বিজ্ঞাপন

কয়েক দিন আগেই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এআইআইএমএস) পরিচালক ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের সদস্য রনদীপ গুলেরিয়া প্রথম ডোজের টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্তদের সুস্থ হওয়ার চার সপ্তাহ পরে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

স্বাভাবিক অবস্থায় করোনার টিকার দুই ডোজের ব্যবধান নিয়েও অবস্থান বদলেছে ভারত সরকার। আগে দেশটিতে পুনের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকা কোভিশিল্ডের দুই ডোজের ব্যবধান ছিল ছয় থেকে আট সপ্তাহ। কয়েক দিন আগে দেশটি এ ব্যবধান বাড়িয়ে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ করেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডোজ নিলে টিকার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা পাওয়া যাবে।

সে সময় কেন্দ্রীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বাস্তবিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে, বিশেষত যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে কোভিড-১৯ বিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ কোভিশিল্ড টিকার দুই ডোজের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ করার সুপারিশ করেছে। তবে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিনের দুই ডোজের মধ্যকার সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন আনা হয়নি।

গত তিন মাসে দুই দফায় করোনার টিকার দুই ডোজের মধ্যবর্তী সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটি। রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যু এখন ভারতে নিত্যদিনের ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে ভারতজুড়ে করোনার টিকার চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেও করোনার টিকার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ সেভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়নি। কোভিশিল্ডের বাড়তি চাহিদার চাপ সামলাতে রীতিমতো হিমশিত খেতে হচ্ছে টিকা উৎপাদনকারী বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান সেরামকে।

সমালোচকেরা বলছেন, টিকা সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দুই ডোজের মধ্যকার সময়ের ব্যবধান দফায় দফায় বাড়াচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তবে আজ বুধবার স্থানীয় সময় রাত আটটা পর্যন্ত ভারতজুড়ে ১৮ কোটি ৫৮ লাখ ৯ হাজার ৩০২ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন