পুতিন স্বেচ্ছা আইসোলেশনে, স্পুতনিক কতটা কাজ করে দেখতে চান

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন স্বেচ্ছায় আইসোলেশনে আছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে কোনো এক ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় তিনি আইসোলেশনে যান। তবে তিনি মনে করেন, দেশটির তৈরি স্পুতনিক–ভি টিকা তাঁকে করোনার হাত থেকে রক্ষা করবে।

পুতিন জানান, গত জুনে তিনি করোনার টিকা নিয়েছেন। তবে ক্রেমলিন পুতিনের টিকা নেওয়ার কোনো ছবি প্রকাশ করেনি।

আগামী সপ্তাহে পুতিনের এক আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগদান উপলক্ষে তাজিকিস্তান যাওয়ার কথা। তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন ‘একদম সুস্থ’ আছেন। তবে তিনি সশরীর এই সম্মেলনে যাবেন না। তবে তিনি কত দিন এই আইসোলেশনে থাকবেন, তা জানাননি। এবং কে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, সেই নামও প্রকাশ করেননি।

পুতিন করোনা পরীক্ষা করিয়েছেন কি না, জানতে চাইলে দিমিত্রি বলেন, পরীক্ষা করিয়েছেন এবং ফল নিঃসন্দেহে নেগেটিভ এসেছে।

১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টারি ভোট হওয়ার কথা। তখনো তিনি আইসোলেশনে থাকবেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। আইসোলেশনে যাওয়ার পর অনলাইনে এক সরকারি বৈঠকে যোগ দেন পুতিন। তখন তিনি বলেন, তিনি আশা করেন স্পুতনিক–ভি তাঁকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে। ‘এটিও একটি অভিজ্ঞতা। স্পুতনিভ–ভি বাস্তবে কতটা কাজ করে, এখন তা দেখা যাবে।’

আরও পড়ুন

করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ ৬৮ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দিতে ব্যক্তিক্রমী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়। যেমন পুতিনের সঙ্গে দেখা করার আগে বিদেশি নেতা, সাংবাদিক ও কর্মকর্তাদের সেলফ আইসোলেশনে থাকতে হয়।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পুতিন তাঁর সরকারি সফর ও মুখোমুখি বৈঠক শুরু করেন। গতকাল সোমবার তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও টোকিও প্যারাঅলিম্পিক গেমস থেকে ফেরা অ্যাথলেটসদের সঙ্গে সৌজন্য দেখা করেন।

বিশ্বজুড়ে করোনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম রাশিয়া। এএফপির নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী রাশিয়া পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। সবার জন্য টিকা সহজলভ্য হওয়ার পরও দেশটি করোনার সংক্রমণে লাগাম টেনে ধরতে হিমশিম খাচ্ছে।

আরও পড়ুন

করোনার অঞ্চলভিত্তিক তথ্য নিয়ে কাজ করা গোগোভে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত হিসাবে দেখা গেছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষের এই দেশে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৪ কোটি মানুষ দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২৪৯ জনের। এই মৃত্যুর সংখ্যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।