এই ঘটনার জেরে শুরু হয় বিতর্কের। সেই বিতর্ক বাদানুবাদ থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। স্কুল সূত্রে জানা যায়, জ্যেষ্ঠ ছাত্ররা নামাবলি পরে আসার পক্ষে ছিল। এই ঘটনার জেরে স্কুলের আসবাব ভাঙচুর করা হয় এবং পুলিশ ডাকতে হয়। ছাত্ররা স্কুলের সম্পত্তি ভাঙচুর করে, যার মধ্যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও ছিল।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় দ্বাদশ শ্রেণির এক ছাত্রী মাহফুজা শেখ আহত হয়। তাকে সাঁকরাইল ব্লকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। মঙ্গল ও বুধবার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক ও মারপিট হওয়ার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থানীয় সাঁকরাইল থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের পরিচালন সমিতি একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইউনিফর্ম পরেই ছাত্র-ছাত্রীদের আসতে হবে। যদিও বিষয়টি এখনো পরিষ্কার নয় যে হিজাব পরার অনুমতি ওই স্কুলে আর দেওয়া হবে কি না।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরিন্দম মান্না সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টি প্রশাসনের সব মহলকে জানানো হয়েছে। ওপর মহল থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। হিন্দুত্ববাদী একাধিক সংগঠন দাবি তুলেছে, নামাবলি পরে ছাত্রদের স্কুলে আসতে দিতে হবে। একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের তরফে হাওড়া জেলার এক কর্মী প্রশান্ত সরদার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা প্রয়োজনে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে এবং স্থানীয় থানায় বিক্ষোভ দেখাবেন।

প্রশান্ত সরদার বলেন, ‘এটা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না যে দিনের পর দিন মুসলমান ছাত্রীরা হিজাব পরে স্কুলে আসবে অথচ হিন্দু ছাত্ররা তাদের ধর্মীয় রীতি মেনে নামাবলি গায়ে দিয়ে স্কুলে যেতে পারবে না। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করার পরিকল্পনা করছি। আগামী দিনে বড় আকারে আন্দোলন করার কথা ভাবছি।’

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঠিক একইভাবে ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে। সেই ঘটনার জেরে শুধু কর্ণাটক নয়, গোটা দেশে বিতর্ক ও সংঘাত হয়। দীর্ঘ সময় বেশ কিছু স্কুল ও কলেজ কর্ণাটক রাজ্যে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

বিষয়টি শেষ পর্যন্ত ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। স্কুলে হিজাব পরা যাবে কি যাবে না, তা নিয়ে বিতর্কের অবসান সুপ্রিম কোর্টের সাধারণ বেঞ্চেও হয়নি। বিষয়টি উচ্চতর বেঞ্চে পাঠানোর জন্য আবেদন করেন বিচারপতিরা। বিজেপিশাসিত কর্ণাটক রাজ্যের পরে পশ্চিমবঙ্গে এই ঘটনা ঘটল, যেখানে বিজেপি ক্ষমতায় নেই। হিজাব–বিতর্ক এবারে পশ্চিমবঙ্গে আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।