নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মমতার সুরেই কথা বলছে রাজ্যের সিপিএম নেতারা। সিপিএম সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, ‘বিজেপির এই বিভাজনের রাজনীতি বাংলায় চলবেনা। বাংলার মানুষ তা হতেও দেবেনা।’ 

এদিকে ভারতের প্রাচীন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, ‘ভোট এলেই বিজেপি সিএএ-এনআরসি সামনে এনে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা চেষ্টা করে। বিজেপির এই রাজনীতির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই জারি আছে।’ 

বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি বাস্তবায়নের পক্ষেই কথা বলছেন। তিনি বলেছেন ‘যাদের ভোটের জোরে যিনি এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলেন তাঁদের নাগরিকত্ব দেবেন না, এটা অনৈতিক ও অমানবিক। আমরা তা মানছিনা। এই রাজ্যে যথাসময়ে সিএএ কার্যকর করা হবে’ 

ইতিমধ্যে ভারতের গুজরাট রাজ্যের দুটি জেলায় সিএএ কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৫৫ সালের ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী তা কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ১৯৫৫ সালের আইন সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার সংধোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ করে। সেই আইন ভারতীয় সংসদে পাশ হলেও ২০১৯ সালের সংশোধিত আইনের বিধি তৈরি না হওয়ায় সেই আইন এখনও কার্যকর হয়নি। তাই কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার ঘোষণা দিয়েছে এবার সেই সিএএ আইন কার্যকর করার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আগামী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই আইন কার্যকর করা হবে গোটা দেশজুড়ে। 

১৯৫৫ সালের ভারতের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছিল, ভারতে এসে কমপক্ষে ১১ বছর বসবাস করার পর ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে বিতাড়িত হওয়া হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও জৈন সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই লক্ষ্য নিয়ে ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন তৈরি করা হলেও তাতে সায় দেয়নি তৃণমূল, কংগ্রেস, বামদলসহ বহু রাজনৈতিক দল।