ভারতের অন্যতম সফল নারী রাজনীতিবিদ মমতার দল কেন ভেঙেচুরে যাচ্ছে

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত পরাজয়ের পরও টিকে যায়। কিন্তু যেটা অনেক সময় তারা সামলাতে পারে না, তা হলো হঠাৎ ক্ষমতা হারানোর ধাক্কা।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন এ ধরনের সংকটে পড়েছে। ১০ কোটির বেশি জনসংখ্যার এই রাজ্যে দলটি সম্প্রতি ক্ষমতা হারানোর পর গভীর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে আছে।

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতা হারানোর মাত্র এক মাসের মধ্যেই দলের ভেতরে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে। বেশির ভাগ বিধায়ক দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিভক্তি ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে। ২০ জন সংসদ সদস্য মমতাকে ছেড়ে লোকসভায় আলাদা বসার জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। ২৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন আলাদা হয়ে যাওয়ায় মমতার দল তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণও তাঁদের হাতে চলে যেতে পারে। দলের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্তৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো সাধারণ আঞ্চলিক নেতা নন। ২০১১ সালে তিনি ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসেন। এটি ছিল এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তন। কারণ, সেই কমিউনিস্ট সরকার ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শাসনক্ষমতায় থাকা বামপন্থী সরকারগুলোর একটি।

পরবর্তী সময়ে মমতা ১৫ বছর রাজ্য শাসন করেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে ভারতের অন্যতম সফল আঞ্চলিক দলে পরিণত করেন। একই সঙ্গে মমতা নিজেও দেশের অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

আর এ কারণেই গত এক মাসের ঘটনাগুলোকে এতটা বিস্ময়কর বলে মনে করা হচ্ছে।

গত মাসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জন–অসন্তোষ, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং নির্বাচন কমিশনের কথিত ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে বিতর্ক—এসবের প্রেক্ষাপটে দলটির ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। এবারও দলটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ভোট পেয়েছে, যা নির্বাচিত দল বিজেপির চেয়ে মাত্র প্রায় ৩০ লাখ কম। এ ছাড়া তারা মোট ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বিধানসভার ভেতর থেকে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিধায়ক দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেন। অভিষেককে দীর্ঘদিন ধরেই মমতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

এখনো রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন সদস্য রয়েছেন। অবশ্য বিধানসভার সদস্যদের ৬০ জন ইতিমধ্যে বিদ্রোহ করে বসেছেন। নিজেদের মতো তাঁরা বিধানসভার বিরোধী নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিয়েছেন। গত সোমবার লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ সংসদ সদস্য আলাদা হয়ে যান। তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটকে সমর্থন দেবেন বলে ঘোণষা দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার সকালেই রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের বাড়ি গিয়ে সংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকেও পদত্যাগ করেন।

তারপরও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে জনসমর্থনের দিক থেকে মমতার তৃণমূল এখনো উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি বলা যায়।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এমন ফলাফলের পর একটি দলের পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে পুনর্গঠনের কাজে মনোযোগী হওয়ার কথা। কিন্তু তৃণমূলের ক্ষেত্রে যেন উল্টোটা ঘটছে। দলটিকে বরং ভেতর থেকেই ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে বিধানসভা ও লোকসভার ভেতর থেকে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৃণমূলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ বিধায়ক ও লোকসভার সদস্য দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করেন। অভিষেককে দীর্ঘদিন ধরেই মমতার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

বিদ্রোহী বিধায়ক ও লোকসভার সদস্যরা দলের রাজ্য ও লোকসভা—দুই হাউসে নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছেন, নিজেদের পছন্দের ব্যক্তি নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। বিধানসভায় দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিধানসভা–সংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ তুলেছেন।

শুরুতে এটিকে কেবল রাজ্য পর্যায়ের বিদ্রোহ বলে মনে হয়েছিল। পরে তা দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২৮ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২০ জন ভারতীয় পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা চিঠিতে দলের সংসদীয় গোষ্ঠী থেকে বেরিয়ে আসার এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এসব মিলিয়ে দলের নেতৃত্ব ও ঐক্য এখন অনেকটা অস্তিত্বসংকটে পড়ে গেছে।

সংসদীয় বিদ্রোহ আসার পর আরও বড় ধরনের ভাঙন দৃশ্যমান হয়ে উঠল। পশ্চিমবঙ্গের ফলতা আসনে ২০২১ সালে তৃণমূল ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিল। এবারের নির্বাচনে ওই আসনে দলটি ব্যাপকভাবে ধরাশায়ী হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে দলটির দুর্বল হয়ে পড়ার আভাস আরও স্পষ্ট হয়েছে। কারণ, ওই সময় মমতার এক জনসভায় মাত্র কয়েক শ মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। অথচ একসময় মমতার সভাগুলোয় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটত।

তৃণমূলের ক্ষমতা ও প্রভাব দ্রুত কমে যাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই দলের কোনো না কোনো নেতাকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। দলীয় অনেক কার্যালয় ফাঁকা পড়ে আছে। সংগঠনের বিভিন্ন স্তর ভেঙে পড়ছে। যেসব নেতা একসময় নিজেদের এলাকায় খুব প্রভাবশালী ছিলেন, তাঁরাও এখন সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে পড়ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত নজিরবিহীন।

তৃণমূল কংগ্রেসের এত দ্রুত ভেঙে পড়ার লক্ষণ দলটির একটি গভীর দুর্বলতাকে সামনে এনে দিয়েছে। ২০১১ সালে যে কমিউনিস্ট সরকারকে তারা ক্ষমতা থেকে সরিয়েছিল, তাদের মতো শক্তিশালী আদর্শভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো তৃণমূল কখনো গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে ক্ষমতা হারানোর পর দলটি টিকে থাকার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের মতে, দলটিকে একসঙ্গে ধরে রাখার মূল শক্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ক্ষমতায় থাকার কারণে পাওয়া প্রভাব-প্রতিপত্তি।

দ্বৈপায়ন বলেন, পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মমতা দলীয় প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ওপর খুব বেশি নির্ভর করেননি; বরং তিনি বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের অনেক স্বাধীনতা দিয়েছিলেন, যেন তাঁরা নিজেদের এলাকায় দলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন।

স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়াতেন। এতে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব এবং কখনো কখনো সহিংসতাও দেখা দিত। কিন্তু ক্ষমতায় থাকার কারণে তাঁরা রাজনৈতিকভাবে আশ্রয়–প্রশ্রয় পেতেন।

কলকাতার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূল কংগ্রেসের ধরনা কর্মসূচিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২ জুন ২০২৬
ছবি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ

সমালোচকদের অভিযোগ, এসব নেতা ব্যক্তিগত সুবিধা নিতেন।

এখন দলকে ধরে রাখা সে দুই প্রধান ভিত্তিই দুর্বল হয়ে পড়েছে। একদিকে দলটির ক্ষমতা চলে গেছে, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অপরাজেয় নেত্রী’ হিসেবে যে ভাবমূর্তি ছিল, তাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস একদিকে রাজ্যে শাসনক্ষমতা হারিয়েছে, অপর দিকে কলকাতায় ব্যক্তিগত নির্বাচনী পরাজয় তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এতে অনেক স্থানীয় ক্ষমতাধর নেতা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলের আক্রোশের শিকার হওয়ার হুমকিতে আছেন। অনেকে তদন্ত ও জনরোষের মুখে পড়ছেন। এমন অবস্থায় তাঁদের দল বদলানো বা পক্ষ পরিবর্তনের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য এমনটাই মনে করেন।

দিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের ফেলো রাহুল ভার্মা মনে করেন, জাতীয় পর্যায়ে আধিপত্যকারী বিজেপির পশ্চিমবঙ্গে উত্থান হওয়ার ঘটনাটি আঞ্চলিক রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরনকে বদলে দিয়েছে।

রাহুল ভার্মার মতে, আগে দলত্যাগের বিষয়টি সাধারণত দু–একজন নেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ থাকত। কিন্তু এখন একটা বড় অংশের মধ্যে বিদ্রোহ দেখা যাচ্ছে। কারণ, তারা বিজেপিকে বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র বলে মনে করছে। তারা মনে করছে, বিজেপি তাদের রাজনৈতিক সুরক্ষা দিতে পারে।

রাহুল ভার্মা এ প্রবণতার সঙ্গে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের শক্তিশালী আঞ্চলিক দল শিবসেনার সাম্প্রতিক বিভাজনের তুলনা করেছেন। শিবসেনা দলে নেতৃত্বের উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব এবং একটি পরিবারের মধ্যে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার কারণে বড় ধরনের বিদ্রোহের জন্ম দিয়েছিল।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। এবারও দলটি প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ ভোট পেয়েছে, যা নির্বাচিত দল বিজেপির চেয়ে মাত্র প্রায় ৩০ লাখ কম। এ ছাড়া তারা মোট ভোটের প্রায় ৪০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

রাহুল ভার্মা মনে করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সংকট ভারতের রাজনীতির একটি বড় পরিবর্তনের অংশ। তাঁর মতে, আঞ্চলিক দলগুলো এখন আগের চেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।

আপাতত ৭১ বছর বয়সী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কঠোর অবস্থান নিয়েই আছেন। তিনি বিজেপির বিজয়কে ‘অবৈধ’ ও ‘অনৈতিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায় ১০০টি আসনে ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিদ্রোহকে ‘নির্লজ্জ সুযোগসন্ধান’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরে কিছু মানুষ ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করেছে। আর এখন আমরা ক্ষমতা হারানো মাত্রই তারা অন্য দলের সঙ্গে সমঝোতায় চলে গেছে।’

তবু মমতার বিশ্বাস, দল আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দলকে নতুন করে গড়ে তুলব। তৃণমূল কংগ্রেস শুধু নেতাদের জন্য নয়, এটি কর্মীদের জন্য।’

এখন প্রশ্ন উঠছে—এই ক্রমবর্ধমান সংকট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস কি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

এটা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

বিদ্রোহ হয়তো ধীরে ধীরে কমে যাবে। ছোট পর্যায়ের বিধায়কের (যিনি আগে কমিউনিস্ট দল থেকে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন) নেতৃত্বে বিদ্রোহ করা কর্মীদের কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত আবার মমতার দলে ফিরে যেতে পারেন। তবে বর্তমানে যে বিধায়কেরা দল ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তাঁরা তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকলে এ সংকট আরও বড় এবং দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠতে পারে।

তবু অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরোপুরি বাদ দিয়ে হিসাব–নিকাশ করাটা এখনই ঠিক হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য বলেন, ‘তিনি (মমতা) এখনো ফিরে আসতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গে এমন একজন মুখ এখনো আছেন, যাঁকে মানুষ সহজে উপেক্ষা করতে পারে না এবং সেই কণ্ঠ তাঁরই।’

তবু মমতাকে এখনই রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে ধরে নেওয়াটা ঠিক হবে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য মনে করেন, মমতার এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে।

এমন ধারণার কারণ হিসেবে এই বিশ্লেষক বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যদি এমন একটি মুখ থাকে, যা এখনো মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং যদি এমন একটি কণ্ঠস্বরও থাকে, যাকে সহজে উপেক্ষা করা যায় না, তবে সেটি তাঁরই।

তবে দ্বৈপায়নের মতে, দলকে পুনরুজ্জীবিত করতে শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা ক্যারিশমা যথেষ্ট নয়। এ জন্য দলকে নতুনভাবে সাজাতে হবে এবং নেতৃত্ব নিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ কাজ মমতা এখন পর্যন্ত খুব ভালোভাবে করতে পারেননি।

রাজনৈতিক জীবনে মমতা বহুবার প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। কিন্তু এবারের চ্যালেঞ্জ আগের সব অভিজ্ঞতার চেয়ে আলাদা।

একটি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো এক জিনিস আর নিজের দলের ভেতর থেকে নেতা-কর্মীরা সরে যাওয়ার পর সেই দলকে আবার নতুন করে গড়ে তোলা—এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় এবং অনেক কঠিন কাজ।

আরও পড়ুন