রাজ্যসভা সচিবালয়ের সেক্রেটারি জেনারেল পি সি মোদির এ নির্দেশিকা ১৪ জুলাইয়ের হলেও ১৫ জুলাই তা জানাজানি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ। কংগ্রেসের মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সদস্য জয়রাম রমেশ গতকাল সকালেই টুইটারে ওই নির্দেশিকার ছবি জুড়ে দিয়ে এর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব গুরুর (নরেন্দ্র মোদির নতুন বিশেষণ) সাম্প্রতিক তোপ—ডরনা (ধরনা) মানা হ্যায়’।

কংগ্রেসের লোকসভার সদস্য মনীশ তিওয়ারি টুইট করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নাইডুর কাছে জানতে চান, ‘কেন সংসদের সদস্যদের সঙ্গে এভাবে সংঘাত তৈরির ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হচ্ছে? প্রথমে অসংসদীয় শব্দতালিকা প্রকাশ, তারপর এই নির্দেশ জারি নিতান্তই দুঃখজনক।’

শাসক দল বিজেপির সঙ্গে বিরোধীদের সম্পর্ক দিনে দিনে যে অবস্থায় পৌঁছেছে তাতে স্পষ্ট, নির্দেশিকায় সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হলেও বিরোধীরা তা মানবেন না। বস্তুত, বিভিন্ন বিরোধী দল অধিবেশনের প্রথম দিনেই প্রতিবাদ জানাতে প্রতীকী বিক্ষোভ প্রদর্শনের কথা বিবেচনা করছে বলে জানা যাচ্ছে।

সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনে রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তি। অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তুষ্ট সদস্যরা ওই মূর্তির সামনে অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ করে থাকেন। স্লোগান দেওয়া হয়। জমায়েত হন। অনশনেও বসেন কেউ কেউ। ক্ষুব্ধ সংসদ সদস্যরা সেখানে অনেক সময় প্রতীকী অধিবেশনেরও (মক পার্লামেন্ট) আয়োজন করেছেন। সংসদ ভবন চত্বরে জমায়েতের পর বহুবার বিরোধীরা মিছিল করে রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়েছেন বিভিন্ন বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দিতে। নতুন নির্দেশে এসব না করার কথা বলার পাশাপাশি ধর্মীয় আচরণেও রাশ টানা হয়েছে। সংসদ ভবন চত্বরে ধর্মীয় আচার সেই অর্থে পালিত হয় না। যদিও নতুন সংসদ ভবন তৈরির আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘটা করে হিন্দুমতে ভূমি পূজা করেছিলেন। দিনকয়েক আগেই সেই সংসদ ভবনের চূড়ায় স্থাপন করার জন্য দেশের জাতীয় প্রতীক সিংহের মূর্তির উন্মোচনও করেছিলেন পূজা-প্রার্থনার মধ্য দিয়ে। জাতীয় প্রতীককে কেন্দ্র করেও অবশ্য মাথা চাড়া দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

বাদল অধিবেশনের আগে দুদিনে দুটি ঘটনা কেন্দ্র করে ভারতীয় গণতান্ত্রিক আবহ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অসংসদীয় শব্দাবলি তৈরি নিয়ে বিরোধীরা সরব হওয়ার পর মুখ খুলেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, কোনো শব্দই নিষিদ্ধ করা হয়নি। বুধবার যে শব্দতালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তা বিভিন্ন সদস্যের অভিব্যক্তির নিদর্শন। যেগুলো অধিবেশন চলাকালীন রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংসদ কক্ষে সদস্যদের মতামত জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

স্পিকারের ওই বক্তব্য সত্ত্বেও অবশ্য বিতর্কের মীমাংসা হয়নি। বিরোধীদের প্রশ্ন, এসব শব্দ সভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে অসংসদীয় বিবেচনায়। তাঁদের প্রশ্ন, যে ৬৫টি শব্দের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো অসংসদীয় না হলে কেন বাদ দেওয়া হলো? বিরোধীদের মতে, শব্দ নিষিদ্ধ না করেও অসংসদীয় বিবেচনায় তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া একই ব্যাপার। সরকারের এই মনোভাবকেই বিরোধীরা ‘স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী’ বলে মনে করছেন। সব মিলিয়ে আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনও হতে চলেছে উত্তপ্ত।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন