খাড়গে গান্ধী পরিবারের অনুগত হিসেবে পরিচিত। এই নির্বাচনে তিনি এগিয়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে। অবশ্য গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সমালোচকদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তাঁরা বলছেন, খাড়গে বিজয়ী হলে শেষ পর্যন্ত গান্ধী পরিবারই নেপথ্যে থেকে দল নিয়ন্ত্রণ করবে।

অবশ্য কংগ্রেস দ্ব্যর্থহীনভাবে এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা জয়রাম রমেশ এনডিটিভিকে বলেন, ‘সমালোচকেরা এসব অভিযোগ করে থাকেন। দুজন যোগ্য প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

খাড়গে ও শশী দুজনই বলছেন, নির্বাচনের বিষয়ে গান্ধী পরিবার নিরপেক্ষ রয়েছে। তবে শশী বলেছেন, ‘দলের নেতারা এবং সরকারি সংস্থাগুলো (এস্টাবলিশমেন্ট) মরিয়া হয়ে অন্য প্রার্থীর পক্ষ নেওয়ায় আমাদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

তবে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মধুসূদন মিস্ত্রি নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচন ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ’ হয়েছে।

রাহুল গান্ধী ২০১৭ সালে সর্বসম্মতিক্রমে কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন। কিন্তু দল ২০১৪ ও ২০১৯ সালে পরপর দুবার সাধারণ নির্বাচনে হেরে গেলে দায় নিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। ছেলে সরে দাঁড়ানোয় এর পর থেকে অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সোনিয়া গান্ধী।

স্বাধীনতার পর থেকে গান্ধী পরিবারের সদস্যরাই অধিকাংশ সময় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন। তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি নির্বাচিত হন। একাধিক প্রার্থী থাকায় এ পর্যন্ত মাত্র ছয়বার ভোটাভুটি হয়েছে। নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরে ১৯৯৭ সালে শেষবার সভাপতি নির্বাচিত হন কংগ্রেস কোষাধ্যক্ষ সীতারাম কেশরী।