বিজ্ঞাপন

মিউকরমাইকোসিস একটি বিরল সংক্রমণ। মিউকর নামে একটি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে এই সংক্রমণ হয়। সাধারণত মাটি, গাছপালা, পচনশীল ফল ও শাকসবজিতে এই ছত্রাক দেখা যায়।

অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) জানিয়েছে, মিউকরমাইকোসিস মুখে আক্রমণ করতে পারে। নাক, চোখ ও মস্তিষ্কে এর সংক্রমণ ঘটতে পারে। এ সংক্রমণে সাইনাসের ব্যথা, এক নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথার এক পাশে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, দাঁতে ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। সংক্রমণে রোগী দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। এটা ফুসফুসেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষত ডায়াবেটিস রয়েছে এমন কোভিড পজিটিভ রোগীদের এ ছত্রাকে সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কেননা স্টেরয়েডের অপব্যবহার কোভিড–১৯ রোগীদের মধ্যে মিউকরমাইকোসিসের সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রনদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত ডায়াবেটিস রোগী, যাঁদের স্টেরয়েড দেওয়া হয়, তাঁদের ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এমনকি করোনা থেকে সেরে উঠলেও এ সংক্রমণ হতে পারে। এটা প্রতিরোধ করার জন্য স্টেরয়েডের অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

রনদীপ গুলেরিয়া আরও জানান, মিউকরমাইকোসিসের ‘স্পোর’ মাটি, বাতাস, এমনকি ফল ও সবজির মতো খাবারেও থাকে। তবে মানবদেহে এর আক্রমণের ক্ষমতা কম এবং সাধারণত সংক্রমণ ঘটায় না। কোভিডের আগে এ সংক্রমণের ঘটনা ছিল খুবই কম। এখন কোভিডের কারণে বড় সংখ্যায় সংক্রমণের খবর মিলছে।

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে জানান, তাঁদের রাজ্যে মিউকরমাইকোসিস সংক্রমিত ১ হাজার ৫০০ রোগী আছেন। ভারতের করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে আক্রান্ত রাজ্যগুলোর একটি মহারাষ্ট্র। গত বছর করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর এই রাজ্যে মিউকরমাইকোসিসে সংক্রমিত হয়ে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন।

গুজরাটেও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ ৯০০–এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ শহরের একটি বড় ফার্মেসির মালিক বিবিসিকে বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ইনজেকশন আগে সহজেই পাওয়া যেত। কিন্তু তিন সপ্তাহ আগে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পর থেকে এখন কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভারতের বিভিন্ন শহরে ওষুধটির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় টুইটারে এই ওষুধ চেয়ে পোস্টের ঢল নেমেছে।

চিকিৎসকেরা জানান, এম্ফোটেরিসিন বি বা ‘এম্ফো–বি’ নামক ছত্রাকনিরোধক ইনজেকশন মিউকরমাইকোসিসে আক্রান্ত রোগীকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতিদিন দিতে হয়।

ওষুধের দাম বেশি হওয়ায় মিউকরমাইকোসিস অনেক পরিবারকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলছে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর চিকিৎসা ব্যয় কয়েক লাখ রুপিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। আর ওষুধটি কালোবাজারিদের থেকে কিনতে হলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন