default-image

ভারতে এক দিনে রেকর্ড পরিমাণ নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৮৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা দেশটিতে ১ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা। একই দিনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৮৫ জনের, যা গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।

ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়। এদিকে আজ করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়, ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ১ কোটি ২৯ লাখ। আর মোট মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জনের। শনাক্ত ও মৃত্যুর দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই ভারতের অবস্থান।

ভারতে গতকাল বুধবার শনাক্ত হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৬ জনের। গতকাল পর্যন্ত ওটাই ছিল সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। আজ নতুন করে শনাক্তের রেকর্ড হলো। শনাক্ত হওয়া রোগীর মধ্যে ৪৭ শতাংশই পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রে। দেশটিতে গত ৭ দিনে গড়ে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন শহরে রাত ১০টার পর থেকে কারফিউ জারি করা হয়েছে।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় ভারতে দেশজুড়ে লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক চাপের সৃষ্টি হয়। তাই এবার কেন্দ্রীয় সরকার দ্বিতীয়বারের মতো দেশজুড়ে লকডাউনের বিপক্ষে। তবে কোনো রাজ্য সরকার চাইলে স্থানীয়ভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ডোজ নিলেন মোদি

এদিকে আজ করোনারোধী দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর তিনি টুইট বার্তায় বলেন, ‘করোনাভাইরাসকে প্রতিহত করার অনেকগুলো উপায়ের একটি হলো টিকা। আপনি যদি টিকা নেওয়ার যোগ্য হন, তাহলে দ্রুত আপনার ডোজ গ্রহণ করুন।’ গত ১ মার্চ তিনি প্রথম ডোজ নিয়েছিলেন।

গত জানুয়ারিতে ভারতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রায় ১৩৫ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিরা অন্তত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। ১ কোটি ১০ লাখ সাধারণ মানুষ টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে পেরেছেন।

বিভিন্ন রাজ্যে টিকার ঘাটতি

এদিকে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে করোনার টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এমনকি সেখানে কমবয়সী ব্যক্তিদের টিকা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি উঠেছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মহারাষ্ট্রে টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওডিশাতেও অর্ধেকের বেশি কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।

মহারাষ্ট্রের পানভেল শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘টিকার সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে টিকাদান স্থগিত করেছি।’ এ ছাড়া রাজ্যের সাতারা জেলাতেও টিকাদান কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে ঘাটতির এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করা হয়, রাজ্যগুলো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এ সুযোগে বিরোধী দলগুলো মোদি সরকারের সমালোচনায় নেমেছে। তাদের কথা হলো, মোদি সরকার নিজেদের দেশের মাত্র একটি ক্ষুদ্র অংশকে কেবল টিকা দিয়ে বিদেশে কোটি কোটি টিকা রপ্তানি করছে।

বিজ্ঞাপন
ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন