ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কিয়েভে দুটি আবাসিক ভবনের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র ভিতালি ক্লিতসচকো। এ হামলায় কিয়েভে একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ভিতালি ক্লিতসচকো দাবি করেছেন, কিয়েভ শহরে মোতায়েন করা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে খমেলনিতস্কি ও ক্রিভি রিহ শহর এবং উত্তরাঞ্চলে চেরনিহিভ শহরেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ক্রিভি রিহের গভর্নর জানিয়েছেন, রাশিয়ার বিমানবাহিনীর টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান থেকে তাঁর শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।

এদিকে লিভ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছেন শহরটির মেয়র আন্দ্রি সাদোভি। বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে এক পোস্টে তিনি বলেছেন, হামলায় শহরের একাংশ বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ সময় সবাইকে নিরাপদে সরে যেতে বলেন তিনি।

হামলা হয়েছে খারকিভ ও ঝিতোমির শহরেও। খারকিভের মেয়র ইগর তেরেখভ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, হামলায় কতজন হতাহত হয়েছে, তা জানা যায়নি। হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বাধা পড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে খেরসন শহরের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর আজ প্রথম বড় আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া। হামলায় ৭০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা ইউরি সাক। তিনি বলেছেন, ‘হামলার পরও আমরা জয়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’

এদিকে ইন্দোনেশিয়ায় জি-২০ সম্মেলনে ভার্চুয়্যালি ভাষণ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর ভাষণের জবাব হিসেবে মস্কো এ হামলা চালিয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রি ইয়েরমাক।

জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার ‘ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ’ বন্ধে বিশ্বনেতাদের কাছে আহ্বান জানান জেলেনস্কি। এ সময় তিনি জি-২০ জোটের ২০টি দেশ থেকে রাশিয়াকে বাদ দিয়ে এ জোটকে জি-১৯ বলে উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার আজকের হামলার বিষয়ে টুইটারে আন্দ্রি ইয়েরমাক বলেন, ‘কেউ কি মনে করে রাশিয়া আসলেই শান্তি চায়? ক্রেমলিন আসলে চায় আনুগত্য। তবে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীরা সব সময় পরাজিত হয়।’