮০ ডলার) করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে লিয়েজের সড়কে ভাঙা কাঁচ ও আগুন দেখা গেছে। শত শত বিক্ষোভকারীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ।

স্থানীয় সময় বুধবার বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীদের কাছে অস্ত্র আছে কিনা, তা যাচাই করতে দেখা গেছে পুলিশকে।

প্ল্যাকার্ড হাতে সড়কে বিক্ষোভ করছে কয়েকজন শিক্ষার্থী। বেলজিয়ামের লিয়েজে, ৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

ফ্রান্সের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্রান্সের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে লিয়েজে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।
আলফ্রেড নামের ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা একে অপরকে সমর্থন করি। আমরা প্রায় একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি।’

১৯ বছর বয়সী অ্যামেলিয়া ডি সালভে শিক্ষক হওয়ার জন্য পড়াশোনা করছেন। তিনি বলেন, চলতি বছরের শুরুতেও বেলজিয়ামে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ হয়েছিল। এখন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে তাঁদের বিক্ষোভ আবার চাঙ্গা হয়েছে।

অ্যামেলিয়া বলেন, ‘আমরা যখন দেখলাম বিক্ষোভ ছাড়া কিছুই বদলাচ্ছে না, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম; আমরাও শুরু করব। ফ্রান্স আমাদের কিছুটা প্রভাবিত করেছে।’

আরও পড়ুন

আলোচনার আশা মেয়রের

লিয়েজের মেয়র উইলি ডেমেয়ার পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

বেলজিয়ামের সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফকে ডেমেয়ার বলেন, শান্তি ফিরে আসবে এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

মেয়র আরও আশা করেন, তরুণেরা শান্তিপূর্ণভাবে তাঁদের অভিযোগ ও অসন্তোষের কথা তুলে ধরতে পারবেন। তাঁদের উদ্বেগের কথা শোনা হবে।

আরও পড়ুন